somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বিবলিয়ওথিকা আলেঙ্জান্ড্রিনা" পুরাতন পাঠাগার

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলেঙ্জেন্ডার। দি গ্রেট। দুনিয়া জুরে কিছু মানুষের নাম যদি কখনও টিকে থাকে তাদেও মধ্যে অবশ্যই অন্যতম একজন তিনি। উত্তর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, তার পরিধি সমগ্র। আর তাই বিংশ শতাব্দীতে এসে তার দর্শন মেলার কোন মম্ভবনা না থাকলেও আলেঙ্জেন্ড্রিয়া যাওয়া যায় হামেশাই। জগত বিখ্যাত এই বীরের নামে পরিচিত পৃথিবীতে সত্যিকারের ওয়াটার ফ্রন্ট সিটি বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাদেও মধ্যে অন্যতম প্রধান এটি। মেডিটেরীনিয়ান সমুদ্র তীরবর্তি শহরটি লম্বায় মাত্র 20 কিমি আর প্রস্থে 3 কিমি চেয়ে বেশি হবে না। তবুও মহা বীর আলেঙ্জেন্ডার এর পত্তনকারী হওয়ার কারনেই পৃথিবীর অন্যতম পৌরানিক শহর এটি, যদিও বর্তমানে তার প্রমান পাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। রানী ক্লিয়পেটরা শাসিত এ শহরটি এখন পিজা হাট, কে এফ সি আর গিজ গিজ করা মানুষে আধুনিক। মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে সরাসরি যাওয়া যাবে এখানে। বাস, টেঙ্ িকিংবা ট্রেনে। আধুনিক ইউরোপিয়ান ধাচের ট্রেনেই ভীর সবচেয়ে বেশি এবং এতে সময়ও লাগে অনেক কম। যাত্রা পথ ঘন্টা দুয়েকের। নীলনদের তীর ধরেই গড়ে উঠেছে সভ্যতা। রেলপথের সমান্তরালে চলে গেছে নীল এবং অপর পারে পীচ ঢালা পথ। "মাছের ট্রেন স্টেশনের" টুরিস্ট অফিসারের কাছ থেকে জেনে নিলাম কোথায় কি ভাবে যেতে হবে। নিয়ে নিলাম ম্যাপ। ছোট শহর তাই চাইলেই হাটা পথে যাওয়া যায়। ইস্টর্ন হারবারের ঠিক পাড়ে ছিল আমাদেও চোদ্দতলা হোটেল। সাগর আর শহরকে উপর থেকে দেখার বাসনায় যতটা পারা যায় উপরের দিকের কামড়া নিলাম। পুরোনো হোটেল, তবে এক সময় শান সৈকত ছিল বলে বোঝা যায়। সামান্যই বিশ্রাম নিয়ে সোজা চলে এলাম বিখ্যাত আলেঙ্ লাইব্রেবি পার হয়ে আরও খানিকটা দূরে ইস্টার্ন হারবারের একেবারে উত্তর পূর্ৰ তীরে, "ফোর্ট কোটাবে"তে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলার দারুন শোভামন্ডিত দালানটি আদর্শ টয় টাউন আর্কিটেচার তবে এটার মুল আর্কষন হলো একটা ফারাও আমালের একটা লাইট হাউজ। ফারাও আমালে তৈরী হলেও মামলুকের সুলতান কোটেবের আদেশে নগরের হারবার পেনিনসু্যলায় এই ফোর্ট এবং মসজিদ র্নিমান করা হয়েছিল। এবং উনিশ শতকে মোহামেদ আলী এই ফোর্টেও শৃ বৃদ্ধি করেছিলেন। বর্তমানে তিন তলার এই ফোর্টেও ভিতওে ছোট একটি নেভাল মিউজিয়াম যেখানে ওটোমান সাম্রাজ্যের কিছু অস্ত্র শস্ত্র এখনো দেখা যায়। মূল ফটকে প্রবেশের সময় বেশ লম্বা একটা পথ পার হতে হয় যা অনেক খানি আমাদের লালবাগ কেল্লার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। দুপাশে এক তলা ঘর সমেত দেয়াল এবং মাঝখানে মূল ফোর্ট বা দালান। রোমান স্থাপত্য কলার মত দেখতে ভীম দর্শন এই ফোর্টেও ভিতরে আস্তাবল, যুদ্ধের সরঞ্জামাদি, ওয়াচ টাওয়ার বা পয়েন্ট সবই আছে। তবে দারুন শিহরিত হতে হয় ভিতেরর কামরা গুলো দেখার পর। জানালা নাই বল্লোই চলে তবুও বাতাসের কোন অভাব নেই। উত্তর দিকে মেডিটেরেনিয়ান সী। ফোর্টের বাইরের দেয়ালে আছরে পরা ঢেউয়ের শব্ধ শুনতে পাওয়া যায় দূর থেকেই। ফোর্টেও বাইরেও দারুন পরিবেশ। বসে থেকে মাছ ধরা দেখা যাবে সারা দিন ধরে। স্ফটিক জলে স্কুল পড়ুয়াদের দাপাদাপিতে শরিকে হলে তারা একটু খুশিই হবে। মাছ ধরার নৌকার পাশাপাশি আধুনিক মেরিন ক্রজার গুলোকে দেখতে পাওয়া যায় হামেশায়। ডাইভ ফ্য্লগ লাগান দেখলাম এটাতে। মেডিটেরেনিয়ানে ঢুব দেয়ার প্রবল ইচ্ছাটা চাপা পরে গেল খরচার কথা শুনে। এখানে বলে রাখা ভাল, মেডিটেরেনিয়ান সী স্কুবা বা স্কিন ডাইভিং এর স্বর্গ রাজ্য মূলত উত্তর পশ্চিমের সাইনাই পেনিনসু্যলার দাহাবের দিকে। ফোর্ট থেকে বের হয়ে সী ফিস একুরিয়াম দেখতে ভালই লাগল। দুপুরের ঝাজ আলোতে আমরা হারবারের সাথেই লাগান বিখ্যাত আলেঙ্ লাইব্রেরিতে জাওয়ার আগে এদিক ওদিকের বীচ গুলোতে ঘুরে দেখা। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে মেডিটেরেনিয়ান হারবারের উণ্টো দিকে "বিবলিয়ওথিকা আলেঙ্জান্ড্রিনা" দেখতে এলাম। ভীম দর্শন এই লাইব্রেরি স্থাপত্যকলার এক অনুপম নিদর্শন হয়ে আছে এই একুশ শতকে। আলেঙ্জেন্ড্রিয়া লাইব্রেবির অফিসিয়াল নাম হলো "বিবলিয়ওথিকা আলেঙ্জান্ড্রিনা" । মূলত খৃস্ট জন্মের প্রায় তৃতীয় শতকে নগর পত্তনের পর পরই এই লাইব্রেরির তৈরী হয়ে থাকলেও এখনকার স্থাপনায় তার অংশ বিশেষ মেলাও ভার। প্রায় 5 লাখেরও বেশি বই নিয়ে সময়ের সাক্ষী হয়ে ক্যাসিকেল এই "বিবলিয়ওথিকা আলেঙ্জান্ড্রিনা" এর সূচনা হয়েছিল। কথিত আছে হারবারে যে জাহাজই প্রবেশ করুক না কেন তাদেরকে অবশ্যই কোন না কোন বই সাথে করে আনতে হতো। নতুন লাইব্রেরির বর্তমান পুস্তকের সংখ্যা প্রায় আশি লাখেরও বেশি। জাইগেনটিক আর্কিটেকচালার ডিজাইন হিসেবে স্থপতি মহলে পরিচিত এই দালানের বর্হিভাগ পুরোটাই কাচের এবং ভুমির সাথে প্রায় 25 ডিগ্রি কোণ করা। এতে কওে মেডিটেনিয়ান সাগওে যখন সূর্য ডুবে যেতে থাকে তখন পুর্ব দিকে এর ছটা দেখা যায় দারুন ভাবে। স্থাপনার দেয়ালে বড় বড় অক্ষর, চিত্রকলা (পিক্টগ্রাম), হায়রোগি্লফ এবং দেব দেবীর সিম্বলগুলো দেখতে দারুন লাগে। লাইব্রেরিতে বই ছাড়াও আছে সাইন্স মিউজিয়াম এবং প্লানেটরিয়াম। প্লানেটরিয়ামের ডোমটি আছে একেবারে মূল ফটকের সামনে রাজপথের ধারে। কিঞ্চিৎ ডিম্বাকার এই ডোমটিকে রাতের ঝলমলে আলোক সজ্জায় লাগে দারুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×