somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবর্ণ জীবন

২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার বছর পর যখন কণা কনসিভ করল এবং টুইন বেবি জানা গেল তখন কণা ইচ্ছে করে চাকরি ছেড়ে দেয়। আবিরের মন কখনো চাইতো না কণা চাকরি করুক। কিন্তু কণা একটু প্রতিবাদী হওয়ায় এক প্রকার সংগ্রাম করেই চাকরি করতো।
কনার সারাদিন কাটে অনাগত সন্তানদের কথা চিন্তা করে। দেখতে কেমন হবে ,তার কি নাম রাখবে ছেলেদের এবং দুটোকে কিভাবে মানুষ করবে এইসব নানা চিন্তা ভাবনা মাথায় এসে ভর করে ।ভার্সিটির দিনশেষে কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নিয়ে কোন যখন একাকীত্ব পড়ে, আবির এর কাছ থেকে সময় পাওয়া যেনো দুর্ভাগ্য পরিণত হলো‌ ।আবির সকালে অফিসে যায় আর রাতে ফিরে। এভাবে দেখতে দেখতে বাচ্চাগুলো ঘর আলো করে এলো।বাচ্চাদের পেয়ে আবির গর্ববোধ করে। আর কণা বাচ্চা দুটো সামলে নিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

কিন্তু দিনকে দিন আবিরের একটু একটু করে পরিবর্তন কনা টের পাচ্ছে। দাম্পত্য সম্পর্কতো নেই, তারপর কথায় কথায় আবির মেজাজ দেখায় এবং কনাকে যথেষ্ট অবহেলা , অপমান করে থাকে।
কনা একদিন আবিরের মোবাইলে দেখে একটি নাম্বারে শুধু বেশি কথা বলে এবং সেটা সুজন দিয়ে সেভ করা। আসলে তিনি সুজন না সুজানা ভৌমিক। সদ্য জয়েন করা এবং চাকরিও পার্মানেন্ট না , ৫ মাস হলো কাজে যোগ দিয়েছে। অর্থাৎ আবিরের সাথে সম্পর্ক ৫/৬ মাস যাবত এবং কনা সমস্ত তথ্য কালেকশন করলো ।
কনা এখন কি করবে ? নিজের ও বাচ্চাদের অধিকার এত সহজে ছেড়ে দিবে ? আত্মসম্মান টিকাবে , না আবিরকে ফেরাবে ? শেষ পর্যন্ত লড়াই করে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় কনা নিজের ও বাচ্চাদের কথা ভেবে।আবির যদি ফিরে তবে ভালো আর না ফিরলে হয়তো সব শেষ হয়ে যাবে।কিন্তু কণা এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার মত মেয়ে না প্রচন্ড জেদী ও বুদ্ধিমতী।সুজানার পরিবারে খুবই নমনীয় ভাবে জানানো হয় এই বিষয়টি।আবির বিবাহিত ও মুসলিম এবং দুটো বাচ্চা আছে। সুজানার পরিবারের পুরো আশ্বাসেই যেন কনা আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি ফিরে পায়।এদিকে সুজানা পরিবারের চাপের মুখে চাকরি ছেড়ে দেয়।
আবিরের মা ,বড় ভাই ও অফিসের ঘনিষ্ঠ দুজন কলিকের চাপের মুখে লজ্জায় নিজেও লজ্জিত । কারণ আবির চাকরির উপরই নির্ভরশীল।
চাকরি ছাড়া চলা সম্ভব না। সবশেষে আবির বিবেকের অনুতাপে নিজের ভুল বুঝতে পারলো ।
কনার ধৈর্য্য ও ভালোবাসা এবং ছেলে দুটোর ভাগ্যে নিজেকে শুধরানোর সুযোগ পেলো ।

কেস স্টাডি ২ : দশজনের মধ্যে সাদিয়া একজন তা যে কেউ সাদিয়াকে দেখলেই বুঝতে পারবে। মাস্টার্সে পড়াকালীন সময়ে
সাদিয়া কে দেখতে আসে বরপক্ষ। সবাই এতোটাই মুগ্ধ এ মেয়েকে কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। পাত্র ইঞ্জিনিয়ার, নাম পুলক।
দু পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হলো আগামী সপ্তাহেই আকদ এবং আগামী দু'মাসের মধ্যেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে । সাদিয়ার এতে একটু মনটা বিষণ্ণ বোধ করে কারণ সাদিয়া চেয়েছিল যেদিন বিয়ের অনুষ্ঠান সেদিনই আজ আকদ হবে।কিন্তু পুলক এম এস করার জন্য দেশের বাইরে যাবে সে জন্যই এই দ্রুত আয়োজন ।
সাদিয়া ও পুলকের একে অপরের সাথে চেনাজানা এবং কক্সবাজারে বেড়ানো সব মিলিয়ে ভালোই ।
এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য হল বুকিং ,কেনাকাটা , দাওয়াত দেওয়া মোটামুটি শেষ পর্যায়ে দিকে।
বিয়ের অনুষ্ঠানের তারিখ থেকে ঠিক ১৭ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলক মারা যায়। একেবারে সব কিছু যেনো মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে গেল । সাদিয়ার যেখানে লাল বেনারসি শাড়ি পরে শশুর বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল , সেখানে সাদিয়া গেল বিধবার বেশে।

দুই বছর পর সাদিয়ার বিয়ে হলো ,
সাদিয়ার খালার দূর সম্পর্কের আত্মীয় সোহেল এর সাথে। সাদিয়ার সমস্ত অতীত জেনে সোহেল এই বিয়েতে অগ্রসর হয়। সোহেল অন্ধের মতোই ভালবাসে সাদিয়াকে । সাদিয়া মনে মনে ভাবে , এক জীবনে যা কষ্ট পেয়েছি তাই হয়তো আল্লাহ আরেক জীবনে এমন ভালো জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দিয়েছেন । সোনালী সুখেই কাটছিল সুখের সংসারের দিনগুলো ।বিয়ের দু'বছর পর থেকে সোহেল ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হলে অতীত নিয়ে কথা বলে,মন খারাপ দেখলে কবর জিয়ারত করতে যাবে নাকি এবং আরো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলে ।
সাদিয়া আর সহ্য করতে পারে না ।সবকিছু জেনেশুনে বিয়ের পর যদি এরকম কথা শুনতে হয় তাহলে তার সাথে আর যাই হোক সংসার করে জীবন পার করা যায় না । অনেক ভেবেচিন্তে সাদিয়া চলে আসে বাবার বাড়িতে ।আর ফিরে যাবে না সোহেলের কাছে এ সিদ্ধান্তে অটল
সোহেল নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে সাদিয়া কে ফিরিয়ে নিতে আসে কিন্তু সাদিয়া তখন ফিরে যায় নাই।
আরেকটি ব্যাপারে সাদিয়া ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল , সাদিয়ার পরিবার থেকে বুঝানো হচ্ছে-- এরকম হয় -ই এসব কিছু নয় মেনে নিতে হয় ।
বেশ ক'মাস পর সোহেলের বাবা-মাকে সাদিয়া আর ফিরিয়ে দিতে পারেনি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৮
২৪টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জয়-বাংলা শেঠ

লিখেছেন রবাহূত, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩০



আমি বোকা লোক বেশী বুঝি না, কেউ একটু সাহায্য করতে পারবেন?

এইযে যুবলীগের খান কয়েক টাকি-পুঁটি ধরা পড়লো, সেটি নাকি পিএম এর নির্দেশেই হয়েছে। ধন্যবাদ পিএম কে। উনি কয়েকদিন আগেই ইংগিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝড় বৃষ্টি

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২২




ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ছে আকাশ থেকে,
আকাশটা ঢাকা আছে কালো মেঘে।
রোদ লুকিয়ে গেছে যেন কালোমেঘের তলায়,
ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ছে গাছের পাতায়।
বৃষ্টি থেকে আসলো মারাত্মক ঝড়,
ঝড় এসে উল্টে দিল গাছপালা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপরিচিতা

লিখেছেন মেহরাব হাসান খান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:১৮

আমার বড় ছেলের গানের পছন্দ বদলেছে। তার বন্ধ ঘর থেকে গান ভেসে আসছে_
"ফুরাইলে সাইকেলের বাতাস
সেদিন হবে সর্বনাশ
... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবৈধ উপার্জনের সুযোগ ও উৎস বন্ধ করুন - মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি এমনিতেই কমে যাবে ।

লিখেছেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:২৯

দুর্নীতিই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা | আমরা যেমন অক্সিজেনের মধ্যে বসবাস করি বলে এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি না, আমাদের গোটা জাতি এই চরম দুর্নীতির মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রয়েছে বিধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মপক্ষ সমর্থন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯



আর কিছুদিন পর সামুতে আমার রেজিস্ট্রেশনের ৮ বছর পূর্ণ হবে।রেজিস্ট্রেশনের আগে সামুতে আমার বিচরণ ছিল। এই পোস্ট সেই পোস্ট দেখে বেড়াতাম। মন্তব্য গুলো মনোযোগ সহকারে পড়তাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×