somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্পৃশ্য ঘোড়ার পিঠে যুদ্ধযাত্রা

২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৫:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকের অভ্যাস রয়েছে সুযোগ পেলেই পান্তাভাতে ঘি মেশানোর। তা না হলে কোথায় ইরাকে প্রিজনার এবিউজ, আর কোথায় পাশ্চাত্যে খোলামেলা সংস্কৃতি! ইরাকে প্রিজনার এবিউজ এর দ্বায়িত্ব পুরোপুরিভাবে আমেরিকান সৈন্যদের হাতে বর্তায়, ও সার্বিকভাবে যে কোন যুদ্ধের বিভৎসতার প্রকাশ। এর সাথে পাশ্চাত্য সভ্যতার সম্পর্ক আনার অর্থ হচ্ছে উদোর পিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে চাপানোর।

পুরোপুরি সেক্সের কারনে যে সব ছবি করা হয়, তার কথা বলছি না। তার বাইরে ভাল ভাল ছবিতে ছবির কাহিনী অবলম্নন করেই সেক্সের দৃশ্য আসে। এর একটা শৈল্পিক মানদন্ড রয়েছে। এই নগ্নতা শুড়শুড়ি দেয় না, বরং কাহিনীর গভীরতায় ডুবে যেতে সাহায্য করে। তরে দর্শকদের মস্তিষ্কের গঠন চোখের দৃষ্টিকে প্রভাবিত করে বলে সবার এ ধরনের ছবি না দেখাই ভাল। মস্তিষ্কের গঠন শিল্পিত হলে শিল্পরসই আগে চোখে পড়বে, নগ্নতা নয়।

নগ্নতা মনেই যৌনত্তোজনা নয়। তবে তা বোঝার মতো চেতনা আমাদের সমাজে এখনও তৈরী হয়নি। হতেই যে হবে, এমন কোন কথাও নয়। কারন আমাদের সাংস্কতির চিন্তা ও চলন আলাদা। হয়তো সেকারণেই এ ধরনের চিত্র আমাদের এখানে শৈল্পিক সমৃদ্ধি আনে না। সুতরাং এর প্রয়োজনও আপাতত: নেই। কিন্তু তার বদলে যে পোষাক ও অংগভঙ্গী আমাদের দেশের ছবিগুলোতে প্রতিনিয়ত দেখা যায়, তা ভয়াবহ কুরুচিরই সাক্ষর বহন করে।

ঢালিউডি, বলিউডি ছবিগুলোর কুৎসিত, নোংরা অংগভঙ্গীর প্রেম, নাচ বরং অনেক বেশী নোংরা। এথানে নেই কোন শিল্পের চিহ্ন, নেই কোন চিস্তার গভীরতা। অথচ ধার্মিক বাঙ্গালীদের ঘরে ঘরে, যারা পাশ্চাত্য দেশে বাস করে, পাশ্চাত্যের দেয়া সুবিধাদি ভোগ করে, পাশ্চাত্যকেই অস্বীকার করেন, এই ঢালিউডি, বলিউডি ছবিগুলোর নাচই সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলে। আমি ইচ্ছে করেই ধার্মিক বাঙ্গালীদের কথা বলছি, কারন তাদের ঘরেই এই অবস্থার সার্বক্ষনিক বিরাজ। ঘরের ভেতরেও হিজাব পড়া মহিলা আপ্যায়ন করছেন অন্য হিজাবীদের, তাদের স্বামীরাও রয়েছেন- আর ভিডিওতে চলছে বোম্নের ছবির ধুন্দুমার নাচ। শিাক্ষা, সমাজের সাথে যাদের সমান্যতমও আদানপ্রদান রয়েছে, তাদের ঘরে এ ধরনের চিত্র সচরাচর দেখা যায়না।

প্রিন্সেস ডায়নার শেষকৃত্যের সময় লন্ডনের এমনি এক বাঙ্গালী বাড়ীতে ছিলাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি টিভিতে এরই বর্ননা চলছে। আমার বিরক্ত লাগছে, কিন্তু সবাই একসাথে মিলে তাই দেখে চলছে। যখনই তার মরদেহ একটি চার্চে নেয়া হলো, ইউরোপীয় কাসিক্যাল বাজনা বাজানো হলো, বন্ধ করে দেয়া হলো টিভি। কারণ, বিধর্মী চার্চের দৃশ্য ও বাজনা নাজায়েজ। এই হচ্ছে আমাদের ধার্মিক বাঙ্গালী সমাজের দ্বিমুখী চরিত্র।

প্রত্যেক সমাজেই ভাল মন্দ রয়েছে। আমরা অনেকেই আমাদের নিজেদের সমাজ ছেড়ে পাশ্চ্যাত্যের সমাজে বাস করাটা লোভনীয় মনে করি। সে সমাজ যাদি এতই খারাপ হয়, তার গ্রহনযোগ্যতা যাদ এতই কম হয়, তাহলে আমরা কেন তা করি ? আমরা নিজেদের সমাজে বাস করে সে সমাজকে গালি দিই, অন্য সমাজে বাস করেও তার অন্যথা করি না। আমরা নতুন সমাজে এসে সে সমাজকেই অচ্ছুত ভেবে নিজেদেরকেই গ্যেটোভুক্ত করি। সামাজিক আদান প্রদানকে এড়িয়ে চলি ভয়ে। অথচ সামাজিক আদান প্রদান শুধুমাত্র নেবার নয়, দেবারও। তার দাবী কি অন্য সমাজেও আমাদের কাছে নেই?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×