১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সব হারিয়ে, ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার জনগণ আবার ও জাগ্রত হয়, সোচ্চার হয় নিজেদের অধিকার আদায়ে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধমে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বপন হয়। সেই সুত্র, ধরে ডাক আসে স্বাধীনতার । মুক্তিকামী মানুষের প্রবল ইচ্ছায় আর ৩০ লক্ষ্য শহীদের জীবনের বিনিময় অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতা। বাংলাদেশ স্বাধীনের পরে ও স্বাধীনতা আসেনি বাংলাদেশের মানুষের জীবনে। আজ সেই স্বাধীনতার যুদ্ধ কোনো পাকিস্তানির বিরুদ্ধে নয়,নিজের দেশের শাসকের বিরুদ্ধে যারা কিনা নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের দল হিসাবে দাবি করে। সেই একই দাবি ১৯৭৫ সালেও করেছিল, আর সেখান থেকে শুরু হয় আওয়ামীলীগের দীর্ঘ সময়ের পতন ।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে বাকশাল তথা এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর বিদেশের মাটিতে ঘুরে ফিরে জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবার রাজনীতি করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ। যদি জিয়াউর রহমান এই প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা না করত, তাহলে হয়ত আজ আওয়ামিলীগ বা শেখ হাসিনা নামে বাংলার মাটিতে কোনো দল বা নেতা থাকত না। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২য় বারের মতো ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় এসেই জাতিকে বিভক্তি এবং ধংশ করার কাজে লিপ্ত হয়ে পরে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ। ২০০৯ সালের সরকার গঠনের পর ২৫ শে ফেব্রুয়ারী বি. ডি. আর হত্যা ছিল সবচেয়ে নক্কার জনক ঘটনা এবং বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কময় অধ্যায় । এই হত্যা কান্ডের সঙ্গে সরকারের উপরের মহল ও জড়িত ছিল বলে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে আসে। তাছাড়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এর বিচার কাযক্রম শেষ করে চিরদিনের জন্য এই হত্যা কান্ডের দোষ ভার যেন তাদের উপরে না আসে সেই ব্যপারটি ও নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামিলীগ সরকার। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এর কাযক্রম শেষ করতে না পারলে হয়তো, ভবিষ্যতে তাদেরকে আদালতের বারান্দায় রাত কাটাতে হতে পারে বলে আওয়ামীলীগের অনেকে মনে করেন। একটির রেশ কাটতে না কাটতে, আরেকটি হত্যাকান্ড। ২০১৩ সালের ৫ ই মে রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হয় ধর্মভীরু, নিরস্থ মানুষদের। একের পর এক হত্যাকান্ড, গুম , খুন , নির্যাতন এবং দুর্নীতি করে জনগণ কে ভয় দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ নিজেই ভীত হয়ে পড়ে । আর এই ভয়ের হাত ধরে সংশোধন করা হয় সংবিধান । সংবিধান সংশোধন এর মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয় মানুষের ভোটাধিকার। আওয়ামিলীগ ভালো করেই জানতেন তাদের কুকর্ম ভর্তি আমলনামা সম্পর্কে, তাই কোনো রকম ঝুকি নেওয়া যে ঠিক হবে না তা ওনারা ভালো করেই জানতেন। নিজেকে বিপদ মুক্ত রাখতে ৫ ই জানুয়ারী-র নির্বাচন যে কত প্রয়োজন ছিল তা আওয়ামীলীগের চেয়ে কেউ ভালো জানে না। নির্বাচন করেতেই হবে এবং সেটা বি এন পি কে ছাড়া করতে হবে বলে আওয়ামীলীগের শীর্ষ মহল থেকে বলা হয়। যেমন কথা তেমন কাজ, তাই অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসাবে শেখ হাসিনা অন্য কাউকে বিশ্বাস করতে পারেনি । আজ ও সরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ক্ষমতার লোভের পরিমান কত বেশি হতে পারে তার উজ্জল প্রমান শেখ হাসিনা। ভোটার বিহীন ১৫৩ টি আসনেই যেন শেখ হাসিনার বাহাদুরি। এতকিছুর পর আমরা ২০১৫ সালে এসে দাড়াই । প্রশ্ন হচ্ছে কি হবে ২০১৫ সালে ? কে জিতবে, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ নাকি নির্যাতিত, নিপীড়িত, ভোটাধিকার হারানো জনগণ ? যদি জনগণ সকল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকে, তাহলে জনগনই জিতবে।
একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে, এই লেখার প্রতিটি ঘটনার সাথে একটি নিদ্দিষ্ট নম্বর রয়েছে। আর এই নম্বর টি হলো পাচ (৫). সব হারানো ১৭৫৭, ভাষা আন্দোলনের ১৯৫২, মুজিব হত্যা ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট, বি ডি আর হত্যা ২৫ শে ফেব্রুয়ারী, ৫ ই মে হেফাজত ইসলামের উপর হত্যাকান্ড এবং সর্বশেষ ৫ ই জানুয়ারির নির্বাচন। ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট থেকে ৫ ই জানুয়ারী ২০১৪ পযন্ত উপরোক্ত প্রতিটি ঘটনার সাথে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ জড়িত। তাই এ কথা নিশ্চিন্তে বলা যাই যে, নম্বর ৫ আওয়ামীলীগের সুভাগ্যের নম্বর নয়। তাহলে কি ২০১৫ সালে আওয়ামীলীগের পতন হবে কারণ এই সালে রয়েছে নম্বর ৫ আর পুরো বছরে এই পাচ নম্বরটি রয়েছে ৩৬ বার। আওয়ামিলীগ কি পারবে, ৩৬ বার এই আনলাকি নম্বর টি এড়াতে। উত্তর সময়েই বলবে, তবে আজ পযন্ত আওয়ামিলীগ ৫ ই জানুয়ারী এবং ১৫ ই জানুয়ারী, ২০১৫ কে পার করতে পেরেছে। এই তারিখ দুটিকে এড়াতে, আওয়ামিলিগকে কি রকম তোপ পোহাতে হয়েছে তা সবাইরে জানা আর এই ভাবে কতদিন চালনো সম্ভব তা সাধারণ মানুষের জানা আছে।
ইতিহাস থেকে যদি বলি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিহীন বাংলার মানুষ যদি তাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পারে তাহলে, নেতৃত্ব বিহীন আন্দোলন করে নিজের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে পারবে। এই আন্দোলন হচ্ছে নাগরিক অধিকারের আন্দোলন এবং গণতন্ত্র সম্মুন্নত রাখার আন্দোলন আর তাই এই আন্দোলনে বি এন পি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃতের প্রয়োজন নাই , জনগণ নিজেরাই যথেষ্ট। একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে শুধু এইটুকু অনুরোধ করবো অতীতের মুজিব হত্যা, বি ডি আর হত্যা, হেফাজত কর্মীদের হত্যা এবং গনতন্ত হত্যার মতো কোনো ঘটনা যেনো না ঘটে। অনুগ্রহ পূর্বক আমাদের কন্ঠসর চেপে না রেখে আমাদেরকে বলতে দিন, আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন নয়তো ইতিহাসের পূনরাবৃত্তি আমাদের সবাইকে কাদিয়ে যাবে।
লেখক : এইচ, কে হীরা (একজন সচেতন নাগরিক )
কর্পোরেট ব্যাংকার, নিউ ইয়র্ক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




