somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যাবহারের কারন ও তার প্রতিকারের জন্য কিছু পরামর্শ

০৭ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রমজান ও রমজানের আগেও বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাবসায়ীদের রাসায়নিকের সাহায্যে ফল পাকানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় ছিলো, যা বর্তমানে লঞ্চ ডুবি ও সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ের নিকট চাপা পড়েছে। আচ্ছা একবারো কি ভেবে দেখেছেন ব্যাবসায়ীরা কেন ফলমূল এবং পচনশীল খাদ্যদ্রব্যে রাসায়নিক ব্যাবহার করে? বাংলাদেশের আবহাওয়াতে যেকোনো পচনশীল দ্রব্য সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা ভালো থাকে তাই ব্যাবসায়িক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে তারা একরকম বাধ্য হয়েই রাসায়নিক দ্রব্য ব্যাবহার করে। তবে মানুষের মধ্যে যেমন ভালো খারাপ রয়েছে তেমনি রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যেও ভালো খারাপ রয়েছে, জাতি হিসাবে আমরা বাকপটু ও আড্ডাপ্রিয় হওয়ায় আমরা সবাই সমস্যা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা টকশো করতে বেশ পছন্দ করি। এগুলো করতে করতে ভুলেই যাই যে আমাদের আলোচনা সমালোচনা বা টকশোর চেয়ে সমস্যার সমাধান খুবইজরুরী। এতদিন হয়ে গেলেও এই সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান দেখলাম না। এমনকি এই ইন্টারনেটের যুগে ব্লগেও কোন তথ্যমূলক লেখা দেখলাম না। কিছু আরটিকেল পেলেও গৎবাঁধা একই ধরনের লেখা দেখে বুঝলাম সব একই জায়গা থেকে কপি করা। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান বলতে আমি খারাপ রাসায়নিক আমদানী ও বিক্রয়ের সাথে জড়িতদের ধরপাকড় বা শাস্তির কথা বলছিনা, বলছি তাদেরকে খারাপ রাসায়নিক বাদ দিয়ে ভালো রাসায়নিক আমদানীতে বাধ্য করার কথা। এই ক্ষেত্রে মিডিয়া একটি বড় ভুমিকা নিতে পারে। ঠিক যেভাবে আমাদের মিডিয়া রাসায়নিক ব্যাবহারের কুফল বর্ণনা করে তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণ ও ব্যাবসায়িদেরকে সচেতন করেছে একই ভাবে ভালো রাসায়নিকের গুনাগুন প্রচার করে ব্যাবসায়ীদেরকে সৎ হবার সুযোগ করে দিতে পারে এবং একইসাথে জনসাধারনের দুশ্চিন্তাও দূর করতে পারে। আমি নিচে ফল পাকানো ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাবহ্রিত রাসায়নিক সমুহের ক্ষতিকারক দিক ও এই ক্ষতিকারক রাসায়নিকের বদলে বিকল্প কিছু রাসায়নিকের নাম দিচ্ছি যাদের কোন ক্ষতিকারক প্রভাব নেই।



ইথিলিনগ্যাসঃ
সাধারানত ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস ব্যাবহার করা হয়। মাঝারী মাপের গুদাম ঘরের ফল পাকাতে গুদামের বাতাসে বাতাসে ১% ইথিলিন গ্যাসের উপস্থিতিই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ইথিলিন মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে, চোখ, ত্বক, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্ষতিকরে। উন্নত দেশে ফল ব্যাবসায়ীরা ইথিলিন গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপন্ন গ্যাস পরিমিত পরিমানে প্রয়োগ করে ফল পাকায়।

ইথোফেনঃ অনেক ব্যাবসায়ীরা আবার ইথোফেন নামক উদ্ভিদ হরমোন ব্যাবহার করে ফল পাকায়। ইথোফেন ইথানলেরই আরেকটি যৌগ। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের FDCA ফল পাকানোর ক্ষেত্রে ইথোফেনের ব্যাবহার নিষিদ্ধ করেছে।

ক্যালসিয়াম কারবাইডঃ বাংলাদেশে অবশ্য ইথানলের চেয়ে ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়েই ফল পাকানো হয় বেশি। ক্যালসিয়াম কার্বাইডের সাহায্যে কলাসহ প্রায় সকল ধরনের ফলই পাকানো যায়, তাই অসাধু মহলে এর বেশ জনপ্রিয়তাও রয়েছে। মানব শরিরের জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ইথিলিনের মতই ক্ষতিকারক। শিল্প গ্রেডের ক্যালসিয়াম কার্বাইডে বিষাক্ত আর্সেনিক ও ফসফরাস থাকে।



ফরমালিনঃ আমাদের দেশের ব্যাবসায়িগন অজ্ঞতাবশত সকল পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষনে ফরমালিন ব্যাবহার করেন, কিন্তু ফরমালিন ফল সংরক্ষনে কোন কার্যকর ভুমিকা রাখেনা বা রাখতেও পারেনা।এটি মুলত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকনাশক, তাই মৃত মানুষ, ডাক্তারি ও জীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরির নমুনা এবং প্যাথেলজিকাল টিস্যু সংরক্ষণে ব্যাবহার করা হয়। ফরমালডিহাইড বা ফরমালিনসকল প্রানীর জন্য বিষাক্ত। ক্যান্সার উৎপাদক হিসেবে এটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত এছাড়াও অতিরিক্ত ফরমালডিহাইড শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র পেট ব্যাথা, বমি, কোমা, কিডনি সমস্যা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই তাই ফরমালডিহাইড দিয়ে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষন নিষিদ্ধ।


বিথাইলিনঃ বর্তমানে অনেক দেশেই ফল ব্যাবসায়ীগন বিথাইলিন নামক রাসায়নিক ব্যাবহার করছে। এখন পর্যন্ত এর কোনো কুপ্রভাব আবিষ্কৃত হয়নি।



পটাশিয়াম সরবেট, সোডিয়াম সরবেট, ক্যালসিয়াম সরবেট, সোডিয়াম বেনজয়েট ও বেনজয়িক এসিডঃ এই সকল পদার্থই প্রিজারভেটিভ হিসেবে বেশ কার্যকর। এদের অনুমোদিত গ্রহণযোগ্য মাত্রা ০.১%। প্রাকৃতিকভাবে বেনজয়েট সমূহ আলু বোখারা, তাল, দারুচিনি, পাকা জলপাই এবং আপেলে পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন টমেটো সস, আচার, চিপস, চানাচুর ইত্যাদিতে নিদৃস্ট পরিমানে এদের ব্যাবহার অনেক আগে থেকেই চলে আসছে।

এখন আমাদের ব্যাবসায়ী ভাইয়েরা ইথিলিন, ক্যালসিয়াম কারবাইড বা ফরমালিনের মত বিষাক্ত রাসায়নিক আমদানী না করে বিথাইলিন, সোডিয়াম বেনজয়েট ও পটাসিয়াম সরবেট আমদানি করলে এবং ব্যাবসায়িদেরকে এসকল রাসায়নিক পদার্থের ব্যাবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুললে আমি বিশ্বাস করি খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।

রেফারেন্সঃ মাধ্যমিক রসায়ন ২০৮ ও ২০৯ নং পৃষ্ঠা।



মোঃ আব্দুল জাব্বার মুন্না M. Sc. ( রসায়ন ) সরকারি তিতুমীর কলেজ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ২:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত ও সুপ্ত কি আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২



গুপ্ত ও সুপ্ত আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে না পারলে তারাই আবার ফিরতে পারলে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কারণ অতীতে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×