somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুনতাসির রাসেল
শব্দ আমার আশ্রয়, চিন্তা আমার পথ। ইতিহাস, সমাজ আর আত্মপরিচয়ের গভীরে ডুব দিই—সত্যের আলো ছুঁতে। কলমই আমার নিরব প্রতিবাদ, নীরব অভিব্যক্তি।

বন্ধুত্ব: না কোনো প্রশংসা, না কোনো দাবি

১১ ই মে, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক থাকে যা কোন শর্তের ওপর নির্ভর করে না, থাকে না কোনো বিশেষ চাহিদা কিংবা আদান-প্রদানের হিসাব। এমন এক সম্পর্কের নাম বন্ধুত্ব—যেটা কখনও কখনও প্রেমের চেয়ে বেশি নিঃস্বার্থ, রক্তের সম্পর্কে থেকেও বেশি গভীর, আর আত্মীয়তার থেকেও বেশি নিরাপদ। তবে সব বন্ধুত্ব একরকম নয়। কিছু বন্ধুত্ব থাকে—নিশ্চুপ, নিরাবেগ, নির্ভার; যেখানে নেই কোনো প্রশংসা, নেই কোনো দাবি। আছে শুধু পারস্পরিক উপস্থিতির প্রশান্তি।

সমাজ আমাদের শিখিয়েছে, প্রতিটি সম্পর্কের মধ্যে কিছু না কিছু "দিতে হবে" আর "নিতে হবে"—প্রশংসা করতে হবে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে, উপহার দিতে হবে, প্রত্যাশা রাখতে হবে। কিন্তু প্রকৃত বন্ধুত্ব এই গড়পড়তা ছকের বাইরে। সেখানে কেউ কারো কাছ থেকে কিছু চায় না, কেউ কারো প্রশংসার আশায় থাকে না। এই সম্পর্কের সৌন্দর্য এইখানেই—এটা নিঃশব্দ, নিরাশ্রয়, কিন্তু গভীর।

যে বন্ধুত্বে প্রশংসা নেই, তার অর্থ এই নয় যে সেখানে ভালোবাসা নেই। বরং সে ভালোবাসা এতটাই স্থায়ী, এতটাই নির্ভরযোগ্য যে, সেটাকে শব্দে প্রকাশ করার প্রয়োজন পড়ে না। সেখানে "তুমি ভালো", "তুমি শ্রেষ্ঠ", কিংবা "তোমার জন্য সব করব" এইসব কথার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ সে সম্পর্কের ভিত্তি ভিন্ন—সহাবস্থান, বোঝাপড়া, এবং নিঃশর্ত গ্রহণযোগ্যতা।

আর দাবি? সেখানে কেউ কারো কাছে কিছু দাবি করে না। না সময়ের, না মনোযোগের, না উপলব্ধির। কেউ কাউকে জোর করে ধরে রাখে না, বা নিজের প্রাধান্য জাহির করতে চায় না। এমন বন্ধুত্বে দূরত্বও ক্ষতি করে না—মাসের পর মাস, বছরের পর বছর যোগাযোগ না থাকলেও, যখনই দেখা হয়, সম্পর্কের গভীরতা একই থাকে। সেখানে নেই অভিমান, নেই অভিযোগ। আছে শুধু এক ধরনের নিঃশব্দ শান্তি—“তুমি আছো, এটাই যথেষ্ট।”

এই ধরনের বন্ধুত্ব বিরল, কিন্তু অমূল্য। এটি তৈরির জন্য নয়, ঘটে যাওয়ার জন্য। এতে কোনো প্রয়াস নেই, কোনো জোর নেই—শুধু একটা সহজ গ্রহণযোগ্যতা। আর এটাই সম্পর্কের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রূপ।

এই পৃথিবী যতোই কৃত্রিমতার দিকে ধাবিত হোক, যতোই সম্পর্কগুলো হয়ে উঠুক মুদ্রার বিনিময়ে কেনা প্রতিশ্রুতি—তবুও কিছু সম্পর্ক রয়ে যাবে অলিখিত, অথচ অপরিবর্তনীয়। সেই সম্পর্কই হলো—বন্ধুত্ব, না কোনো প্রশংসা, না কোনো দাবি।

৭ই মে ২০২৫
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×