ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রভাতী শাখার সবার পরিচিত মুখ ক্রীড়া বিভাগের সহকারি শিক্ষক ভারত চন্দ্র গৌড় স্যার। জুনিয়র হাউসে ছেলেদের কাছে খুব জনপ্রিয় হলেও সিনিয়র হাউসে কেন যেন তার তেমন কোন জনপ্রিয়তা ছিল না। টিজনেম ছিল গৌড়পিণ্ডি। বিয়ে করার আগে থাকতেন কুদরত হাউসের কোয়ার্টারে। তাকে নিয়ে অনেক মজার কাহিনী আছে ছাত্রদের মধ্যে। সেগুলোর মধ্যে অল্প কিছু শেয়ার করা হল। সবগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী আমি না। আমার যেসব বন্ধু এসব আমাকে জানিয়েছে তাদের জবানিতেই ঘটনা তুলে দিচ্ছি। ( যারা রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র ছিলেন না তাদের কাছে একটু খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু এইসব আসলে শুধুই মজা করে করা।)
ঘটনা-১ঃ
স্থানঃ কুদরত-ই-খুদা হাউস
২০০৪ বা ০৫ এর দিকে।
জনৈক সিনিয়র ভাইয়ের প্রিয় অভ্যাস ছিল জুনিয়র পেটানো। প্রতিদিন জুনিয়র না পেটালে সম্ভবত উনার বদহজম টাইপ কিছু একটা হত। কারন যত দিনই সে জুনিয়র পেটানো ছাড়া থাকসে, ততদিনই মুখ কুকুরের বিশেষ অঙ্গের মত করে রাখতেন।
তো এই জনপ্রিয় সিনিয়রকে শায়েস্তা করতে বিশেষ প্ল্যান করা হল। একদল গিয়ে ভারত স্যারকে বলল, “স্যার, অমুক ভাই খুব মারে আমাদের। বিশ্বাস না হইলে আপনি উনার সেকশনে যান, দেখতে পারবেন।” স্যার খুব সুন্দর করে ওই ভাইয়ের বেডে গিয়ে শুয়ে থাকলেন আপাদমস্তক কাঁথামুড়ি দিয়ে।
অন্যদল গিয়ে ভাইকে বলল, “ভাই, এক জুনিয়র নতুন হাউসে আসছে, নিয়ম কানুন কিছু জানে না, আপনার বেডে ঘুমায়া গেসে।”
চিড়িয়াখানায় বাঘের হুংকার শোনা ছিল। ভাইয়ের গর্জন শুনে সেই ডাকের কথা মনে মনে ধাক্কা দিতে লাগল। গর্জন থামার পর থমথমে কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার বেডে???????” আমরা ভয়ে মাথা শুধু উপর নিচ করলাম। এক দৌড়ে সেকশনে গিয়ে “ওই হারামজাদা” বলে দিলেন এক রাম লাত্থি। স্যার উড়ে গিয়ে পড়লেন বিছানা থেকে নিচে। সবাই হতভম্ব। আমরাও ভাবিনি এইরকম দিকে ঘটনা মোড় নিবে। তারপরের কাহিনী আর নাই বা বললাম।
ঘটনা-২ঃ
সময়ঃ২০০৬ সাল।
স্থানঃ কুদরত-ই-খুদা হাউসের বারান্দা।
২ জন খুব ভালো বন্ধু দাঁড়িয়ে গল্প করছে। স্যার পেছন থেকে আসছেন। এক বন্ধু তাঁকে খেয়াল করলে তিনি ইশারা করে তাকে মানা করেন কোন কিছু বলতে। ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন যেন উনারা কথা চালিয়ে যান। অলস মস্তিষ্ক যদি শয়তানের কারখানা হয় তাহলে প্রথম বন্ধুটির মাথায় মনে হয় শয়তান তার অবকাশকালীন বাংলো বানিয়েছিল।
প্রথম বন্ধু(যে দেখতে পেয়েছে)ঃ দোস্ত ভারত স্যার কে তোর কেমন লাগে রে?
দ্বিতীয় বন্ধুঃ ওওওওও গৌড়পিণ্ডি???????? উম্মম্মম্ম... আছে মোটামুটি, খারাপ না, তবে হালায় আবার বেশি ভালো ও না।
ঘটনা-৩
স্থানঃ কুদরত
সময়ঃ২০০৬
একবার আমি আর আমার এক বন্ধু রসময় বাবুর অমর সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছি। স্যার এসে দরজার পাশে একটু আড়ালে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকক্ষণ পর উনি কাশি দিয়ে বললেন, “কালকে পরীক্ষা না? একটু তো পড়াশোনা করা দরকার। তাই না?” উনি যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পাশের রুমের বন্ধুদের কাছে শুনলাম উনি নাকি প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমাদের যেটা খটকা লাগসে, সেটা হল এইরকম- স্যার এত সময় রসময় বাবুর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা কেন শুনলেন? পরে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে স্যার এর বিবাহের ভাগ্যাকাশে যতদিন না পর্যন্ত কোন সুন্দরী রমণী আবির্ভূত না হবেন ততদিন স্যারেরও গুপ্তবাবুর সাহিত্য অমর বলেই মনে হবে।
ঘটনা-৪ঃ
সময়ঃ ভুলে গিয়েছি।
স্থানঃ মর্নিং পিটি
স্যার তখন নতুন বিয়ে করেছেন। আমরা নানা হাস্যরসাত্মক কৌতুক বানাই স্যারকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে। একবার স্যার মর্নিং পিটিতে দেরি করে আসলেন। স্যার সাধারনত দেরি করেন না কখনও। তো কয়েকজন সিনিয়র বললেন, “হুমমমম... স্যার এত দেরি কেন আজকে? নিশ্চয়ই কোন কাহিনী আছে, তাই না স্যার?” স্যার দাত বের করে লজ্জা লজ্জা কণ্ঠে বললেন, “বুঝোই তো...”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




