somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এইচ এন নার্গিস
জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

বঙ্গ আর বাঙ্গালী ,শেকড়ের খোঁজে, আলেকজান্ডারের গঙ্গারিদয় , পুণ্ড্র নগর ? চন্দ্রকেতুগড় ? না ওয়ারী বটেস্বর?

১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বঙ্গ" আর "বাঙ্গালী" শেকড়ের খোঁজে
আলেকজান্ডারের "গঙ্গা রিডয়" তার মধ্যে "পুণ্ড্র নগর" ও থাকতে পারে 

আলেক জান্ডার একের পর  এক রাজ্য জয় করে এসে দাঁড়ালো ভারতের প্রান্তে। 
পাঞ্জাবের রাজা "পুরু" কে পরাজিত করে ভারতে গভীরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সে। 

দীর্ঘ ৮ বছর ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষ গুলো আর এগুতে চায় নি । হটাৎ থমকে গেলো তাঁর বিশ্বজয়ী সৈন্য বাহিনী । 
কেন? 
যে বীর আলেকজান্ডার কে কেউ থামাতে পারে
নাই সেই বীর বাংলার মাটির গন্ধ পেয়ে কেন পিছিয়ে গেল ? 

আজ আমরা জানবো ইতিহাসের সেই বিস্তৃত পরাশক্তি গঙ্গারিডির গল্প । 

গ্রীক ঐতিহাসিক "ডিওডরাস সিকুউলাস ,তাঁর "বিব্লিও থেকা হিস্ট্রিরিকা" গ্রন্থে লিখেছেন আলেকজান্ডার যখন গঙ্গা নদীর দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তখন তাঁর সেনা বাহিনী সেই দিকে আর যেতে চান  নি। 

তার কারন পারেস্যের সাথে যুদ্ধে তারা মাত্র কয়েকটি হাতি দেখেছিলেন ,তাতেই  তাঁর সেনা বাহিনী দিশে হারা  হয়ে পড়ে ছিলেন। 

আর এখানে হাজার হাজার হাতির বিরাট এক বাহিনীর প্রাচীর তারা কে পেরুতে হবে। 
"ঐতিহাসিক প্লুটার্কের"  মতে এই হাতির সংখ্যা শুনে অনেক সৈনিক হতাস হয়ে পড়ে ছিলেন । 
আলেকজান্ডারকে জানানো হল গঙ্গার ওপারে বিশাল এক রাজ্য আছে  এবং তার এক  শক্তিশালী রাজা আছে । 

যাদের আছে ২ লাখ পদাতিক সৈন্য ২০ হাজার অশ্বারোহী  সৈন্য , ২ হাজার রথ, ৪০০০ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুদ্ধ করার হাতি  । এই হাতি বৃষ্টির মতো ছোঁড়া তীর সহ্য করতে পারে এবং আগুনের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে। 

সময় টা  কখনঃ  
সময় টা খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক।  এই গঙ্গা রিডয় রাজত্ব কাল বাংলার বুকে ৪০০ থেকে ৫০০ বছর বাংলার বুকে রাজত্ব করেছিল । কারন আলেকজান্ডারের সময় থেকে তাদের দাপট শুরু হয়। মৌর্য আর গুপ্ত সম্রাজ্যের মাঝ খানের সময় টাতে তারা ছিল এক স্বাধীন এবং শক্তিশালী পরাশক্তি । 

গ্রীক দের  পর  রোমান রাও তাদের কথা সন্মানের সাথে লিখে গেছেন । 
গঙ্গা রিডয় কাল্পনিক কোন গল্প নয়। আমাদের ইতিহাসে লেখা না থাকলেও গ্রীক আর রোমান ইতিহাসে ঠিকই লেখা আছে। 

"মেগাস্থিনিস সেলুকাস নেকটারের  দূত হিসেবে তিনি  পাটলি পুত্রের এসেছিলেন । তিনি তার "ইন্ডিকা" গ্রন্থে লিখেছেন গঙ্গার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ টি  শাসন করে এই গঙ্গারিদয়ের মানুষ রা। 
কুইনটাস কারটিয়াস রুকাস উল্লেখ করেন যে গঙ্গার ওপারে দুটি শক্তিশালী রাজা আছে ,প্রাসি আর গঙ্গারিদয়। 
রোমান মহাকবি বার্জিল, তার কাব্যে এই বীর জাতির কথা লিখেছেন।  বিখ্যাত ভূগোলবিদ টলেমী তার মানচিত্রে এই রাজ্যের অবস্থান দেখিয়েছেন।
 
বঙ্গের কোন স্থানে  গঙ্গা রিডায় এর অবস্থান ? 

ঐতিহাসিক তথ্য এবং বিশ্লেষণ অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশের এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিণ পশ্চিম অংশ ছিল গঙ্গা রিডয়ের মূল ভূখণ্ড ।
অর্থাৎ গঙ্গা এবং ব্রম্ভপুত্র যেখানে পড়েছে সেই বদ্বীপ অঞ্চলেই গঙ্গা রিডয় গড়ে  উঠেছিল এই শক্তি ।
টলেমী যাকে গঙ্গা নগরী বলছে প্রত্ন তাত্ত্বিক দের মতে তা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের চন্দ্র কেতুগড় অথবা ওয়ারী বোটেস্বর হতে পারে।

সে সময়ে "পুন্দ্রবর্ধন" ঐ অঞ্চলের অন্যতম জনপদ ছিল তাতে কোন সন্দেহ নাই। হতে পারে পুণ্ড্র বর্ধন  সেই গঙ্গারিডির অন্তর্ভুক্ত । 

গঙ্গারিডি বলতে প্রাচীন গ্রিক আর লাতিন ঐতিহাসিক গঙ্গাবিধৌত সমগ্র পুর্বাঞ্ছল কেই বুঝাতে চেয়েছেন । 

মহাবীর আলেকজান্ডার কতৃক ভারত আক্রমণ ভারতীয় ইতিহাসে যুগ নিদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। 
কারন তার সঙ্গী গ্রীক ঐতিহাসিকগণ ভারতবর্ষ সম্পর্কে যে বিবরণ লিপিবদ্ধ করে গেছেন তার ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম ।

খ্রিস্টপুর্ব ৩২৬ অব্দে  প্রাচীন গ্রীক ও লাতিন ঐতিহাসিক দের বিবরণ অনুযায়ী আলেকজান্ডার যখন  বিপাশা নদীর তীরে পৌঁছেন তখন তারা আর এগুতে চায় নি ।

এই গঙ্গারিডির অবস্থান যা কিনা শত শত নদনদী দ্বারা বেষ্টিত,  এক গোলক ধাঁধার এই  অঞ্চল,  আর উষ্ণ আদ্র জলবায়ু যা গ্রীক দের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত  এবং সৈন্য বাহিনীতে হাজার হাজার হাতির কথা শুনে তাদের সেনা বাহিনী আর এগুতে সাহস পান নি।

গ্রীক রা  ম্যাসিডোনিয়ান ফ্যালাংস বা বর্শা নির্ভর যুদ্ধ পদ্ধতি তে অভ্যস্ত আর তা বিশাল হাতির দলের সামনে অকেজো হওয়ার সম্ভবনা ছিল । এই প্রতিকুলতা আর গঙ্গারিডার মরণপণ যুদ্ধ আলেকজান্ডারের সৈন্য দের ফিরে যাওয়ার প্রকৃত কারন।  


গঙ্গা রিডয় এর  লোকরা যে যুদ্ধ কৌশলেই দক্ষ ছিল তাই নয় তারা ধনীও ছিল। 

কিভাবে তারা ধনী হয় ? 

গঙ্গা নামক এক সমুদ্র বন্দর ছিল তাদের চালিকা
শক্তি । এখান দিয়ে তাদের বিখ্যাত মসলিন, মুক্তা, গোলমরিচ যেতো রোম আর মিশরে । 

এখন যেমন ডলারের দাপট তখন ছিল এই  অঞ্চলের মসলা আর মসলিনের দাপট ছিল সারা বিশ্বে । 
রোমানরা  বাংলার এই মসলিনের জন্য পাগল ছিল । 
এই সব বিক্রি করে তারা অঢেল অর্থ উপার্জন করতেন। আর সেই অর্থ দিয়ে সৈন্য বাহিনী পরিচালনা করতেন। 

কোথায় হারিয়ে গেলো এই গঙ্গা রিডয় ইতিহাস
থেকে ? পেছনের কারন কি?

এটিই ইতিহাসের এক বড় রহস্য ।

গবেষকরা মনে করেন এর পেছনে দুটো কারন আছে ।
 
প্রথমতঃ    ভৌগলিক পরিবর্তন। কারন গঙ্গা তার গতিপথ ঘুরিয়ে ফেলেছিল । যার ফলে বড় বড় বন্যা, আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমৃদ্ধ নগর গুলো ধ্বংস হয়ে যায়।  

দ্বিতীয় কারন রাজনৈতিক । মৌর্য আর গুপ্ত রাজা দের  উত্থানে গঙ্গারিডয় বড় কোন এক সাম্রাজ্যের সাথে মিশে যায় । 

তারা শেষ হয়ে যায় নি । তারা নুতুন কোন পরিচয়ে এই বাংলার বুকেই মিশে আছে । 

গঙ্গারিডয়  আজকে  শুধু মাত্র ইতিহাস বই এর একটি নাম। কিন্তু তাদের রক্ত আর বীরত্ব আজও আমাদের ধমনীতে  বইছে । 

আলেকজান্ডার যে বীরত্বের কাছে পিছিয়ে গিয়েছিলেন ,সেই বীরত্বের উত্তরাধিকারী   আমরাই। 

আমাদের শেকড় অনেক গভীরে, আমাদের ইতিহাস অনেক গর্বের ।
তাই আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিৎ আমাদের প্রাচীন কালের ইতিহাস ,যার উপরে ভিত্তি করেই আজকের আমরা। 
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞানীরাও একেশ্বরবাদী হতে পারেন - আইজ্যাক নিউটন তা প্রমাণ করে গিয়েছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪০



প্রত্যেক মহান বিজ্ঞানীই নিজের জীবনে ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে গিয়েছেন। এমনটাই আমার বিশ্বাস ছিলো। সামুতে আমি এই নিয়ে আগেও লিখেছি। তারপরও, কয়েক দিন স্টাডি করার পরে বুঝতে পারলাম-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মত প্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



আমাদের দেশের সাধারণ ও অসাধারণ জনগণ সহ সকল প্রকার সংবাদ মাধ্যম “মত প্রকাশের স্বাধীনতা”র জন্য প্রায় যুদ্ধ করছেন। মত প্রকাশের সামান্য নমুনাচিত্র হিসেবে একটি সংবাদের ভিডিও চিত্র তুলে ধরছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×