বাংলাদেশ—একটি এমন দেশ, যেখানে ফজরের আযান ভোর বাতাসে মিশে থাকে, আর ঠিক একই সকালে সরকারি অফিসে ঘুষ না দিলে কোনো কাগজ নড়ে না। আমরা ধর্ম মানি, কিন্তু সত্য বলি না। আমরা রোজা রাখি, কিন্তু ব্যবসায় ওজনে কম দিই। আমরা হজ করি, আর ফিরে এসে রাস্তায় ময়লা ফেলি।
এই দ্বিচারিতা কি আমাদের ধর্মপ্রাণতা, না কেবল পাপের ভয়ে ঢেকে রাখা এক মুখোশ?
আমরা নামাজ পড়ি, মসজিদ বানাই, ইফতার পার্টি দিই—কিন্তু একবারও ভাবি না কেন হাসপাতালে গরিব রোগীর জায়গা নেই, কেন স্কুলে ভালো পড়ানোর চেয়ে কোচিং ব্যবসা বেশি লাভজনক।
আমরা ধর্মীয়—এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা কি ঈশ্বরকে ভালোবাসি, না তাঁর রোষকে ভয় পাই?
যদি ভালোবাসতাম, তবে মানুষ ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতাম না।
যদি ধর্মপ্রাণ হতাম, তবে ধর্মকে ভোটের মঞ্চে নামিয়ে আনতাম না, তাকে ব্যবহার করতাম না বিচারহীনতা ঢাকতে।
আমরা আসলে বেশিরভাগই পাপে ভীত—ধর্মকে একধরনের ইনস্যুরেন্স হিসেবে দেখি। যেন পরকালের ভয়কে সামলাতে এই জীবনে কিছু নামাজ, কিছু দান, আর কিছু দোহাই যথেষ্ট।
অথচ সত্যিকারের ধর্ম তো ভয় নয়, ভালোবাসা; অন্যায় নয়, ন্যায়ের পথ।
সেই পথেই আছে আলোর রেখা—যেটা এখনো কিছু মানুষ ধরে রেখেছে। কেউ নিঃস্ব হয়ে মানবসেবা করে, কেউ চুপিচুপি সাহায্য করে, কেউ প্রতিবাদ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ ধর্মপ্রাণ হতে পারে, কিন্তু যদি সেই ধর্মপ্রাণতা ভয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তা কখনো নৈতিক উন্নয়নের রূপ নেবে না। বরং সেই পথেই জন্ম নেবে আরও বেশি ভণ্ডামি, আরও বেশি জালিয়াতি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



