প্রতিটি নির্বাচনই একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সুতরাং প্রতিটি নির্বাচনের পরই বাজনৈতিক দলগুলো কোন কোন ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অন্যথায় পারস্পরিক কোয়ালিশানের মাঝে সরকার গঠনে প্রয়াসী হয়। সরকারী কোষাগার ভেঙ্গে আরেকটি নির্বাচন যে ভোটারদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, সে ভয়টুকু তাদের ভেতরে রয়েছে। সুতরাং হাসিনা খালেদার মতো কামড়াকামড়ি না করে দলগুলো নিজেদের মাঝে আপোসের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে বাধ্য হয়। জার্মানীতেও সোস্যাল ডেমোক্রাট ও রক্ষনশীলরা কোয়ালিশান করে সরকার গঠন করতে বাধ্য হয়েছে।
তার পাশাপাশি আমাদের দেশে কি ভয়ংকর চেহারা ! রাজনৈতিক দলগুলোর কোন নীতিবোধ নেই। রাজনৈতিক নেতাদের ভেতরে সামান্যতমও সততাবোধ নেই। এদেরকে মানবিক ও সাংবিধানিক আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানো হলে একেকজন একেকটি জঘন্য অপরাধী হিসেবেই প্রমানিত হবে। এরা তা নিজেরাও জানে বলে একটি দলের প্রতি আরেকটি দলের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধও নেই। তা নেই বলেই নির্বাচনের আগে তত্তাবধায়ক সরকার গঠন করতে হয়। এ তত্তাবধায়ক সরকারের পেছনে কত কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, তা কেউ কখনো ভেবে দেখেছেন কি? এই সোনার হরিণের পোষা আমাদের দেশের মতো একটি গরীব দেশের বিপন্ন অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরো বেশী দেউলিয়া করে। কিন্তু আমাদের তাতে কোন আপত্তি নেই। আমরা তাই এই সোনার হরিনের কাধে ভর করে আরেকটি চোর গনতান্ত্রিক সরকারকে নির্বাচন করে মহা আনন্দিত হই। নিজেদেরকে অসহায় শিকারের মতো তাদের সামনে সমর্পন করি। আমি জানি না পৃথিবীর আর কোন দেশে এই তত্তাবধায়ক সরকার প্রথা প্রচলন আছে কি না বা একটি দেশের গনতান্ত্রিক কাঠামোতে এই তত্তাবধায়ক সরকার কোন ইতিবাচক প্রভাব আনতে পেরেছে কি না। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর পরস্পরের সততায় অবিশ্বাসী। তার তার জের টানতে হচ্ছে আমাদের দেশের মতো গরীব দেশের গরীব মানুষের।
ক'ুদিন আগে এক ব্লগার সামরিক শাসন এর প েকথা বলে অনেক গালাগালি খেয়েছেন। একটি গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হয়ে এমন এত দাবী গালাগালিরই যোগ্য। আমি নিজেও দিতাম যদি আমাদের দেশের গনতন্ত্রের উপর সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকতো। যারা দিয়েছেন তাদের নিশ্চয়ই এ শ্রদ্ধাবোধটুক রয়েছে। তাদের এ শ্রদ্ধাবোধের উৎস জানা থাকলে আমি নিজেও আনন্দিত চিত্তে তাদের সাথে যোগ দিতাম। আমার জানা নেই বলে সেই ব্লগারের বক্তব্যের বিরোধী হয়েও তাকে গালাগালি দিতে দ্বিধা বোধ করি। সেই সাথে এটুকুও টের পাই যে, তার এই বক্তব্য সামরিক শাসনের তার ভালবাসা থেকে সৃষ্ট নয়, বরং এক রাজনৈতিক হতাশা থেকে সৃষ্ট। এবং এই হতাশা যে একেবারেই অমুলক নয়, তা আর কোন প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না।
কোন রাজনৈতিক দল ও পথকে সমর্থন করা যাবে কি না, তা নির্ভর করে রাজনৈতিক নীতিবোধ ও লক্ষ্যের উপর। নীতিবোধ ও তার নির্ধারণ সেখানেই স্থান পায় যেখানে সততার উপস্থিতি বিদ্যমান। আমাদের দেশের রাজনীতিতে সে সততার কোন ছিটেফোটাও নেই। রাজনৈতিক নীতিবোধ সেখানে একেবারেই কোনঠাসা । সুতরাং আমাদের দেশের রাজনীতি শুধুমাত্রই লক্ষ্যের রাজনীতি ও সে লক্ষ্য অসৎ। সেখানে সমস্ত রাজনীতিবিদরাই সমান পাপে পাপিষ্ঠ। সেখানে এই সোনার হরিন পোষা চোখে ঠুলি লাগানো নয় কি ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

