somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিভৃতচারী ভাষা-কারিগরঃ এলফ্রিদে ইয়েলিনেক

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অস্ট্রিয়ান লেখিকা এলফ্রিদে ইয়েলিনেক ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চেক বংশোদ্ভূত ইহুদী এবং মাতার পূর্বপুরুষ ক্যাথলিক রোমানিয়ান-জার্মান। স্টাইরিয়াতে জন্ম হলেও ইয়েলিনেক বেড়ে উঠেন রাজধানী ভিয়েনাতে।

ইয়েলিনেকের রচনায় অস্ট্রিয়ান সাহিত্যের ঐতিহ্য লক্ষণীয়। রবার্ট মুসিলের বিষণ্ণতা এবং ফ্রাঞ্জ কাফকার রসবোধ দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত।

তার প্রথম উপন্যাস বের হয় ১৯৬৯ সালে। বছর দুয়েক পর অস্ট্রিয়ান কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী দেড় দশক সক্রিয়ভাবে এই যাত্রা অব্যাহত থাকে।

১৯৭৫ সালে ইয়েলিনিকের চতুর্থ উপন্যাস ‘উইমেন এজ লাভার্স’ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। উপন্যাসের কাহিনী ব্রিজিত ও পলা নামক দুই রমণীকে নিয়ে। তারা উভয়েই স্বামী, সন্তান নিয়ে ভবিষ্যতের সুখী জীবনের স্বপ্ন দেখে। ব্রিজিতের স্বপ্ন সত্যি হয় এবং সে সামাজিক মর্যাদা অর্জন করে। যদিও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে চিরতরে বিসর্জন দিয়েই ব্রিজিত তা লাভ করে। অন্যদিকে পলার বিশ্বাস ভালবাসা নামক ভ্রম দ্বারা চূর্ণ হয়ে যায়।

১৯৮৩ সালে প্রকাশিত ‘দ্য পিয়ানো টিচার’ ইয়েলিনেকের সম্ভবত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। মাতা, কন্যা এবং কন্যার প্রেমিকের মধ্যে এক ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্ব তিনি তুলে ধরেন এই উপন্যাসে। নারীজীবনের কঠিন বাস্তবতার পাশাপাশি নারী চরিত্রের নিষ্ঠুরতাও ইয়েলিনেক আশ্চর্য শৈলীতে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া তার অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে ‘ওয়ান্ডারফুল, ওয়ান্ডারফুল টাইম্‌স’; ‘গ্রিড’ এবং নাটকের মধ্যে ‘সাইলেন্স’; ‘ক্লাউডস,হোম’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার অধিকাংশ লেখায় যৌনতা, নারীদের উপর পীড়ন, শোষণ, নির্যাতনের বিষয়টি পাওয়া যায়।
ইয়েলিনেক ২০০৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পদক লাভ করেন। নিভৃতচারী এই লেখিকা পদক গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান না করে কেবল শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ভিডিও পাঠিয়ে দেন।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু ছবি ‍কিছু কথা-----------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

-----------------



ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×