somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপাঙতেয় ২৭

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুমি কি ভাবছ আর্মিরা এখানেও আসবে? নাসিরের উদ্দেশ্যে বলে উঠে জাভেদ।
ওরা সব জায়গায় যাবে। কাউকে রেহাই দেবেনা। তবে এখনই এখানে আসবে না, আগে ওরা বড় বড় শহরগুলিতে যাবে তারপর একে একে, নাসির কথা শেষ করে না। কিন্তু সবাই বুঝে যায় তারপর কি হবে। নূরী ভয়ে আতংকে জমে যায়। সে কোনরকমে বলে তোমরা যে এসব করছ ওরা যদি জেনে যায়, তাহলেতো তোমাদের সবার আগে মেরে ফেলবে?

দুর আপা ওরা আসা পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব নাকি! গা ঢাকা দিয়ে ফেলব। ওসব নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি যতক্ষন আছি ছেলেদের নিয়ে কোন চিন্তা নাই।

চিন্তা নাই বললেই তো আর হল না। নূরী আর জাভেদের দুঃশ্চিন্তা শুরু হল। ওরা এবার কোথায় যাবে? লিচুতো নাসিরের এত অন্ধভক্ত হয়েছে ওকে কোথাও যাওয়ার কথা বললেই বলে তোমরা যাও, আমি এখানেই থাকব। নূরী জীবন থাকতে কখনো ছেলেকে ছেড়ে যাবে না। জাভেদও তাই। ওরা খালি দিন গুনতে থাকে কখন কেয়ামত নাজেল হয়।

এপ্রিলের মাঝামাঝি হয়ে গেল, পাকিস্হানি আর্মি ওদের গ্রামে আসলো না। এর মধ্যে ওরা শুনে ফেলেছে বাঙলাদেশের জন্য মুক্তি সংগ্রাম সংগঠিত করা হচ্ছে। অনেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লিখিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। লিচু আর নয়ন এর মাঝে কয়েক বার ভারতীয় সীমানায় চলেও গেছে। ওদের সীমান্ত এলাকায় এখনও কোন শরনার্থী শিবির খোলা হয় নি। কারন এই দিক দিয়ে শরনার্থীরা এখনও দলে দলে আসতে শুরু করেনি। ওদের এলাকা শান্ত, নিঝুমপুরীর মত। গ্রামের লোকেরা নিজেদের কাজ কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও শহরে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নাই।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে পাকিস্হানি আর্মির দেখা পাওয়া গেল। ওরা আসলো ট্রেন আর ট্রাক ভড়ে। লিচুর নানাবাড়িতে প্রথম আর্মি হানা দেয় মাঝরাতে। ট্রেন থেকে নেমেই গ্রামের মানুষের বাড়িতে চড়াও হয়ে হত্যাযজ্ঞ চালান শুরু হয়। লিচুর বড় মামার পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথে উনাকে বন্দী করে নিয়ে যায়। বড় মামার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। আশেপাশের বাড়িতেও হানা দিয়ে ছেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এখবর পাওয়ার সাথে সাথে নাসির ছেলেদের নিয়ে সীমান্তের ওপারে চলে যায়। ইতিমধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ক্যাপ্টেন কুমার আর ক্যাপ্টেন নিয়োগীর সাথে নাসিরের পরিচয় হয়। ওরা নাসিরকে সর্বাত্নক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। লিচু ইতিমধ্যে মতিনের মাধ্যমে মা বাবার সাথে যোগাযোগ করেছে। ভালই আছে নূরী আর জাভেদ। খালি লিচুর জন্য দুঃশ্চিন্তায় অস্হির। মাকে দুঃশ্চিন্তা করতে না করে লিচু। নূরীর মন মানে না।

লিচুর সাথে দেখা হয় না কতদিন। নূরী দিন গোনে এইতো আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরই লিচু চলে আসবে, মাকে ছেড়ে লিচু থাকতেই পারবে না। মতিনের কাছে শোনে লিচু অনেক বড় মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে, সবাই ওকে মান্য করে, ওর কত বন্ধু। লিচুর সময় নাই এখন মায়ের কাছে আসার। ওর আরো বড় কাজ বাকি, দেশ স্বাধীন করে একবারে ফিরবে।

ভরা শ্রাবনে অপারেশন থেকে ফেরার পথে লিচু আরো মুক্তিযোদ্ধাসহ পাক বাহিনীর হাতে ধরা পরে। লিচুকে ওরা নদীর ধারে নিয়ে গুলি করে। লাশ নদীর স্রোতে ভেসে কোথায় চলে যায় কেউ জানে না। নূরীর কাছে যখন খবরটা আসে সে তখন ছেলের জন্য ইলিশ মাছ রান্না করছিল। মাঝে মাঝে ক্যাম্পে লিচুর জন্য মতিনের হাতে দিয়ে খাবার পাঠায় । এই রান্নাটা নূরীর শেষ হয় নি।

(শেষ)

বিঃদ্রঃ চরিত্রগুলো সব কাল্পনিক। শুধু লিচুরটা ছাড়া। আম্মার কাছে লিচুর গল্প শুনেছি।গল্পের মত সে নিরীহ ছিল না। গ্রামের অত্যন্ত দুরন্ত ডানপিটে কলেজ পড়ুয়া কিশোর ছিল। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সে খুব নাম করেছিল। জুলাই মাসে তার মৃত্যুবার্ষিকি ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৬
৩৫টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×