somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুল রাজনীতি আর না শোনার ফল ছিল ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

১০ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকায় সাম্প্রতিক এক ব্যবসা সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস কথা বলতে গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলেন। তাঁর গলায় ছিল কষ্টের ভার। তিনি ফিরে গিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালের সেই দুর্ভিক্ষের সময়ে—যখন এই দেশটা সদ্য স্বাধীন হয়েও সবচেয়ে অমানবিক এক সময় পার করছিল।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। কিন্তু এই দুর্ভিক্ষের কারণ ছিল না খাবারের অভাব—বরং ছিল ভুল সিদ্ধান্ত, মানুষকে না শোনা, আর ক্ষমতার অহংকার। শহরে রেশন চালু হলেও গ্রামে কেউ খোঁজ নেয়নি। বাজারে খাদ্য ছিল, কিন্তু দামে গরিবের নাগালের বাইরে। মিডিয়ার কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, আর যারা কষ্টে ছিল, তাদের কথায় কেউ কান দেয়নি।

নাওমি হোসেনের বই The Aid Lab এই দুর্ভিক্ষ নিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছে। বইটি বলছে, দুর্ভিক্ষ আসলে একটা রাজনৈতিক ব্যর্থতা। শুধু দান-খয়রাত বা বিদেশি সাহায্য দিয়ে সমস্যা মেটে না। যদি সরকার জনগণের কথা না শোনে, তাহলে চাইলেও কিছু বদলানো যায় না।

তবে একটা ভালো দিকও আছে। এই দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করেছে। পরে সরকার, এনজিও আর দাতা সংস্থা মিলে অনেক ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে আর এমন ঘটনা না ঘটে। খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ—এই তিনটি জিনিস বাংলাদেশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে।

ড. ইউনুসের বক্তৃতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়নের গল্প তখনই সত্যি হয়, যখন সেটা মানুষের জন্য হয়। শুধু রাস্তা-ঘাট বা বড় বড় প্রকল্প দিয়ে নয়—মানুষের কণ্ঠ শোনা, তাদের সমস্যা বোঝা এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই উন্নয়নের আসল কাজ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৭:৩১
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×