somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওই চাঁদ আর তুমি

১১ ই মে, ২০১৭ রাত ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জানো!
সারাদিন এত কর্মব্যস্ততার পরেও
মেঘহীন কোনকোন পূর্ণিমারাতে,
বাড়ির সামনের পথটায়
ঘাসের উপর বসে থেকেই কেটে যায়...!
প্রহরগুলো, শূন্যতার নির্মম কষাঘাতে
অসহ্য দারুণ জ্বালায় পুড়ে পুড়েও গভীর থেকে
শেষ হয় কত রাত তোমার অপেক্ষায়।
আমি প্রেম বুঝি না,
খুঁজি না ভালোবাসা কারে কয়।
তুমিই তো বলেছিলে 'তুমি আসবে'
তুমি আসবেই আমার কুঁড়েঘরে।
তোমারি মত-শান্ত নীরব আকাশের নিচে
প্রায়ই একা একা বসে থাকি
তুমি আসবে না জেনেও।

তুমি আবার ভেবো না....
চাঁদের নিঃসৃত জোছনায় চোখদুটো রাঙাবো,
ভাবের দেশে উঁড়বো সাদা মেঘে ভেসে ভেসে।
তাই, নীরবে নিভৃতে নিঃশব্দে বসে থাকি
চুপিচুপি লিখবো বলে নতুন কোন কবিতা...!
আজকাল কবিতা'রা সব
কেমন ঝাঁঝালো বিষাদে ভরে থাকে, জানো...!
কোন রোমান্টিকতা এখন আর আমাকে
সেই আগের মতো আকৃষ্ট করেনা...
অনুভূতি গুলোও যেন বড্ড ভোতা হয়ে গেছে এখন!
রসে ভরা স্বর্গীয় সুখ স্পর্শী
লেখা ভালোবাসা'র শব্দ গুলো কেমন যেনো
মিথ্যে মনে হয়! আমি আর
কিছুই করতে পারিনা বিশ্বাস! মনে হয়,
বারবার মনে হয়-সব মিথ্যে আর ছলনা....!

জানো, ভালোবাসা'র কথা শুনলেই
দম বন্ধ হয়ে আসে! নুতন কোন
স্বপ্ন দেখার স্বাদ আর তখন জাগে না!
নিঝুম চন্দ্রিমারাতে- জোছনা মাখা
শরীর জুড়ানো শীতল বাতাসেও
এই মন আর জুড়ায় না! ভালোবাসা'র
অনুভূতি সব ঘুমিয়ে থাকে, জাগে না! তাই'তো
অচেতন অবগাহনে নির্বাসিতই রয়ে গেল-
আমার কবিত্ব আর কবিতা....!
আমি কবিতা হারা...
তোমাকে হারিয়ে ছিলাম যেদিন থেকে !
তবু কেন পূর্ণিমায়,
চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকি ? জানো!
ওই চাঁদের মাঝখানে ভেসে থাকো তুমি।
আমার দিকে চেয়ে হাসো-মুক্ত ঝরা
ভুবনজয়ী হাসি, ঝর্ণার মতো ঝরে তোমার
অমিত ভালোবাসা।
আমি সেই হাসিতে'ই একটু সুখ খুঁজি,
হৃদয় ভরাতে চাই সেই মুগ্ধতায়...।।

নিশিত! অন্ধকার পৃথিবীর
চারিদিক নীরব স্তব্ধ-সুনসান শূন্যতা ভুলে,
নিঃসঙ্গতা'র যন্ত্রণায় বুকে
চেপে রাখা কষ্টের আত্ম-চিৎকার, যৌবনা
প্রতিটি পূর্ণিমায়- শুনি আনন্দ তৃপ্তির হাসি-ছন্দ,
মধু জোছনায় ঘটে রাত্রির সাথে চাঁদের মিলন।
ভালোবাসা বুঝি এমনই, হায়! মুগ্ধতায়
দুঃসহ যন্ত্রণা না-পাওয়ার,
বিরহের যতো কষ্ট, নিমিষেই
ভুলিয়ে দিতে পারে প্রেমের স্পর্শ।
ভীষণ কষ্ট হয় আমার, পুড়ি, পুড়তেই থাকি
চাঁদ আর রাতের মিলনকালে ভেবে তোমায়।
যৌবনে ফেলে আসা স্মৃতি গুলো-যে মনে পড়বেই,
হয়'তো নাড়িবে পুরনো প্রেম-তোমার মনটাকে,
জলে ভরবেই দু'নয়ন, ওই
পাষাণ হৃদয়-যে তখন কাঁদবেই।
দারুণ যন্ত্রণা হয় আমার বাম বুকটায়,
দুই চোখে শ্রাবণের বাঁধভাঙা অশ্রুধারা
আটকাতে পারিনা কিছুতেই! আজও
মনে হয় ভালোবাসি তোমায়! ভীষণ ভালোবাসি!
চোখের সামনে চলে আসা চাঁদকে, তুমি ভেবে
বলতে চাই মনের যতো না বলা কথা, হৃদয়ের
যতো সুখ আর প্রেম মিশিয়ে।
ভুলে যাই একাকীত্ব ওই চাঁদমুখ দেখে সহজেই।

তুমি কর, শুষ্ক সাদা মেঘের আঁড়ালে
নিজেকে লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা। তাতে-ই
আমার ভালোবাসা হয়ে ওঠে যেন বিদ্রোহী!
মনের অজান্তেই বেরিয়ে আসে
বিষাদিত সব কথা,
আমি বিড়বিড় করে বলতে থাকি!
সেই কথা গুলোই সংগ্রহ করে বাতাস...
আমাকে শুনিয়ে বলে,
এই নাও তোমার সুন্দর একটি কবিতা।
আমি মুগ্ধ হই, আবার বিস্মিত...! বহুদিন,
বহুকাল আমার লেখা হয়নি কোন কষ্টের কথা,
বিষণ্ণতায় ভরা ভালোবাসা আর খুঁজি'ইনি...!

যেদিন থেকে হারিয়ে গেছো তুমি
ভুলেছো আমাকে দেয়া সব ভালোবাসা...!
সেদিন থেকেই খুব বিশৃঙ্খল শব্দ'রা সব
হয়েছে এলোমেলো, বড্ড উশৃঙ্খল-শাসন হারা!
কিছুতেই আমি সাজাতে পারিনা সারি সারি!
বড় কষ্টের! বিষণ্ণতায় ভরা দুঃসহ যন্ত্রণার...!
ভুলেই যদি যাবে সবকিছু, হারিয়েই যাবে যদি,
কি প্রয়োজন ছিল-এত আয়োজন করে হারাবার!!
মিলে না উত্তর, মিলাতে পারিনা আর সেই কাব্য,
যে অমর কাব্যের নাম 'ভালোবাসা'!!!

জীবনের সব স্বাদ আহ্লাদ যতো ইচ্ছে
মনের সুপ্ত বাসনা গুলো আজ দুঃখক্লিষ্ট-যন্ত্রণার।
কখনো আবার ভীষণ মুগ্ধতায় তৃপ্ত সেই মহাকাব্য
ভালোবাসা! আমি হারিয়ে ফেলেছি!
অনুভবে-নিভৃতে নিরালায় বসে বসে কেঁদেছি
কষ্টের মহাপ্লাবনে! একটু সহানুভূতির আশায়
ছোটে গিয়েছিল আমার অতৃপ্ত আত্মা!!
তুমি, সেদিনও খেলেছো লোকচুরি! হৃদয়ের
কোন আহ্বানই তোমাকে আর ফেরাতে পারেনি!
বেদনার রিক্ততায় সিক্ত পাথর চোখ দুটি থেকে
ঝরে পড়া রক্ত-কান্নাও, তোমার পাষাণ মনে
মায়া জাগাতে পারেনি! তুমি উল্লাসে উল্লাসে
মাতিয়া ফিরেছো, তোমার সুখের উম্মাদনায়!
আমার কষ্ট, আমার কান্না তোমাকে
পারেনি ফেরাতে! তুমি বুঝ'নি,
কখনোই বুঝতে চাও'নি আমার হৃদয়ের
আকুলতায় ভরা সেই- মিনতি!!

জানো, গভীর রাত্রে যখন
চারিদিকে সুনসান, নীরবতা আর শূন্যতায়
ডুবে রাত্রির নিশ্চুপ পথচলা,
পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে থাকে মগ্ন। তখনো
আমি জেগে থাকি, বদ্ধ ঘরের আঁধার ঠেলে,
ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি নিঃশব্দে,
ওই চাঁদটির মাঝে তোমায় দেখবো ভেবে...!
আমি আর চাঁদ, তাকিয়ে থাকি মুগ্ধ নয়নে!
এত কষ্ট! এত বিরহ!
পেরিয়ে এসেও কতশত যন্ত্রণা...!!
ওই চাঁদের দিকে চেয়ে মনের গভীর থেকে
বেরিয়ে আসে বারবার-
'তোমরা সমান অপরূপা আমার পুড়া চোখে,
মুগ্ধতায় সমান- 'ওই চাঁদ আর তুমি'।
এই দগ্ধ হৃদয়ের গহীনে, এখনো
রয়ে গেছে- তোমার ভালোবাসা'!! নয়ন।।




[ ক্ষমা করবেন, এই কবিতাটি গত চারদিন আগে আরও তিনটি কবিতার সাথে ভিতরে প্রকাশ করেছিলাম। কবিতাটি আমার ভালো লাগে খুব তাই আলাদা একক পোষ্ট করে রাখলাম। কারো বিরক্তিকর মনে হলে ক্ষমা করবেন। ]
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৭ রাত ৮:৩৯
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×