somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইয়াংওয়ান, খিয়াক সান এবং একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতা

১১ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জীবনের পথে ২০১৩-১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। যদিও তাদের সঙ্গে পরিচয়টা আরও আগে, পাহাড়ে ওঠার সূত্রে। ঢাকার অভিযাত্রীদের মাঝে “নর্থফেস” ব্র্যান্ডের যে পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, তার অনেকটাই সরবরাহ করত এই প্রতিষ্ঠান। সময়টা ২০০৪/০৫ সালের দিককার হবে। সেই তালিকায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের নাম বললে অনেকেই চেনা মুখ।

ইয়াংওয়ানের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ছবি তোলার মাধ্যমে। ওদের বেশ কিছু বিমানের ছবি আমি তুলেছিলাম, সেখান থেকেই সখ্যতা গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে, আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সূত্রে কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায়ও যাওয়া হয়। যেন দেশের ভেতর আরেক দেশ! বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গলফ কোর্সটিও সেখানে। আধুনিকতা, শৃঙ্খলা আর ব্যবস্থাপনায় এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।

কিন্তু মূল গল্পটা ২০১৪ সালের। (স্মৃতি বিভ্রম না হলে সেই সালই ছিল)। ইয়াংওয়ানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একদিন সকালে দেখি আমার ডেস্কে একটা খাম রাখা, তার ভেতরে ১০০০ টাকার একটি নোট। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, এটা শুধু আমার জন্য না—সবাই পেয়েছে। হ্যাঁ, সবাই। কে কোন পদে আছেন, তাতে কিছু আসে যায় না।

আমার কৌতূহল বেড়ে যায়। বন্ধু বৎসল বসের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "বলেন তো, ব্যাপারটা কী?"

উনি বললেন, “৪০ বছরের উপহার।”

আমি একটু চমকে বললাম, “তাই বলে ১০০০ টাকা? আপনি কত পেয়েছেন?”

“১০০০ টাকা,”—একদম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন।

আমি খানিকটা কৌতুক করে বললাম, “এটা কিছু হলো?”

উনি হেসে বললেন, “আসলে না। কিন্তু জানো, খিয়াক সান সাহেব ৮ কোটি টাকা খরচ করেছেন এই উপলক্ষে। প্রতিষ্ঠানজুড়ে ৮০ হাজার কর্মচারী, প্রত্যেককে দিয়েছেন ১০০০ টাকা করে—কোনো জমকালো অনুষ্ঠান ছাড়াই।”

আমি চুপ করে গেলাম।

সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বুঝলাম, এই জন্যই তাঁরা বড় হন। সত্যিই বড় হন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৮:১৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×