somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর হত্যার বিচার হোকঃ

০২ রা জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২ জুন, ১৯৮১ সালে সেনাবাহিনীর একজন চৌকশ কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর অধিনায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে একদল সেনাবাহিনীর লোক হত্যা করে। এখন পত্র পত্রিকার মধ্যমে দিবালোকের মত পরিষ্কার যে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয় তৎকালিন সেনাপ্রধান এরশাদের নির্দেশে। আমি তখন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রমনা থানা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার। বেইলী রোডের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে কার্যালয়ে প্রায়ই আনাগোনা। ৩০ মে ১৯৮১ জিয়া হত্যাকান্ডের আনেক আগে থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃত্বে চলছিল জামাত নিশিদ্ধের আন্দোলন। যার নেতেৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান লেঃ কঃ কাজী নুরুজ্জামান এবং মহাসচিব নইম জাহাঙ্গীর। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জিয়ার রাজাকারদের পূনর্বাসন কারার পদক্ষেপ কোন মোতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জামাতকে সারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিল। আমরা তার বাস্তাবায়ন করছিলাম। জামাতের সকল প্রকার প্রকাশ্য মিটিং আমরা ভেঙ্গে দিতাম। এরই পরিপেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতৃবৃন্দের কাছে সময় চেযেছিলেন।এবং তৎকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজকে প্রধান করে একটি কমিটি করে দেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দাবী বিবেচনা করার জন্য। এরই কয়দিন পরে চট্ট্রগ্রামে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করা হয়।জিয়া হত্যাকন্ডের খবর পেয়েই আমরা মুক্তিযোদ্ধা কর্যালয়ে গেলে কোন কর্মকর্তাকে সেখানে পাইনি। যার ফলে আমাদের করনীয় কি তা আমরা জানতে পারছিলাম না। তাই মনে মনে আমরা মঞ্জুরের সমর্থক হয়ে পড়েছিলাম। আমরা অসহায় এর মত দেখতে পেলাম যে অত্যান্ত পরিকল্পিত ভাবে এরশাদ তার পথের কাটা দূর করে ফেলল।

এ ঘটনা নিয়ে আনেক পরে, তৎকালিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ন দুজন কর্মকর্তা সাথে তাদের অবসর গ্রহনের পরে আমার কথা হয়। তাদের একজন ছিলেন লেঃ জেঃ মীর শওকাত আলী (৩০ মে ছিলেন জিওসি,যশোহর) আর ব্রিগেডিয়ার আমিনুল হক (ঢাকা সেনানিবাসে গুরুত্বপূর্ন কর্মকর্তা ছিলেন)। উনারা দুজনই বড় ভাইয়ের বন্ধু বিধায়, অবসর গ্রহনের পর আমাদের অফিসে অসতেন। তাদের দুজনকেই আমি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বলেছিলাম যে আপনারা তখন ভুল করেছিলেন। যেহেতু আমি মঞ্জুরকে সমর্থন করতাম তাই তাদের বলেছিলাম আপনার এরশাদকে সমর্থন না দিলেও পারতেন। মীর শওকাত ভাই আমাকে বলেছিলেন যে আমার কিছু করার ছিল না। কারণ জিয়া হত্যাকন্ডের পর এরশাদ তাকে আর্মি হেডকোয়াটারে বসিয়ে রেখেছিলেন। কোথাও যেতে দেয় নি। আর বিদ্রোহ দমন এবং মঞ্জুর হত্যার পর তাকে এরশাদ বলেছিল যে এখন তুমি দুটোর মধ্যে একটা পছন্দ কর। ১) জিয়া হত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়া। ২) হল অবসর নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়া। উনি ২য় টা বেছে নিয়েছিলেন। ব্রিঃ আমিন ভাই বলেছিলেন যে দেখো এরশাদ কত বড় শয়তান। আমিন ভাই যেহেতু জিয়ার ভক্ত ছিলেন তাই তাকে দিয়ে ঢাকা সেনানিবাস কন্ট্রোল করিয়ে প্রথমেই তাকে অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এখন দিবালোকের মত পরিষ্কার যে এরশাদ একই সাথে জিয়া, মঞ্জুর হত্যা করে এর দায় দায়িত্ব কতিপয় বীর মুক্তিযোদ্ধার উপর চাপিয়ে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সামরিক বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা শুন্য করে, তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে প্রশস্ত করেছিল।

অথচ জিয়া এবং মঞ্জুর হত্যার বিচার আজোও হল না। তিন তিন বার ক্ষমাতায় থেকে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমাতর লোভে তার স্বামীর হত্যার বিচার শেষ করল না। আর বর্তমান সরকার তার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত কারার জন্য রায়ের মূহুর্তে মামলাটাই আবারে ফ্রিজে পাঠিয়ে দিল। দীর্ঘদিন যাবত মঞ্জুর হত্যার বিচার ঝুলিয়ে রেখে দুই দলই এরশাদের সাথে ক্ষমতার দর কষাকষি করছে। বিচারের বানী কি এভাবে নিরবে নিভৃতে কাঁঁদবে?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭
×