somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মজা - ২

১৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১) আড়ংএর একটা শাখায় গিয়েছি বড় আম্মুটাকে সাথে নিয়ে তার জন্য কিছু কেনাকাটার জন্য। পছন্দ করে নিয়ে কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়েছি বিল পেমেন্ট ইস্যুতে। লাইন একটু বড় হওয়ায় সময় লাগছে। সে অস্থিরভাবে একবার এটা আবার ওটা ধরছে। হালকা করে বললাম, মামনি আমার পাশে এসে দাঁড়াও। আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে একবার আমাকে সামনে থেকে জড়িয়ে ধরছে, আবার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরছে। বকা দিলে নাক ধরে টানছে, আবার হালকা চিমটি দিচ্ছে। আমি না পেরে বললাম -

- মামণি, সবাইতো তোমাকে দেখছে, তুমিযে এমন করছো, সবাইেতো তোমাকে স্পেশাল চাইল্ড ভাববে।
- সবাই যা খুশি ভাবুক, তাতে আমার কি ? আমার যা খুশি আমি করছি, তাতে তাদেরকি ? তাদের নিয়েতো আমি ভাবছি না।

আমরা বড় হয়েছি, পাছে লোকে কিছু বলে ভেবে, আর আমাদের বাচ্চারা বড় হচ্ছে, পারিপার্শিকতাকে উপেক্ষা করে নিজের মত করে।

২) আড়ংএর কাজ সেরে বাসায় ফিরছি, কাকরাইল চার্চের সামনে আসার পরই ও পাশ থেকে বলে উঠলো-

- বাবা এটা কেন লিখেছে?
- কি লিখেছে ?
- এই যে লিখেছে নীতি ও আদর্শ কখনো মরে না
- হ্যাঁ মরে নাতো। ভুলটা কোথায় ?
- না কে বলে মরে না ? এই যে আমরা মরে গেলেই এখানকার সবকিছু অন্যরকম হয়ে যাবে। যারা নতুন করে আসবে তারা সবকিছু তাদের মত করে সাজাবে।এখানকার বিল্ডিং, রাস্তা সব অন্যরকমভা্বে সাজানো হবে....
- সুন্দর বলছো, আরো বলোতো মা.....
- যেমন এখন শেখ হাসিনা আছেন, তিনি তারমত দেশ চালাচ্ছেন, তাঁর পর যে আসবে, সে আবার সব পাল্টে ফেলে তার মত চালাবেনা বল ?
আমি ২য় শ্রেণীতে পড়ুয়া ৮ বছরের বুড়ির চিন্তার গভীরতা দেখে হতবাক। আমাদের বাচ্চাদের চিন্তার গভীরতা আমাদের চাইতে অনেক অনেক বেশী।

৩) এবার ছোট বুড়ির কথায় আসি। সকালে অফিস যাবার সময় আমাকে প্রতিদিন চশমা, মানিব্যাগ, মোবাইল তার ঠিক করে দিতেই হবে। তাড়াহুড়া করে যদি কখনও নিজে এগুলি পকেটে ঢুকিয়ে ফেলি, তার চিৎকারে পুরো বাসা মাথায় উঠবে। তাই আমি পারতপক্ষে রেডি হয়ে এগুলি তার জন্য বাকি রাখি। আজ সব পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েই বলল -

- বাবা তুমি অফিসে যেও না। আমি তোমার সাথে থাকবো
- না বাবা, অফিস না গেলে বস বকা দিবে।
- না বাবা, তুমি আজ যেও না প্লিজ। তোমার জন্য আমার টেনশন হয়।
- কেন বাবা টেনশন হয় ?
- তুমি কোথায় থাক, কি কর সেগুলো মনে হয় ...........
- আসার সময় চিপস নিয়ে আসবো, ঠিকাছে আম্মু, উম্-মা।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কথা ঘুরিয়ে, তন্বী তোমার ছোট মেয়ে কি বলে শোন, দরজা আটকাও।


(কৈফিয়ত: এই আত্মজা সিরিজ আকারে লিখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু ১ম পর্ব দেবার পর পারিপার্শিকতার কারনে আর কোন পর্ব দেয়া হয়নি। আজই হঠাৎ মনে হলো ছোট ছোট ঘটনাগুলি যদি অক্ষরাকারে সেভ না করে রাখি তাহলে সবই হারিয়ে যাবে, অন্ততঃ আমার স্মৃতির মনিকোঠা থেকে। তাই লিখতে বসা। তাছাড়া অনেকদিন হয়ে গেলো ব্লগে আসাই হয়ে উঠেনা। আসলেও অফলাইনে এসে ঘুরে যাই।)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫৬
১৯টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×