somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীল শার্ট এ ভালবাসা

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-কথা বলোনা কেন?
.
রাগী গলায় সুস্মিতা কথা টা জিজ্ঞেস করল, সচারচর এমন গলা শোনা যায়না ওর।যখন রেগে যায় শুধু মাত্র তখনই এত কঠিন গলায় কথা বলে।ও এখন রেগে আছে কঠিন ভাবে রেগে আছে। অবশ্য ওর গলার কঠিন আওয়াজ টা শুনতে ভালই লাগে।
.
সুস্মিতা আবার বলল,
-ফোন কি রাখব?
-কেন?
-ফোন দিয়ে কথা বলতেছ না কেন?
-তোমার কথা শুনতে ভাল লাগতেছিল।
-ইদানিং তো আমার কিছুই ভাল লাগেনা তোমার
-কে বলল,
-শার্ট একটা কিনে দিলাম সেটাও তো পছন্দ করো নাই
-কে বলছে করিনাই,,
-এই শোন,আমাকে বোকা বানাবা না।সাত বছর ধরে চিনি তোমাকে।তোমার চেহারা দেখলেই বুঝি তোমার কি হইছে আর কি হয়নাই।
-ওহ,কত ভালবাসো।
-ধুর,ন্যাকামী করবানা তো
-ন্যাকামী কই করলাম,
-রাখো তো ফোন,রান্না করতেছি
-কেন,আম্মা কই?
-আছে,তবুও করি,
-যাব আমি,
-না,খবর দার আসবানা।
-আচ্ছা,,তাহলে রাখি।
-এই শোন শোন।
-হুম।
-কিছু খাওনাই?
-না,,
-আচ্ছা আসো তাহলে।
-আচ্ছা।
.
আমি জানতাম সুস্মিতা বেশিক্ষন আমার উপর রাগ করে থাকতে পারবেনা।
ঘটনা খুব বেশি নয়,পরশু আমার জন্মদিন ছিল তাই সুস্মিতা অনেক শখ করে একটা শার্ট কিনে আনছে আমাকে উপহার দেয়ার জন্য ।
দামী শার্ট, কিন্তু প্রবলেম হল শার্ট এর কালার নীল।নীল শার্ট কেমন না?
নীল কালার মেয়েদের মানায় ছেলদের না।
আমি মুখে বললাম যে শার্ট আমার পছন্দ হয়েছে কিন্তু সুস্মিতা ঠিকই বুঝে নিয়েছে যে আমার পছন্দ হয়নি।বেশি ভালবাসার এই এক প্রবলেম।
.
তার কিছুক্ষন পর ও ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ির দিকে রওনা দিয়ে দিল।আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম, আর ভাবতে লাগলাম যে, এই সামান্য কারণে কেউ হ্যাজবেন্ডের উপর রাগ করতে পারে।রাগ করেছে ঠিক আছে,তাই বলে বাসা থেকে চলে যেতে হবে।এত অভিমান যে কই পায় কে জানে?
এটা অতিরিক্ত ভালবাসার সাইড এফেক্ট।
যাওয়ার সময় আমি আর আটকালাম না ওকে, যাক।এ মেয়ের মাথায় অনেক সমস্যা আছে।
.
আমার ফোন বাজছে,জানি এটা সুস্মিতার কল।
প্রায় ঘন্টা খানেক আগে ওকে বলেছি ওর মায়ের বাসায় যাচ্ছি।এতক্ষনে আমার সেখানে চলে যাওয়া উচিত ছিল।কিন্তু আমি যাইনি, আমি এখনো আমার ঘরেই বসে আছি।
সুস্মিতার জন্য অপেক্ষা করছি,ও কিছুক্ষন কল দিয়ে যখন আমাকে ফোনে পাবেনা,তখন ঠিক বাসায় চলে আসবে।অতিরিক্ত চিন্তা তার আমাকে নিয়ে।এটাও ভালবাসার সাইড এফেক্ট।
.
এসবের মাঝেই ফোনের ম্যাসেজ টোন টা বেজে উঠল,ফোন হাতে নিয়ে দেখি সুস্মিতার ম্যাজে।
লেখা,
"বাবু সোনা, টুকুর বাবা।
আমি জানি তুমি ঘরেই বসে আছো।জলদি নীল শার্ট টা গায়ে দিয়ে আমাদের বাসায় চলে আসো।
টাইম মাত্র পনের মিনিট, এখনো না খেয়ে বসে আছি তোমার জন্য।
ইতি টুকুর আম্মু।
.
আমি ম্যাসেজ টা পড়ে আশ্চর্য হয়ে গেলাম, এই মেয়ে কিভাবে জানল এটা।ইদানিং ও আমার চিন্তা ধারার উপরেও নিয়ন্ত্রন রাখছে।এটাও অতিরিক্ত ভালবাসার সাইড এফেক্ট।
আমি আর দেরী করলাম না, ওর দেওয়া শার্ট টা পড়ে বের হয়ে গেলাম।না গেলে আবার কি হবে কে জানে?
.
সুস্মিতার বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি সুস্মিতা সেজে গুজে বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে।আমি রিকশা থেকে নেমে বললাম,
-ব্যাপার কি?
.
ও আমার কথার জবাব দিল না।আমাকে ভাল করে দেখতে লাগল।আমি বললাম,
-কি হল?
-বাহ,তোমাকে দারুন লাগছে এ শার্ট এ।
-ধন্যবাদ,বাট তুমি বাইরে কেন?
-আমাদের বাড়িতে তোমার খাওয়া নাই,
-কেন?
-কারণ আমার দেওয়া শার্ট তুমি পছন্দ করো নাই,
-আমার ক্ষুদা লাগছে,
-মিথ্যা বলবানা,তুমি খেয়েই আসছ।নয়ত যখন ডাকছিলাম তখনই বাসায় চলে আসতা।
-হুম,,তো এখন কি করব,
-বাসায় যাবো।রিকশা ডাকো,,
-আচ্ছা।
.
আমি রিকশা ঠিক করলাম।অবশ্য আমার চিন্তা ছিল অন্য, খেয়ে দেয়ে একটু ঘোরা ঘুরি করব।
তবে এটাও ভাল কোন ঝুট ঝামেলা ছাড়া সুস্মিতা বাড়ি ফিরছে।আগের বার যখন রাগ করে আসল পরে অনেক কষ্ট করে ওকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছিলাম সেই হিসেবে এবারের টা ভাল।
.
রিকশা কিছুদুর যাওয়ার পর সুস্মিতা আসল বোম টা ফাঁটালো।ও আমার ঘাড়ে ওর মাথা রাখতে রাখতে বলল,
-খুব সহজে সব ঠিক হচ্ছে তাই না?
-মানে,
-এই যে আমি সহজে তোমার সাথে যাচ্ছি।
-হুম,,
-আসলে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে,
-কি?
-বাসায় চলো,,,আজ রাতে দিব।
.
আমি তো সুস্মিতার কথা শুনে অনেক খুশি হলাম, কি উপহার আছে এই চিন্তা আর মাথা থেকে গেল না। রাতে যেহেতু দিবে সেহেতু দারূন কিছু আশা করা যেতে পারে।ওকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে একটু কাজ ছিল একখানে, সেখানে গেলাম।
.
কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল, তারপর বাসায় আসার জন্য রওনা দিলাম। মনে পড়ল সুস্মিতা উপহার দিবে আর তার বদলে যদি আমি কিছু না দেই তাহলে ব্যাপার টা কেমন হয়ে যাবে।
রাস্তার পাশের এক ফুলের দোকান এ গিয়ে এক তোরা গোলাপ নিয়ে চলে এলাম।বাসায় এসে দেখি বাসার পরিবেশ খুব সুন্দর।
.
ভালভাবে ডিনার সেরে নিয়ে ঘরে উপস্থিত হলাম,
ঘরে গিয়ে দেখি সুস্মিতা সেজে গুজে বসে আছে।আমি একটা গোলাপ ওর মাথায় গুজে দিলাম।উপহারের আশায় আমি খুব এক্সাইটেড।
সুস্মিতা বলল,
-চোখ বন্ধ কর,
-কেন?
-করইতো,
-হুম,
.
আমি চোখ বন্ধ করলাম।ভাবলাম আমার সাথে ভাল কিছু হবে কিন্তু তেমন কিছু হল না।
ত্রিশ সেকেন্ড যেতেই বলল,
-চোখ খোল,
.
আমি চোখ খুলে দেখি অনেক গুলো প্যাকেট বিছানার উপর।
-কি এগুলো,
-শার্ট,
-কার জন্য,
-তোমার জন্য,,গিফট বলছিলাম না,তোমার গিফট।
.
মোট তিনটা প্যাকেট,একটা করে প্যাকেট খুলছি আর বিরক্তি হচ্ছি।তিনটা প্যাকেটে তিনটা শার্ট, আর তিনটা শার্ট এর রং ও নীল।কেমন লাগে বলেন তো?
.
-এসব কি কিনছ?
-কেন?
-একি কালার?
-হুম, ডিজাইন আলাদা।তোমাকে নীল কালারের শার্ট এ এত সুন্দর লাগে জানতাম না।তাই কিনে নিয়ে আসলাম।ভাল করছি না।
-হুম,ভাল করছ।
-দেখছ কত ভালবাসি তোমাকে,,
-হুম,আমি ভাবছিলাম কি না কি উপহার,
-কি ভাবছ?
-কিছুনা
-আচ্ছা,যাও।ট্রাই করতে থাক।
-হুম,
.
শালার ভাগ্য,কি উপহার ভাবলাম কি উপহার পেলাম।এই মেয়টা এত ভালবাসে কেন আমারে। সব অতিরিক্ত ভালবাসার সমস্যা।
ভাবছিলাম মজা হবে রাত্রে,এখন শার্ট পরে ট্রায়াল দিতেছি।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×