সোনালী কাবিনের মানবিক কবি আল মাহমুদকেই মনে পড়ে, জামাতের মুখপাত্রকে নয়, যেমন মনে পড়ে 'মানুষ মানুযের জন্যে'র গায়ক ভুপেন হাজারিকাকে, বিজেপির সাংসদকে নয়। রাজনৈতিক দলানুগত্য, মানুষের মন, ব্যক্তিগত বাস্তবতা সবই তো বদলাতে পারে, বদলায়। সে বদলের জ্বলন্ত উদাহরন হিসেবে এ দুজন শিল্প কর্মীর নাম উপমহাদেশের বিশেষত: বাংলাভাষাভাযী মানুষের মনে অনেকদিন জাগরূক থাকবে। ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদরা দশবার পাল্টিমেরে, জার্সিবদল করে, ফের পতাকাবাহী গাড়ী সওয়ার হয়ে মহাসমারোহে পুনর্নির্বাচিত হয়। কিন্তু শিল্পীদের আদর্শিক পাল্টিবাজিকে ক্ষমা করতে ভক্তদের অনেক কষ্ট হয়। কেন, কে জানে!
দিন শেষে শিল্পীকেও তো খাবার কেনার টাকা জোগাড় করতে হয়...
সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ, আপনার অনন্তধামের উদ্দেশে আপনার অনন্ত যাত্রা আনন্দময় হো'ক। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
সোনালী কাবিনের ছয় নম্বর সনেটে কবি লিখেছিলেন:
‘মাৎস্যন্যায়ে সায় নেই, আমি কৌম সমাজের লোক,
সরল সাম্যের ধ্বনি তুলি নারী তোমার নগরে,
কোনো সামন্তের নামে কোনদিন রচিনি শোলোক
শোষকের খাড়া ঝোলে এই নগ্ন মস্তকের ’পরে
পূর্বপুরুষেরা কবে ছিলো কোন সম্রাটের দাস,
বিবেক বিক্রয় করে বানাতেন বাক্যের খোঁয়াড়,
সেই অপবাদে আজও ফুঁসে ওঠে বঙ্গের বাতাস
মুখ ঢাকে আলাওল— রোসাঙ্গের অশ্বের সোয়ার
এর চেয়ে ভালো নয় হয়ে যাওয়া দরিদ্র বাউল?
আরশি নগরে খোঁজা বাস করে পড়শী যে জন,
আমার মাথায় আজ চূড়ো করে বেঁধে দাও চুল,
তুমি হও একতারা, আমি এক তরুণ লালন,
অবাঞ্ছিত ভক্তিরসে এ যাবৎ করেছি যে ভুল,
সব শুদ্ধ করে নিয়ে তুলি নব্য কথার কূজন।’
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, কবি কে সেই সামন্তের নামে, সামরিক স্বৈরাচারের স্বপক্ষে শ্লোক রচনার, বিবেক বিক্রয় করে বাক্যের খোঁয়াড় বানাবার অভিযোগ নিয়েই দুনিয়া থেকে চলে যেতে হলো হায়, দিন শেষে শিল্পীকেও যে খাবার কেনার টাকা জোগাড় করতে হয়!...

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



