somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তত্তাবধায়ক সরকার: আমাদের ঠুলি পড়া চোখের সামনের সোনার হরিণ!

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিটি গনতান্ত্রিক দেশেই নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক প্রতিনিধি নির্বাচন করে সংসদে পাঠানো হয়। এটাই গনতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নির্বাচিতরা সরকার গঠন করেন বা রিরোধী ভুমিকা পালন করেন। সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা ও আইন পাশের মাধ্যমে দেশের মঙ্গলে অংশীদার হন। এদের মুল ভুমিকা হচ্ছে দেশ ও দশের সেবা।

প্রতিটি নির্বাচনই একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সুতরাং প্রতিটি নির্বাচনের পরই বাজনৈতিক দলগুলো কোন কোন ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অন্যথায় পারস্পরিক কোয়ালিশানের মাঝে সরকার গঠনে প্রয়াসী হয়। সরকারী কোষাগার ভেঙ্গে আরেকটি নির্বাচন যে ভোটারদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, সে ভয়টুকু তাদের ভেতরে রয়েছে। সুতরাং হাসিনা খালেদার মতো কামড়াকামড়ি না করে দলগুলো নিজেদের মাঝে আপোসের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে বাধ্য হয়। জার্মানীতেও সোস্যাল ডেমোক্রাট ও রক্ষনশীলরা কোয়ালিশান করে সরকার গঠন করতে বাধ্য হয়েছে।

তার পাশাপাশি আমাদের দেশে কি ভয়ংকর চেহারা ! রাজনৈতিক দলগুলোর কোন নীতিবোধ নেই। রাজনৈতিক নেতাদের ভেতরে সামান্যতমও সততাবোধ নেই। এদেরকে মানবিক ও সাংবিধানিক আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানো হলে একেকজন একেকটি জঘন্য অপরাধী হিসেবেই প্রমানিত হবে। এরা তা নিজেরাও জানে বলে একটি দলের প্রতি আরেকটি দলের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধও নেই। তা নেই বলেই নির্বাচনের আগে তত্তাবধায়ক সরকার গঠন করতে হয়। এ তত্তাবধায়ক সরকারের পেছনে কত কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, তা কেউ কখনো ভেবে দেখেছেন কি? এই সোনার হরিণের পোষা আমাদের দেশের মতো একটি গরীব দেশের বিপন্ন অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরো বেশী দেউলিয়া করে। কিন্তু আমাদের তাতে কোন আপত্তি নেই। আমরা তাই এই সোনার হরিনের কাধে ভর করে আরেকটি চোর গনতান্ত্রিক সরকারকে নির্বাচন করে মহা আনন্দিত হই। নিজেদেরকে অসহায় শিকারের মতো তাদের সামনে সমর্পন করি। আমি জানি না পৃথিবীর আর কোন দেশে এই তত্তাবধায়ক সরকার প্রথা প্রচলন আছে কি না বা একটি দেশের গনতান্ত্রিক কাঠামোতে এই তত্তাবধায়ক সরকার কোন ইতিবাচক প্রভাব আনতে পেরেছে কি না। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর পরস্পরের সততায় অবিশ্বাসী। তার তার জের টানতে হচ্ছে আমাদের দেশের মতো গরীব দেশের গরীব মানুষের।

ক'ুদিন আগে এক ব্লগার সামরিক শাসন এর প েকথা বলে অনেক গালাগালি খেয়েছেন। একটি গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হয়ে এমন এত দাবী গালাগালিরই যোগ্য। আমি নিজেও দিতাম যদি আমাদের দেশের গনতন্ত্রের উপর সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকতো। যারা দিয়েছেন তাদের নিশ্চয়ই এ শ্রদ্ধাবোধটুক রয়েছে। তাদের এ শ্রদ্ধাবোধের উৎস জানা থাকলে আমি নিজেও আনন্দিত চিত্তে তাদের সাথে যোগ দিতাম। আমার জানা নেই বলে সেই ব্লগারের বক্তব্যের বিরোধী হয়েও তাকে গালাগালি দিতে দ্বিধা বোধ করি। সেই সাথে এটুকুও টের পাই যে, তার এই বক্তব্য সামরিক শাসনের তার ভালবাসা থেকে সৃষ্ট নয়, বরং এক রাজনৈতিক হতাশা থেকে সৃষ্ট। এবং এই হতাশা যে একেবারেই অমুলক নয়, তা আর কোন প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না।

কোন রাজনৈতিক দল ও পথকে সমর্থন করা যাবে কি না, তা নির্ভর করে রাজনৈতিক নীতিবোধ ও লক্ষ্যের উপর। নীতিবোধ ও তার নির্ধারণ সেখানেই স্থান পায় যেখানে সততার উপস্থিতি বিদ্যমান। আমাদের দেশের রাজনীতিতে সে সততার কোন ছিটেফোটাও নেই। রাজনৈতিক নীতিবোধ সেখানে একেবারেই কোনঠাসা । সুতরাং আমাদের দেশের রাজনীতি শুধুমাত্রই লক্ষ্যের রাজনীতি ও সে লক্ষ্য অসৎ। সেখানে সমস্ত রাজনীতিবিদরাই সমান পাপে পাপিষ্ঠ। সেখানে এই সোনার হরিন পোষা চোখে ঠুলি লাগানো নয় কি ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগুল মিটে হঠাৎ ব্লগীয় আড্ডা (টেস্ট)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৯

ব্লগের সবাই আশা করি ভালো আছেন। আজ বাংলাদেশের রাত ১০.৪৫ মিনিটে একটি ব্লগীয় আড্ডা'র আয়োজন করেছি। নিচে গুগল মিটের লিংক দিয়েছি। আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। ইচ্ছা করলে, নিজের ভিডিও অফ রেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“জ্ঞাতি ভাইদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তার দন্ত মোবারক আর আগের জায়গায় নেই।”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭

“জ্ঞাতি ভাইদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তার দন্ত মোবারক আর আগের জায়গায় নেই।” ...বাকিটুকু পড়ুন

আখিরাত ঠিক করার পাশাপাশি দুনিয়ার রাজনীতিতেও ঢুকে পড়লেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০৮


জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পার হয়েছে। দেশের মানুষ একটু দম ফেলছে , চায়ের আড্ডায় যখন ভোটের উত্তাপ ফিকে হয়ে আসছে, ঠিক তখনই খবর এলো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্মি এখনও ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেনা কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

“শেখ হাসিনার পতনের মূল কারণ ছিল চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভূরাজনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অভ্যন্তরে একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×