somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রজাপতি নিবন্ধ নাকি ঘটক মহাশয়?

০১ লা জুন, ২০০৬ ভোর ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক ধরণের আনন্দ ও সুখের সংজ্ঞা জেনারেশান বদলের সাথে বদলায়। আমরা ছোটবেলা সে সব খেলনা নিয়ে খেলতাম, আজকের শিশুরা তা হয়তো ছুড়েই ফেলে দেবে। এর ভালোমন্দ বিচারে এখন যাচ্ছি না। আমার আলেচ্য বিষয় হচ্ছে, এই জেনারেশান গ্যাপ আমাদের সমাজের বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরীর প্রশ্নে কতখানি প্রভাব বিস্তার করে।

আমাদের দেশে অধিকাংশ বিয়েই বাবা মা বা আত্মীয় পরিজন ঠিক করে থাকেন। একদিন দু'দিন হয়তো ছেলে মেয়ের দেখাদেখি হয় ও এর উপর নির্ভর করে নেয়া হয় সামনে পড়ে থাকা বিশাল বাকী জীবনের সিদ্ধান্ত। দুপরেই, বিশেষ করে মেয়েদের বিবাহিত জীবন মুখের না হলেও, তা মেনে নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না সাধারনত:। কোন কোন েেত্র স্বামীর অত্যাচার, অনাচার এমনই দৈহিক নিপীড়ন সহ্য করেও মুখ বুঝে কাটিয়ে দিতে হয় সারা জীবন। আর্থিক নির্ভরশীলতা, সামাজিক নিশ্চয়তার অভাব, সামাজিক সন্মানের ফাঁকা আবরণ নিজেস্ব জীবনের প্রতি নিজের অধিকারের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানের জন্ম হয়ে যাবার পর তাদের কথা ভেবে অসন্মানের চুড়ান্ত পর্ষায়ে পৌছনোর পরও হাসিমুখে সমাজকে জানান দিতে হয়, 'ভালো আছি'। যা বলছি একটাও ফাঁকা বুলি নয়, আশেপাশে তাকালে উদাহরনের অভাব থাকবে না।

ক'দিন আগে বাংলাদেশের কোন এক শিল্পপতির সাথে ফেনে আলাপ হচিছল। তার সাথে আমার আগে থেকে কোন পরিচয় ছিল না। আমাকে ফোন করেছিলেন তারই কোন এক আত্মীয় ও আত্মীয়ার দাম্পত্য কলহোলের সমাধানের জনে। তার আত্মীয় ও আত্মীয়া আমার বিশেষ পরিচিত, সেজন্যেই আমাকে ফোন করা । উনি উদাহরন টেনে বললেন, ' অমিতো জানি আমার নীজের স্ত্রী ও আমার যোগ্য নয়, আমার প্রতিষ্ঠার কারনেই বড় বড় পার্টিতে যেতে হয় আমাকে, আমার বউ সেখানেই একেবারেই বেমানান। তারপরেও তার সাথে সংসার করছি আমি'। অবাক হয়ে গেলাম। আমার মতো একজন অপরিচিত লোকের কাছে নিজের স্ত্রী সম্পর্কে অসন্মান প্রকাশেও সামন্যতম দ্বিধা নেই তার। সী্ত্রর সাথে তার দৈনন্দিন চলাফেরায় কি তার প্রকাশ একেবারেই ঘটে না ? আমি এধরনের বক্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদী। এবারও তাই করলাম বলে ভদ্রলোকের সাথে ছোটখাট একটা ঝগড়া হয়ে গেল। তার মতো বিত্তশীল, শিক্ষিত মানুষের চিন্তান দৈনতা আমাকে আঘাত দিল বেশ। আমি বাংলাদেশে পরিচিত কয়েতজনের কাছে এ নিয়ে আলাপ করলাম। তারা বলল বর্তমান দেশীয় সমাজের প্রেক্ষ্রাপটে এ চিন্তা একেবারেই স্বাভাবিক। তাতে আমার হতাশা বাড়ল বই কমলো না।

ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানীতে বেশীরভাগ বাংলাদেশীই রেষ্টুরেন্টে কাজ করে থাকেন। তাদের সিংহভাগই প্রথমে স্থানীয় মহিলাদের বিয়ে করে প্রথম এ দেশে থাকাটা নিশ্চিত করে নিয়েছেন। অনেকের আগের স্ত্রীর সাথে সস্তানও রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বিয়েটা কাগজে কলমে ছিল, কোন কোন ক্ষেত্রে প্রেমের অভিনয় করে কোন বয়সী মহিলাকে বাগানো হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে সত্যিকারেরই ভালবাসা। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় দলই ভারী বেশী। কাগজ হবার পর ছাড়াছাড়ি হয়েছে। বাংলাদেশে বিয়ে করছেন বা করেছেন অনেকেই। সেখানেও ফাঁকি। প্রায় সবাই আগের বিয়ের ও সন্তানের কথা গোপন রেখেছেন। নিজেদের সত্যিকারের পেশার কথা প্রকাশ করেন নি। তাদের চেয়ে অনেক বেশী শিক্ষিত, সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করে বিদেশে এনেছেন। এ মেয়েদের অধিকাংশই মানসিক দিক থেকে অসুখী, নিজেদেরকে প্রতারিত মনে করেও প্রতারক স্বামীর সাথে সংসার করে যাচ্ছেন। বিয়ে করে আনার পর যত দ্রুত সম্ভব সন্তানের জন্ম দেয়া হয়, যাতে ফিরে যাবার পথ আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমার প্রশ্ন,এই ছেলেমেয়েদের কি ভবিষ্যত এই বিভাজ্য পৃথিবীতে ? এই মেয়েদের জীবনের এই বঞ্চনার জন্যে দায়ী কে ? নাকি জীবনটাই ফাঁকি কথাটি স্বীকার করে এই প্রতারনাকেই স্বাভাবিক বলে কাটিয়ে দিতে হবে বাকী জীবন ও বেশীরভাগই তাই করছেন। 'প্রতারনাই স্বাভাবিক বা প্রাপ্য', এর ভয়াবহ প্রভাব কি সমাজ, সংসার ও ভবিষ্যত প্রজন্মের উপর পড়বে না ?

আমার মতে সঙ্গী নির্বাচনের প্রশ্নে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের আরো বেশী সাবলম্বী হওয়া দরকার। বাবা মা ,আত্মীয় ও ঘটকের উপর নির্ভর না করে নিজেরই উদ্দোগী হওয়া প্রয়োজন। নিজের ভালো লাগার মানুষটি নিজেই খুজে নিতে পারলে ভুল হবার সম্ভাবনা অনেক কম থাকবে। এতে যৌতুক প্রথার বিলুপ্তি ঘটবে। লেখার প্রথমেই যে 'জেনারেশান গ্যাপের' কথা বলেছি, সেখান থেকেই শুরু হয় যৌতুক প্রথার। এর প্রভাব না থাকলে এ কদর্য প্রথা বন্ধ হতে বাধ্য। বলছি না বাবা মা ছেলে মেয়ের অমঙ্গল চান। কিন্তু অনেক েেত্রই নিজের অজান্তে তা করে বসেন, যেমন করেছেন নাসিমার পরিচিত মেয়েটির বাবা-মা।

তারপরেও অনেকের জীবনেই বৈবাহিক সমস্যা থাকবে, দাম্পত্য কলহ থাকবে, অসুখী জীবন থাকবে। এ নিয়েই পৃখিবী। তারপরেও একটা কথা মনে রাখা দরকার, 'জীবন একবারই ও একবারের এই জীবনে সুথী হবার অধিকার প্রতিটি মানুষের। এ অধিকার মানুষের লিঙ্গ, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবারই'। এই সুখ বা দু:খের দায়ভার প্রতিটি মানুষের একান্ত নিজস্ব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনফিং - দরিদ্রদের একজন ত্রানকর্তা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৭

.



শি জিনফিংয়ের নেতৃত্বে চীন ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তাদের দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×