বিশ্বাস করুন, লাভ অনেক আছে। তবে তার মধ্যে আমি মানুষের সাথে আলাপ পরিচয় বা যাকে বলে নেটওয়ার্কিং সেটিকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনেক জিনিয়াস মানুষ জনের সাথে পরিচয় হচ্ছে, জানা সম্ভব হচেছ যারা আছে যোজন যোজন দূরে। এই পাওয়াটা কি যথেষ্ট নয়?
খবরের কাগজে একজন অনেক দরদ দিয়ে একটি লেখা লিখতে পারে। পাঠক পড়ে অভিভূত হয়ে হয়তো চিঠিপত্র কলামে একটা চিঠি পাঠাতে পারে লেখকের প্রশংসায়। ব্যস সেই পর্যন্তই। যার লেখা পড়ে এত ভালো লাগলো তার সাথে সত্যিকারের কোনো আদান প্রদান নেই। অথচ ব্লগের ক্ষমতাটি দেখুন। কত সহজে এই যে মন্তব্যের আদান প্রদান, লেখকের এবং পাঠকের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কএটা আর কোন মিডিয়া আপনাকে দিতে পারবে আমাকে বলেন তো? যে সর্বগ্রাসী মিডিয়া টিভি, তাও এখানে হার মানে।
ইন্টারনেটে ব্লগিং ফেনোমেনার এতটা উত্তরণের মূল কারন এই নেটওয়ার্কিং করতে দেওয়ার সুবিধা। জীবন আমাদের সামনে অসংখ্য সুযোগ ছুড়ে দেয়, কেউ সুযোগ মুঠোতে নিতে পারেন আবার কেউ ফিরে তাকানোরও বুদ্ধি রাখে না। মানুষের সাথে নেটওয়ার্কিং করার এই যে সুবিধা, মনে রাখবেন এটা আমাদের সবার জন্য জীবনের খুব বড় একটা সুযোগ ছুড়ে দেওয়া। আমি নিশ্চিত জীবনের অনেক পদক্ষেপে সহ ব্লগাররা একজন আরেকজনকে অবশ্যই নানাভাবে উপকৃত করতে পারে, করবেই। বাজি ধরতে চান?
শেষ করি সামহোয়ারের অসাধারন মানুষদের নিয়ে। যদিও ধারাবাহিকভাবে পরে আবার লেখা যাবে। এখানে অসাধারন মেধাবী কিছু লেখক আছে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের জানতে পারাও আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ব্লগিংয়ের প্রাপ্তি। কারো বিশ্লেষণী ক্ষমতা অসাধারন (সাইমুম, রাসেল, অপবাক, হিমু, শুভ তাদের ভিতরে)। কেউ সত্যিকার অর্থে বহুমুখী প্রতিভার মেধাবী (শোহেইল মতাহির, আড্ডাবাজ তাদের ভিতরে অন্যতম)।
কারো লেখনী প্রচন্ড ভালো যা তারা নিজেরাও জানে না। প্রিয় এমন একজন হলো মুখফোড়। কেউ গড অফ স্মল থিং অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাধারন বিষয়গুলো অসাধারন মমতায় ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম; আস্তমেয়ে, শাহানা সেই ক্যাটাগরীর লেখক। কেউ ক্রমাগত ভালো লিখে যেতে পারেন, আমাদের সবার প্রিয় শুভ সেই তাদের একজন।
আবার কেউ কেউ সাধারনদের ভিড়ে থেকেও ভাষা আর শব্দের গাথুঁনীতে নিজেদের অসাধারন দলে নিয়ে যান। হিমু, সুমন চৌধুরী আর শমিত তাদের মধ্যে। লেখার মধ্যে দিয়ে মানুষকে আপন করে নিতে পারে যে মানুষগুলো, যারা মুহুর্তে অপরিচিতের দেওয়াল ভাঙ্গতে সিদ্ধহস্ততাদের মধ্যে পড়েন অমি রহমান পিয়াল, মহুয়া, হাসান। আবার আরেক ক্যাটাগরীর মানুষ আছে যারা নিজেদের প্রতিভা লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। অরুপ, মাশীদ, মঈন সেই ধরনের।
এখানে অনেকের নামই হয়তো আসে নি। কারন আমি নিজেও যখন লেখা শুরু করেছি যখন ততদিনে অনেক ভালো লেখকরা লেখা কমিয়ে দিতে শুরু করেছেন। আমি বর্তমানে যারা লিখছেন তাদের ভিতরেই আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি। তবে আগামী কিস্তিতে আমি চেষ্টা করবো বাকি এ্যাক্টিভ ব্লগারদের কথাও তুলে ধরতে। সেই কিস্তি পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।
Give me freedom to fly without a shadow,
Give me freedom to sing without an echo,
and to love without leaving traces.
http://mysticsaint.blogspot.com
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৪:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



