বাইরের উদ্দীপনা এতোটা দেখা যাচ্ছেনা। বাংলাদেশে যা শুনেছি, সেরকম পোষ্টার ও পতাকার ছড়াছড়ি নেই রাস্তাঘাটে। তবে বাসে, ট্রামে ও পাতালরেলে পরিকল্পিত ভাবে পোষ্টার লাগানো হয়েছে। ভেতরে ভেতরে যে একটা উত্তেজনা, তা টের পাওয়া যাচ্ছে যথেষ্ট। অফিস,আদালতে, সবখানেই আলোচনা হচ্ছে এ নিয়ে। একজন আরেকজনের সাথে, কোন কোন েেত্র বাজীকরদের মাধ্যমে বাজী ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে ও পানশালায় বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে। সেখানে অনেক আগে থেকেই বসার জায়গা রিজার্ভ করে রেখেছেন অনেকেই। আগের পুরানো অলিম্পিক স্টেডিয়ামে, যেখানে ফুটবল খেলান বিরাট মাঠও রয়েছে, সেখানে বিশাল পর্দা তৈরী করে খেলা দেখানোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
আরেকটা বলার মতো বিষয় হচ্ছে, রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ আগে থেকেই শেষ করা হয়েছে, যাতে খেলার সময় জানজটের কোন সমস্যায় না পড়তে হয়। দেশের বাইরে থেকে অনেক দর্শক আসছেন মিউনিখে। হোটেলগুলো বুক হয়ে আছে অনেক আগে খেকেই। সেজন্যে সরকারী যানবাহনের পরিমানও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও এসেছেন ত্রীড়া সাংবাদিকরা। খেলার একদিন আগেই তারা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা সমপ্রচারের সুবিধিিদ, ইটারনেট যোগাযোগ ঠিকঠাক করে নিয়েছন।
তবে নাজী সমস্যার ভয়ে ভীত অনেকেই। তারাও বিভিন্ন সময়ে সভা সমিতির আগাম ঘোষনা দিয়েছে। তাই পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরো জোরদার করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সরকার খেলা অনুষ্ঠানকারী দেশ হিসেবে নিজেদের সুনাম বজায় রাখায় বদ্ধপরিকর। 1972 এর অলিম্পিকে সন্ত্রাসীদের আক্রমন এখনও জার্মানদের চিন্তাভাবনায় দু:সপ্ন হয়ে আছে। তার পুনরাবৃত্তি যাতে আরেকবার না হয়, তার সবরকম প্রস্ততিই নেয়ার চেষ্টা চলছে।
তথাকথিত বৃটিশ হুলিগ্যানসদের নিয়ে ভীত অনেকেই। বৃটিশ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তালিকার ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে তিনহাজার চিহ্নিত হুলিগ্যানসদের জার্মাসীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দোকানপাটে ফুটবলসম্পর্কিত পন্যের অবাধ ছড়াছড়ি। তার মাঝে রয়েছে, পতাকা, ফুটবল জার্সি, বল, ফুটবলের লেগো সহ বিয়ার ইত্যাদি। অনেক দোকানে ঢোকার সময় জার্মান পতাকার রংএ তোরণ সাজানো। তবে মিউনিখ প্রাদেশিক সরকারের একটা সিদ্ধান্ত, রাত দশটার পর বাইরে আনন্দ-ফুর্তির নিষেধাজ্ঞা ফুটবল প্রেমীদের অবাক করেছে বেশ। তবে এই সিদ্বান্ত ওদের কতোটা দমাতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

