somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনন্দময়ীকে পত্র । মরে যাওয়ার পরে পাখিরা ওদের মৃতদেহ কোথায় লুকায় বলতে পারো?

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনন্দময়ী মন ভালো নেই। কেন জানতে চেয়ো না। আমি নিজেই কি জানি না কি। একদম জানি না। সেই পুরনো অস্থিরতা।

কাল বিকেলে প্রার্থনা মন্দিরে যাওয়ার পথে আনন্দময়ী, বিকেলের হলুদ আলোয় ইউনুভার্সিটির ল্যান্ডস্কেপটা দারুন দেখতে লাগছিলো। মনে হচ্ছিল সবুজে ঢাকা চারিদিকের সব পাতা, সব গাছের ডাল, সব আকাশের মেঘেরা যেন কি বলতে চাইছে। আফসোস আমাদের সেই কান নেই আনন্দময়ী যে আমরা কান পেতে শুনতে পারি ওদের কথা। আমি অনেকক্ষন কান পেতে বসে রইলাম।

জগতের আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রন
ধন্য হলো ধন্য হলো মানব জীবন।

প্রার্থনা থেকে ফিরে এসে বারান্দার যে জায়গাটা থেকে অনেকটা দূর দেখা যায় সেখানটায় বসে গিয়েছিলাম। কার্নিশের উপরে একা, আনমনেই। সামনে একটা নাম না জানা অনেক বড় গাছ তার সব ডালাপালা দিয়ে কেমন সুন্দর মাটিকে আকড়ে ধরেছে। ওদের টান দেখে ঈষর্া হতে হতেও মিলিয়ে গেল। বেশতো আছে ওরা।

উপরে বাহু ছড়িয়ে দিয়ে গাছের ডালগুলো অসীমে কি যেন জানানোর আকুতি নিয়ে স্থির। শুধু পুরোটা গাছজুড়ে অদ্ভুত সুন্দর সবুজ রঙের হাজার হাজার পাতারা জগতের আনন্দযজ্ঞের পয়গম্ব নিয়ে নেচেই চলছিলো বিকেলের দমকা বাতাসে। একটু দূরেই সমুদ্রতট।

ওই মাটি আকড়ে ধরা শিকড়ের কাছে হঠাৎ দুটো পাখি এসে বসলো। এরপরে গাছের ডালে দূর থেকে উড়ে এসে আরেকটা। কি মজার জীবন তাই না ওদের? খেতে চাইলে খাও, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ঘুমাও, আবার ভোরে উঠে আকাশে ডানা মেলে দাও। মিলনের মৌসুমে মিলন, বিদায়ের মৌসুমে চলে যাওয়া।

তখন হঠাৎ মনে হলো আনন্দময়ী, আচ্ছা পাখিরা মরে যাওয়ার পরে ওদের মৃতদেহ কোথায় লুকায়? কখনো কাকের একটা দুটো মৃতদেহ ছাড়া পাখিদের মৃতদেহ চোখেই পড়ে না। ওরা এত সযত্নে, এত সাধের মৃতু্যকে কোন রহস্যে লুকায় বলতে পারো?

আনন্দময়ী তুমি ভালো আছো তো? এই দেখো তো, তোমায় চিঠি লিখতে লিখতে এখন দিব্যি মনটা ভালো হয়ে গেলো। বাকিটুকু একটা হিমশীতল কফিতে ঠোট ডুবিয়ে চুমুক দিলেই চাঙ্গা!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:২৪
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×