ছ'দিন ছুয়েও দেখিনি তাকে। ফিরেও তাকাইনি। ওর রাগ, অনুরাগ নিয়ে কোন ভাবনাও হয়নি। প্রতিদিন সকালে একা একাই বাড়ী ছেড়ে বেরিয়েছি। সারাদিনের কাজ শেষে বাড়ীও ফিরেছি একা। সন্ধ্যাতেও কোন খোঁজ করিনি তার। ছ'টি দিন একই ভাবে কেটেছে।
অথচ গত কয়েকটি বছর ধরে ও ই আমার সার্বক্ষনিক সঙ্গী। যেখানেই যাই, ও সাথে যায় আমার। পথে ওর গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনি। ওর সাথে গলা মিলিয়ে নিজেও গাই। কোন পার্টিতে গেলে আমি যতোক্ষন থাকতে চাই, ততক্ষনই সামান্য প্রতিবাদ না করে ও আমার সাথে থাকে। যত ঘন্টা, যতো দিন, যতো রাতই হোক না কেন। আমরা আবার একসাথে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে গাইতে ফিরে আসি বাড়ী।
আজ সকালে ওর কাছে গেলাম তাই। জোর করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে হলো আমাকে। দেখি বেশ রেগে আছে ও। বরফের মতো শীতল ওর শরীর, প্রাণ। কিছুতেই সহজ হতে চাইল না। ওকে আবরণমুক্ত করতে অনেক সাধ্যসাধনা করতে হলো আমাকে। ওর পুরো শরীর ঘসে ঘসে ওকে উত্তপ্ত করলাম। শুন্যের নীচে দশ ডিগ্রী শীত, প্রায় পাঁচ ইঞ্চি পুরু বরফের মাঝেও ঘেমে নেয়ে উঠতে হলো আমাকে। অবশেষে দেখলাম ওর চোখ মুখ অনেকটা পরিস্কার হয়ে এসেছে। তারপর দুজনে একসাথে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে গাইতে আমাদের পথ পাড়ি দিলাম।
এখন ও দাড়িয়ে আছে আমাদের অফিসের গ্যারেজে। তাতে বাকী শীতও উত্তাপে গলে পড়বে। আমি কাজে এসে কাজে সামান্য ফাঁকি দিয়ে ওর কথাই লিখলাম। হয়তো তাই বিকেলে কোন মান অভিমান ছাড়াই একসাথে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে গাইতে বাড়ী ফিরতে পারবো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






