রাজারবাগ পুলিশ লাইন ছিল আমাদের খেলার জায়গা। কাকডাকা ভোরে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে ছুটতাম সেখানে। খেলোযাড়ের সংখ্যা কম হলে ছোট হয়ে যেত গোলপোষ্ট। গোলকীপার থাকতো না। তখন আমার হতো খেলার সুযোগ। কিন্তু গোল করার কাজ সচরাচর আমাকে দিয়ে হতো না।
একদিন এমনি এক ছোট পোষ্টে খেলা হচ্ছিল। আমার উপর কি ভর করেছিল জানিনা। বলে পা ঠেকানো মাত্রই গোল। না না, নিজেদের পোষ্টে নয়, বিপ দলের পোষ্টেই বল ঢুকছিল। সবাই অবাক। একাই 14 টা গোল দিয়েছিলাম সেদিন।
আমাদের মাঝে সবচেয়ে পোংটা বন্ধু রুমেল। খেলা শেষে বাড়ী যাবার পথে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-- তরে কি ভুতে ধরছিলো?
খেলেছিলো একই দলে। তারপরও এমনি মন্তব্যে মেজাজ খারাপ হলেও কিছু বলার সাহস পেলাম না। কারণ শারীরিক শক্তির দিকে থেকেও পোংটা রুমেল কম পোংটা ছিল না।
আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আমার মতো অবস্থা। ভারতের সাখে খেলার দিন হয়তো ওদের কারো কারো ভুতেই ধরেছিল বলেই ভাল খেলতে পেরেছিল। তামিম মারলেই ছক্কা! তেমনি আশরাফুলকে ভুতে ধরেছিল কার্ডিফে। আরো কয়েকজনকে আরো অন্য কোন খেলায়।
সুপার আটে ঢোকার পর সেমিফাইনালে খেলবে, এমন বড় খুব বড় প্রত্যাশা ছিল না আমার। একটাই ছিল যে না জিতলেও ভাল খেলবে, প্রতিদন্ধিতা তৈরী করবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি। ব্যটে বলেই ঠিকমতো হয়না। কপাল গুনে বিপ বোলারের বল ষ্ট্যম্পে না গেলেই আউট হওয়া থেকে বেঁচে যাবার একমাত্র সম্ভাবনা। সেভাবেই জিতেছে দল বারমুডার বিপক্ষে।
এখন প্রমানিত হতে যাচ্ছে যে, ভারতের বিরুদ্ধে জয়টি, আপসেটই ছিল।
আমরা কি ভুতের কৃপার অপেক্ষাতেই থাকবো?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




