‘খবর লন দুই টাকা’। সকালবেলা ঢাকার রাজপথ এখন মুখর হয় এ কয়টি শব্দ দিয়ে। ভোরের ডাক, ভোরের কাগজ এসব পত্রিকা এখন হকারদের হাতে দেখা যায় না। নাইমুল ইসলাম খানের আমাদের সময়ও নয়। পত্রিকাটির নাম বাংলাদেশ প্রতিদিন। আমাদের সময়ও যে একদম নেই এমন নয়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের তলায় এক দুই কপি আমাদের সময়ও থাকে।
সকাল দশটায় বাসে উঠেছি। বাসের পিছনের সিট ফাকা। কিশোর বয়সি হকার একটি লাঠি দিয়ে বাসের বাইরে থাকা সমবয়সি হকারকে এক ঘা বসিয়ে দিয়ে হেসে আটখানা। বাইরে অপ্রস্তুত হকারও তাকে পাল্টা আঘাত করার জন্য চলন্ত বাসের সাথে দৌড়াচ্ছে। পিছনে ফিরে তাকালাম। হকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। খুশি হয়ে পাশের আসনে বসলো। জিজ্ঞাসা করলাম কত কপি বিক্রি হয়েছে। অকপটে বলে দিলো আড়াই শ কপি। দশ পনের কপি আমাদের সময় ছাড়া বাকি সব বাংলাদেশ প্রতিদিন। একটা পত্রিকা বিক্রি করলে কত পাওয়া যায় এ প্রশ্নের উত্তরে একইভাবে সপ্রতিভ উত্তর। প্রতিটি বাংলাদেশ প্রতিদিন বিক্রি করে ৮০ পয়সা পাওয়া যায়। অন্যদিকে এক কপি আমাদের সময়ের জন্য পাওয়া যায় এক টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ টিকে থাকার জন্য নাইমুল ইসলাম খানকে হকারদের বেশি কমিশন দিতে হচ্ছে।
নাইমুল ইসলাম খান যখন আমাদের সময় পত্রিকাটি শুরু করতে যাচ্ছিলেন তিনি কিছু নজরকাড়া বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে দুই টাকা দামের পত্রিকাটি বাজারে সাড়া জাগায়। পত্রিকাটি বাংলাদেশে হলদে সাংবাদিকতার ভিন্ন ধরনের একটি নজির সৃষ্টি করে। রংচংয়ের খবরে ভরা পত্রিকাটি মানুষ একসময় দেদার কিনেছে। মাত্র দুই টাকার পত্রিকা। তারপরও গরম গরম খবর। জরুরী সরকারের সময় এর বিক্রি ভিষণ বাড়ে। পত্রিকাটির সম্পাদক মন্তব্য কলাম লিখেন তার পত্রিকার প্রচার সংখ্যা নিয়ে। তিনি দাবি করেন বেশি হারে বিজ্ঞাপন দিতে হবে তাকে। কেনো বিজ্ঞাপন দাতারা তাকে বিজ্ঞাপন দিবে না এ নিয়ে সে লেখায় খেদোক্তি করেন। তিনি রেটও বেশি চান। ওই সময় পত্রিকাটি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। অভিযোগ রয়েছে কোনো বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের জন্য ডিজিএফআই আমাদের সময়ে স্টোরি ছাপিয়ে দিতো। পরে তারা মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করতো। বিশেষ করে পাবলিক বাসে এসব খবরের যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এসময় নাইমুল ইসলাম খানও বেশ আলোচনায় আসেন। পত্রিকাটিকে সামনে রেখে নিজের বাসায় রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্তা ব্যক্তি এবং কূটনৈতিক মিশনের লোকজনের সম্মানে পার্টির আয়োজন করেন। ঘটা করে নিজের পত্রিকায় ওইসব পার্টির কালারফুল ছবি ছাপেন।
আমাদের সময় এখন আলোচনার বাইরে। পত্রিকাটি প্রাইসওয়ারে হেরে গেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে। বসুন্ধরার মিডিয়া গ্রুপ মাত্র দুই টাকায় এখন ১২ পাতার পত্রিকা দিচ্ছে। তারা প্রথম পাতায় কখনো কখনো উল্লেখ করছেন কত কপি ছাপছেন। তারা লিখেছেন তিন লাখের বেশি ছাপা হচ্ছে পত্রিকাটি। মানুষ ১২ পাতার পত্রিকা পেয়ে আমাদের সময় ছেড়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনই কিনছেন। একই সাথে গুরুত্ব কমে গেছে নাইমুল ইসলাম খানেরও। তাকে এখন আর খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
বসুন্ধরা প্রধান পত্রিকা কালের কণ্ঠের উৎপাদন ব্যয় চল্লিশ টাকার উপরে। বেশি বেশি পৃষ্ঠা, উন্নত মানের কাগজ এবং উন্নত প্রিন্টিং পত্রিকাটির বৈশিষ্ট্য। বেশি হলে উৎপাদন ব্যয়ের দশ ভাগের একভাগ পত্রিকা বিক্রি থেকে আসে। বাংলাদেশ প্রতিদিন যদি তিন লাখ ছাপে তার পেছনে রয়েছে বিশাল ভর্তুকি। বাজারে আসছে ইংরেজি দৈনিক সান। পত্রিকার সম্পাদক করা হয়েছে সৈয়দ আনোয়ারকে। পত্রিকাটির প্রচারের জন্য তিনি এখন চষে বেড়াচ্ছেন সারা দেশ। কত টাকা ভর্তুকি দিলে এত বড় হাতির খোরাক বয়ে বেড়ানো সম্ভব অনেকের মনে সে প্রশ্ন।
এদিকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারও বসে নেই। সানকে মোকাবেলা করা জন্য ইনডিপেনডেন্টকে নতুন সাজে মাঠে নামাতে সম্পাদক মাহবুবুল আলমকে সক্রিয় করেছে। তারই অংশ হিসেবে বড় করে একটি অনুষ্ঠান করে ইনডিপেনডেন্ট নতুন যাত্রা শুরু করেছে। রাস্তায় পত্রিকাটির নতুন বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। বিলবোর্ডে আকষর্ণীয় ভাষা সহজে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
সোমবার আমার দেশের প্রথম পাতার উপরে ডানপাশে তিন কলামের একটি বক্স। দুই কলামে একটি ছবি। সেখানে কষ্টে কুকড়ে যাওয়া মাহমুদুর রহমানের মুখমন্ডল দেখা যাচ্ছে। প্রিজন ভ্যানের ভিতর তিনি অসহায় অবস্থায় দাড়িয়ে আছেন। এক কলাম সংবাদটির শিরোণাম করা হয়েছে, ‘সাত ঘন্টা নিদারুন কষ্টের শিকার মাহমুদুর রহমান’।
পত্রিকাটির প্রথম পাতার আরেকটি খবরের শিরোণাম, ‘মিডিয়ালিস্টে আমার দেশ অবশেষে ডিএফপির চিঠি’। সরকারি বিজ্ঞাপন যাতে না পায় আমার দেশের উপর সে ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর পত্রিকাটি আবার সরকারি মিডিয়ালিস্টে স্থান করে নিলো।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমানের ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তব্য আবদুল গাফফার চৌধুরী ছাড়া এখনো কেউ সমালোচনা করেন নি। তবে সমর্থন করে লিখেছেন অনেকে। যারা হাবিবুর রহমানের বক্তব্য সমর্থন করে লিখছেন তাদের একচোট নেয়ার চেষ্টা করছেন আবদুল গাফফার। আতাউস সামাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। বেচারা আতাউস সামাদ ভদ্র ভাষায় পরে কয়েকটি কথা লিখেছেন। এর জবাব দিতে গিয়ে আবদুল গাফফার উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কারণ গাফফারকে তিনি বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক গালগল্প লেখক হিসেবে আখ্যা দেন। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জব্দ করার লক্ষ্যে পরিচালিত গাফফার চৌধুরীর ওই লেখাগুলোকে প্রকাশ করার জন্য একটি ইংরেজি পরিভাষা রয়েছে। জনাব সামাদ সেটা উল্লেখ করাতে গাফফার তালগোল হারিয়ে ফেলেন। এর চোট পড়েছে কারান্তরীণ মাহমুদুর রহমানের উপরও। আতাউস সামাদের সঙ্গে মাহমুদুর রহমানকে জড়িয়ে কিছু কিস্তিখেউড় করেছেন গাফফার। গাফফারের প্রথম লেখায় মাহমুদুর রহমানের নাম লেখা হয় ‘মাহবুবুর রহমান’। পরের লেখায় সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টাকে ‘দুর্বৃত্ত’ বলে গালি দেন গাফফার। জাতীয় দৈনিকের দায়িত্ববোধ রয়েছে। একজন লেখক যাই লিখেন পত্রিকা ছেপে দিতে পারে না। এক্ষেত্রে কালের কণ্ঠ সে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়নি। এর আগেও গাফফার চৌধুরী বদরুদ্দীন ওমরকে নিয়ে যাচ্ছে তাই গালাগাল করলেও পত্রিকাটি অবলীলায় তা ছেপে দেয়। সামাদ সাহেব গাফফারের লেখার প্রতিক্রিয়ায় লেখাটি লিখে আর কোনো লেখা এ নিয়ে লিখবেন না বলে সমাপ্তি টানেন। কিন্তু পরবর্তী লেখায় গাফফার চৌধুরী তার এমন অভিযোগ এনেছেন যার জবাব না দিয়ে পারা যায় না। গাফফার লিখেছেন, সামাদ সাহেবের ছেলে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু এ অভিযোগের ব্যাপারে কিছুই তিনি সুনির্দিষ্ট করেন নি।
দুদিন পর মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের ভাই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হাবিবুর রহমানের বক্তৃতার প্রশংসা করে লিখেন যুগান্তরে। ওই লেখায় তিনি দাবি করেন বেশিরভাগ গনমাধ্যমই সরকারের সাফাই গাইছে। গাফফারের নাম উচ্চারণ না করে তার কঠোর সমালোচনা করেন। হাবিবুর রহমানকে এভাবে সমালোচনা করায় তিনি প্রবাসি ওই সাংবাদিকের নিন্দা করেন। জাহাঙ্গিরের কলামটিতে সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়। বিষয়টি একটু ভিন্ন মাত্রার মনে হয়েছে। এই জাহাঙ্গির বিটিভিতে নানা প্রোগ্রাম করে থাকেন। পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গান তিনি। কেনো তিনি হঠাৎ করে সরকারের এ ধরনের সমালোচনার করলেন কেনই বা আওয়ামী বুদ্ধিজীবী গাফফারে নিন্দা করলেন এ রহস্য বোঝা যায়নি।
সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে পারে এ ধরনের সংবাদকে কম গুরুত্বপূণ করে দেয়ার টেকনিক আছে। বুধবার পত্রিকাগুলোর প্রধান খবর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল। সরকার সমর্থক পত্রিকা সমকাল প্রশাসনে রদবদলের সংবাদটিকে প্রধান শিরোণাম করেছে। পদত্যাগী আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের ছবিসহ খবরটি দিয়েছে প্রথম কলামের টপে। রদবদলের খবরটি প্রথম আলো প্রধান শিরোণাম করেছে। যুগান্তর এবং নয়া দিগন্তের নিউজ ট্রিটমেন্ট প্রায় মিলে গেছে এদিন। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের সংবাদটি তারা ছয় কলামে ছেপেছে। এখবরটি উপরে পদত্যাগি আইন কমিশনের ছবিসহ খবরটি বড় করে কাভারেজ দিয়েছে। নয়া দিগন্ত আইন কমিশন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের খবরটি প্রধান শিরোণাম করেছে। প্রশাসনের রদবদলের খবরটিও তারা যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দ্বিতীয় প্রধান শিরোণাম করেছে।
কালের কণ্ঠ এ দুটি খবরই দিয়েছে। তবে এরচেয়েও বড় করে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রধান শিরোণাম করেছে, ‘বাধ্যতামূলক অবসরে গচ্চা ৫০ কোটি টাকা’। শিরোণামের নিচে বডি হরফের চেয়ে কিছুটা বড় করে লিখেছে, ‘জোট সরকারের সিদ্ধান্তের খেসারত দিল বর্তমান সরকার’। এ খবরটির আড়ালে পড়ে গেছে প্রশাসনে দলীয় পক্ষপাতপুষ্ট রদবদল এবং আইন কমিশন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘটনাটি। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদদোন্নতি ব্যাপক আলোচিত বিষয়। সরকার এর আগে সাড়ে চার শ‘র মতো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়। দলীয় বিবেচনায় এ কাজ করতে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে যোগ্য ও অভিজ্ঞরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের এমনিতেই অস্থিরতা চলছে। এর ওপর সরকার সব মিলিয়ে শুধু সচিব মর্যাদার ১২ জনকে ওএসডি করে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে বিশ্বস্ত ও দলীয় আনুগত্য নিশ্চিত করতে গিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তাদের একচেটিয়া পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ ধরনের আরেকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যখন বড় খবর হয়ে উঠেছে এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যান কোনো কারণ না দেখিয়েই পদত্যাগ করলেন এ দুটি নেতিবাচক ঘটনাকে গুরুত্বহীন করে দেয়ার জন্য কালের কণ্ঠ বাধ্যতামূলক অবসরের ঘটনাটি টেনে এনে প্রধান শিরোণাম করেছে। পত্রিকাটি এই প্রতিবেদনে দেখাতে চেয়েছেন বিগত জোট সরকার প্রশাসনে জঘন্য সব কাজ করে গেছে। সে তুলনায় আওয়ামী লীগের এ অপকর্ম ধরতে গেলে কমই।
প্রশাসনে রদবদল
সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ প্রশাসনে আরেকটি বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। সরকার একসঙ্গে ১৭ সচিবের পদ নতুন করে বন্টন করেছে। আরও চার সচিবকে ওএসডি করা হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনে ওএসডি সচিবদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২তে। অন্যদিকে একজন সচিব তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সচিবালয় ঠিকভাবে কাজ করছে না এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে। নানাকাজে ধীরগতির জন্য দায়ি করা হয়েছে আমলাদের। মহাজোট সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার বাস্তবায়নের জন্য দরকার একটি গতিশীল প্রশাসন। কোনোরকমেই সে ধরনের একটি কাঙ্খিত প্রশাসন সরকার পাচ্ছে না। সে প্রচেষ্টায় একের পর এক রদবদল। কিন্তু আগের রদবদলগুলো সরকারের কাজে গতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে যে রদবদল করা হোল তা যে গতিশীলতা বাড়াবে তার নিশ্চয়তা নেই। কারণ এজন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে স্থিতিশীলতা দরকার সরকার তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়নি।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর প্রশাসনে তিন স্তরে পদোন্নতি দেওয়া হয় ৪৯৪ কর্মকর্তাকে। ওই সময় পদোন্নতি বঞ্চিত হন ৫২৬ জন কর্মকর্তা। সরকারের পক্ষ থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদায়নের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আগের পদন্নোতির সময় দলীয় বিবেচনার অভিযোগ উঠে। পদন্নোতির ক্ষেত্রে দক্ষতা অভিজ্ঞতা যোগ্যতার বদলে সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়। দেখা গেছে শুধু নাম দেখে সরকার পদোন্নতি দিয়েছে। যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন। একারনে প্রশাসন স্থির হওয়ার বদলে নতুন সরকারের আমলে অস্থির হয়েছে। এরপর সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে নতুন করে প্রশাসনে শীর্ষ পর্যায়ে সবচেয়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটালেন। যোগ্যতা অযোগ্যতা বিবেচনা না করেই ওএসডির সংখ্যা বাড়ানো হলো। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা যারা বঞ্চিত হলেন তাদের আস্থায় না নিলে কিভাবে একটি সুস্থ প্রশাসন দাড়াবে? আর মহাজোটই বা কিভাবে তাদের প্রস্তাবিত কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবে?
এদিকে শিগগির প্রশাসনে চার স্তরের পদোন্নতি দেয়ার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিতরে ভিতরে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে আবার তা ছিড়ে নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাচের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। এরপরও সরকারের দলীয় বিবেচনা করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। এ ধনের পরিস্থিতি দেশের আমলাতন্ত্র আরও অস্থির হবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পদ দখলের লড়াই চলছে প্রশাসনে। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। প্রশাসনে পদোন্নতি, নিয়োগ, বদলি এর জন্য একটি নিয়ম অবশ্যই আছে। প্রয়োজন সেটি যথাযথভাবে অনুসরণ। বড় ধরনের পদোন্নতির বেলায় সরকার চাইলে নতুন করে কোনো মানদণ্ড সেট করবে। তবে তাতে কারো প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা দেখছি সরকার এসবের কোনো ধার ধারছে না। আগের সরকার দলীয়করণ করেছে এ ধরনের অভিযোগ এনে সরকার মনমতো কাজ করতে গিয়ে প্রশাসনকে দিন দিন ভঙ্গুর করে তুলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রশাসন অচল হয়ে যেতে পারে। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। দলীয় সংকীর্ণতা বাদ দিয়ে কেবল যোগ্যতা দক্ষতাকে সামনে নিয়ে আসুক।
( সোনারবাংলাদেশ থেকে সংকলিত)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


