আমার এক কবি বন্ধু থাকে ফ্রাংকফুর্টের কাছাকাছি। খুব ভালো লেখে, আমি নিজেও তার কবিতা খুব পছন্দ করি। একুশের মেলায় তার কয়েকটি বইও বেরিয়েছে। বাংলাদেশের নামী দামী কবিরা তার লেখার প্রশংসা করেছেন ও তার লেখা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তার কবিতাগুলো তার জীবনযন্ত্রনার আগুন থেকে সৃষ্ট। আমার মতো সখের লেখা কবিতা তার কলম থেকে আসে না। তার প্রতিটি লেখা, কবিতার প্রতিটি ছত্র এক যন্ত্রনাহত সত্বার অভিমান। এ অভিমান তার স্রষ্টার কাছে, মানুষের কাছে। স্রষ্টার কাছে, কারণ স্রষ্টা এক দুরারোগ্য ব্যাধিকে তার চিরসঙ্গী করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, আর মানুষের কাছে একারণে যে, তার কবিসত্বার সাফল্যে ঈর্ষাকাতর বাঙ্গালীরা তাকে কষ্ট দিয়েছে অনেক।
একটি মানুষ, যার জীবনের এক কবিতা ছাড়া আর কোন সম্বল নেই, তার এই সামান্য সম্বলের প্রতি মানুষ কি ভাবে ঈর্ষাকাতর হতে পারে তা আমি ভাবতে পারি না। ওদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি অনেক, ওরা বোঝে নি, বুঝতে চায় নি বরং আমাকে ওদের দলে টানার চেষ্টা করেছে। এই প্রাচুর্যের দেশ জার্মানীতে প্রচন্ড আর্থিক কষ্টে জীবন চালায় বন্ধুটি। সরকারী সাহায্য পায় বলে টিকে আছে, চিকিৎসা চালাতে পারছে। তাতেও হিংসা এই স্নবিষ্ট বাঙ্গালী সমাজের। চারিদিকে ছড়িয়ে বেড়ায়, এর কোন রোগ নেই, কাজ করে থেতে চায়না, তাই সব বানানো কাহিনী। এদের গায়ে জোর বেশী, কথার জোর বেশী, তাদের কথাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওরা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের নামে অনুষ্ঠান করে, বন্ধুটিকে তার কবিতার বই সেখানে বিক্রি করার অনুমতি দেয় না। অথচ নিজেদের বস্তাপচা লেখা বাজারে ঠিকই ছাড়ছে।
সে স্টিভ ম্যান সিনড্রম নামে (এস এম এস) বিরল দুরারোগ্য ব্যাধিতে আত্রান্ত। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন ঔষধ এখনো বের করা যায়নি। শরীরের প্রতিটি মাসলে নাকি প্রচন্ড ব্যাথা হয়। বিছানায় পিঠ ঠেকালে প্রতিটি স্পর্শ নাকি আগুনের মতো জলে উঠে। কড়া পেইন কিলার ও ইনজেকশান একমাত্র চিকিৎসা, যা জীবনীশক্তিকে নি:শেষ করে ধীরে ধীরে। পুরো জার্মানীতে 54 জন এ রোগে আক্রান্ত। এর ঔষধ আবিস্কার করে ঔষধকোম্পানীগুলো লাভ হবার কথা ও নয়। আমি তার ডাক্তারী কাগজপত্র দেখেছি, পরিচিত ডাক্তারদের সাথে কথাও বলেছি।
নিজের পায়ে দাঁড়াবার আকাঙ্খায় অনেক খুঁজে হালকা একটা কাজ নিয়েছিল। কাল ফোনে ওর সাথে কথা হলো। দেড়মাসে পাঁচবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এভাবে কি কাজ করা যায়! এ মুহুর্তে আর আত্মবিশ্বাস তলানীতে ঠেকেছে। আমি দুরে থাকি, মাঝে মাঝে ওর ওখানে যাই, ওর পাশাপশি যতটুকু পারি, দাঁড়াই।
এ অসুস্থতা সম্পর্কে কারো কোন ধারণা থাকলে জানাবেন দয়া করে। সেই সাথে বন্ধুটির আরোগ্যের জন্যে দোয়া বা শুভকামনা করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০০৬ সকাল ৭:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




