somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঁশ দেয়া মেম্বার

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিরাজগঞ্জ আমার জন্মস্থান হলেও গ্রামের সাথে আমার হৃদ্যতা তৈরি হয় মূলত বিয়ের পরে ঘন ঘন শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার কারনেই। শহরে পাশের ফ্লাটে কে থাকে সেই খবরও অনেকে রাখে না কিন্তু গ্রামে সেটা হওয়ার কোনো উপায় নেই। এখানে সবাই সবাইকে চিনে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই এরা থমকে দাঁড়াবে, বলবে "বাবা, তোমারে তো চিনলাম না! তুমি কোন বাড়ির ছাওয়াল?" গ্রামের মানুষরা এমনিতেই সহজ সরল হয় আর আমাদের এই অঞ্চলের মানুষদের সরলতার একটা নিজস্ব সুনাম আছে। কাউকে সাহায্য করতে পারাটা এদের জন্য খুব আনন্দদায়ক একটা ব্যাপার। আপনি যদি কারো কাছে বাড়ির ঠিকানা জানতে চান, দেখবেন এরা আপনাকে সানন্দে সেই বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসছে। তবে চাপাবাজিতে এদের জুড়ি মেলা ভার। পরনে ছেড়া শার্ট, বাসায় হয়তো বাজার নাই কিন্তু কথা দিয়ে এরা অনেক রাজা উজির মেরে ফেলবে। আর এই অঞ্চলের মানুষের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো, এরা আদর করেও এমন সব ভয়ংকর গালি দিয়ে বসে যা শুনলে আপানার নিজেকেই অপবিত্র মনে হবে।
কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনের সময় আমি গ্রামেই ছিলাম। সেই সময়ের একটা মজার ঘটনা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না। গ্রামের এক ভদ্রলোক মেম্বার পদপ্রার্থী। উনার নিজস্ব বাঁশের কারবার আছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে বিশেষ করে দাফনের সময় বাঁশের প্রয়োজন হয়, গ্রামের অনেক দরিদ্র্য পরিবারের সেই বাঁশ কেনার সামর্থ্য থাকে না। উনি অনেক অসহায় পরিবারকে বিনামুল্যে বাঁশ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। যাহোক, উনি উনার নির্বাচনী প্রচারণায় কিভাবে মাইকিং করেছেন সেটা হবুহু তুলে ধরছি "ভাইসব, আপনাদের অতি আপনজন গ্রামের বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক জনাব চান মিয়াঁ এইবার মেম্বার পদে নির্বাচন করতেছেন। আপনারা সবাই জানেন যে, উনি গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বিপদে আপদে সবসময় বাঁশ দিয়েছেন। এরজন্য উনি কোনো টাকা-পয়সা নেন নাই। আপনারা যদি উনাকে এইবার ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন তাহলে উনি আবারো আপনাদের বাঁশ দিবেন। এর জন্য আপনাদের কোনো টাকা পয়সা দিতে হবে না।"

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×