
# বিষয়-বুদ্ধি
---------------
বখিলের পিতার শেষ কথা ছিলো: "আমি যখন থাকবো না পড়শি কাকার কাছে বৈষয়িক পরামর্শ নিতে যাস"। সেই মতো বখিল মজুমদার আজ এসেছে পাশের বাড়ির কন্জুস সরকার কাকার বাড়ীতে, বৈষয়িক বিষয়ে কিছু বুদ্ধি নেবার জন্য। বসার ঘরে ঢুকতেই কন্জুস কাকা বললেন, "জানালা দিয়ে খানিকটা চাঁদের আলো আসছে ঘরে, খামোখা বিজলী বাতির অপচয় করে আর বিল বাড়িয়ে কি হবে। "আমরা তো বাতি নিবিয়েই দিব্যি আলাপ করতে পারি, কি বলিস, বখিল?"।
বখিল সম্মতি জানালে বাতি নিবিয়ে আলাপ শুরু হলো। "বাবা বলে গিয়েছিলেন, বৈষয়িক বুদ্ধি নিতে আপনার কাছে আসতে, তাই এলাম.."।
ঘন্টাখানেক আলাপের পরে কাকা জানতে চাইলেন, "হ্যাঁরে বখিল, খেয়ে এসেছিস, না কি গিয়ে খাবি? আমার কাছে গুড়-মুড়ি আছে, দেবো?"
বখিল বললো, আজ উঠি তবে।
কাকা বিজলী বাতির সুইচটা অন করবার উদ্যোগ নিতেই বখিল মজুমদার বলে উঠলেন, কাকা এক মিনিট সময় দিন, বাতিটা এখুনি জ্বালবেন না।
"কেন রে বাবা বখিল?", কাকার সবিস্ময় প্রশ্ন।
"কাকা, বাবুর হাটের পাট ভাংগা লুংগী, গেলো মাসেই কিনেছি। ভাবলাম, অমন আবছায়ায় খামোখা লুংগী পরে সেটার আয়ু কমানো একটা অপচয়ের ব্যাপার, তাই খুলে রেখেছিলাম। এক মিনিট সময় দিন, লুংগীটা পরে নেই, তার পরে বাতি জ্বালান প্লীজ।", বখিলের উত্তর।
" বাবা বখিল, এখন থেকে তোর আর আমার কাছে বৈষয়িক বুদ্ধি নিতে আসার দরকার নেই, এখন থেকে আমিই যাবো বাবা তোর কাছে, আমি বয়সে বড়ো হলেও, বৈষয়িক বুদ্ধিতে বাবা তুই আমাকে ছাড়িয়ে গেছিস, আজ পরিষ্কার বুঝতে পেলাম',, কন্জুস কাকার অকপট স্বীকারোক্তি, বখিলের গমনোদ্যত পথের পানে চেয়ে।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


