somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এইচ এন নার্গিস
জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

বঙ্গ আর বাঙ্গালী ,শেকড়ের খোঁজে , "পাণ্ডু রাজার ঢিবি" প্রাচীন বঙ্গের প্রাচীন স্থাপনা

২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(17B) বঙ্গ আর বাঙ্গালী 
শেকড়ের খোঁজে, প্রাচীন বাংলায়  বাঙ্গালীর স্থাপনা,   যে সমস্ত প্রাচীন কালের স্যাটেলমেন্ট আছে তার একটি পাণ্ডু রাজার ঢিবি  

পাণ্ডু রাজার ঢিবিঃ 
এটি আর একটি প্রাচীন বাংলার স্যাটেলমেন্ট । যা কিনা বিফর খ্রাইস্ট ১৬০০-৭৫০ সালের স্যাটেলমেন্ট । 

তাম্র প্রস্তর যুগ অর্থাৎ মানুষ যখন তামার ব্যাবহার শুরু করে। কিন্তু লোহার ব্যাবহার শুরু করে নায় । এই যুগ টি প্রস্তর যুগ এবং ব্রোঞ্জ যুগের মধ্যে অবস্থিত । 

এই পাণ্ডু রাজার ঢিবি খনন কার্জ পরীক্ষার পর জানা যায় এটি তাম্র প্রস্তর যুগের । পশ্চিম বাংলার বর্ধমান জেলায় অজয় নদীর তীরে এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান টির অবস্থান । 
খননের ইতিহাসঃ 
প্রথম খনন কাজ আরম্ভ হয় ১৯৫৪ -৫৭ সালে । তারপরে পরেশ চন্দ্র দাসগুপ্তের তত্ত্বাবধানে ১৯৬২-৬৫ সালে চারটি স্তরে খনন কাজ চলে। খননে ছয় টি স্তরের সন্ধান মিলে। যা তাম্র যুগ থেকে লৌহ যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত । 

প্রাপ্ত নিদর্শনঃ 
খননে প্রাপ্ত নিদর্শন গুলো হল ১) তাম্র প্রস্তর যুগীয় মৃৎ পাত্র ২) গুটিকা আংটি, কঙ্কণ, বঁড়শী,সুরমা শলাকা,  তীরের ফলা ৩) লৌহ যুগীয় অস্ত্র, পোড়া মাটির ভগ্ন মূর্তি ৪) পাথর আর হাড়ের নির্মিত হাতিয়ার 

পাণ্ডু রাজার ঢিবি খননে প্রাচীন বাংলার বাঙ্গালী জাতির অনার্য উৎস সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় অনার্য বাঙ্গালী জাতি সুপরিকল্পিত ভাবে শহর করতে পারতো । অর্থনীতির ভিত ছিল কৃষি ও  বাণিজ্য। 
এই ঢিবি টাই একটি "বাণিজ্য নগরী" ছিল বলে ধারনা । 
শুধু ভারত নয় ক্রিট ও মেডিটেরিয়ান  অঞ্চলের সাথেও বাণিজ্য হত । 
তার মানে তারা সমুদ্র গামী নাবিক ছিল। 

১৯৬৩ সালে ২৯ সে নভেম্বরে গোলাকার পাথরের সিল পাওয়া যায় । যার ভাষা প্রাচীন ফিনিশীয় লিপির সাথে সম্পর্ক আছে। 
এর মাধ্যমে  সে সময়ের খ্রিস্ট পুর্ব সময়ের সংস্কৃতি সমাজ সম্পর্কে জানা যায় । সিন্ধু সভ্যতার  প্রাথমিক অবস্থায় যা কিনা হরপ্পা সভ্যতা বিকাসের আগের অবস্থায় কি রকম ছিল ভালো মতো রিসার্চ  করলে তা বেরিয়ে আসবে।  
এই সভ্যতা জানার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে একটা  গ্যাপ থেকে গেছে । এই গ্যাপ টা দূর করতে আমাদের আরও গবেষণা করার দরকার। 

বাংলার তাম্র প্রস্তর যুগীয় সংস্কৃতি শিল্পীর সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না । 
তবে তারা ছিল প্রটোঅস্ট্রালয়েড জন গোষ্ঠী ।সেখানে ১৪জন পুরুষ, নারী ও  শিশুর কঙ্কাল পাওয়া গেছে। এগুলো পরীক্ষা করে জানা যায় এদের মাথা লম্বা ছিল, উচ্চতায় মাঝারি গড়ন থেকে লম্বাটে, সাঁওতাল অথবা শবর দের সাথে মিল আছে।  
অতএব বলা যায় এরাই আমাদের অতীত পূর্ব পুরুষ । আমাদের গর্ব । 

হাতিয়ার তৈরিতে দক্ষতা অর্জন করেছিল

বিভিন্ন সাইজের অস্থি দিয়ে বিভিন্ন আকারের হাতিয়ার বানাতে সক্ষম ছিল। অস্থির দৃঢ়তা ব্যাবহার করে সে অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের হাতিয়ার বানাতে সক্ষম ছিল । শুধু তাই নয় কোনো কোনো হাতিয়ার হাড় এবং পাথর সংযোগ করে বানানো । এটা ছিল দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা অর্জনের কৃতিত্ব । 

মৃৎ শিল্পঃ 
তারা কুমারের চাকা হাতের সাহায্যে   চালিয়ে  মাটির পাত্র বানাতে পারতো । নলযুক্ত মৃৎ পাত্র, ধুসর,ফ্যাকাসে লাল রঙের মৃৎ পাত্র,বাটি, বড়ো পান পাত্র, কলস ইত্যাদি তৈরি করতে পারতো । পোড়া মাটির গয়না পাওয়া গেছে। 
মৃৎ পাত্র অলঙ্কৃত করার রীতি প্রচলিত ছিল। ফুটিকা বা বিন্দু, মই এর মতো নকশা, চৌখুলি নকশা, তারা মাছ, নকশার নিদর্শন আছে।
শৈল্পিক পারদর্শিতা, শিমুল তুলার তন্তু দিয়ে বুনা ছেড়া  কাপড় পাওয়া গেছে।  

বাড়ী ঘরঃ 
দো চালা,  চার চালা এবং আট চালা কুঁড়ে ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 


মূর্তি  
পোড়া মাটির কসরত করা রত মূর্তি, লিঙ্গ মূর্তি, মাতৃদেবী পাওয়া গেছে।
 
অস্ত্র ও সরঞ্জামঃ   

হাড় ,শিং এবং পাথর দিয়ে পরবর্তীতে তামা  দিয়ে বঁড়শী, সুর্মা শলাকা এবং তীরের ফলা পাওয়া গেছে। 

হাড় দিয়ে সূচ, হারপুন, তীরের ফলা, তীক্ষ্ণ অস্ত্র সামগ্রী পাওয়া গেছে। 

সমাধিঃ   
তিন ভাবে মৃতদেহ সমাধিস্ত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।১) বর্ধিত সমাধি, ২) খণ্ডিত সমাধি ৩) পাত্র কবর। মৃতদেহ গুলো পূর্ব পশ্চিমে শায়িত ছিল । মৃত  দেহ রাখা গোষ্ঠী গত এবং গোত্র গত ভাবে  আলাদা নিয়ম  পরিলক্ষিত হয়। কোনো কোনো গোত্র আবার তাদের মৃত দেহ উত্তর দক্ষিন মুখে মাথা রাখার নিয়ম  মেনে চলতো  । 

ধ্বংসের কারনঃ 
জোরালো কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞ দের মতে প্রবল বন্যা, ভয়াবহ অগ্নিকান্ড , আত্ম কলহ , বৈদেশিক শক্তির আক্রমণ  এই সবের কোন একতা হতে পারে। 
উপসংহার 
আমরা জানি সিন্ধু সভ্যতা বা মিশরের সভ্যতা ইত্যাদি । কিন্তু পাঠ্য পুস্তকে বাঙ্গালীর  নিজস্ব ইতিহাস পড়ানো হয় না। 
আমরা কে? তা জানা একটা গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাপার।

প্রাগৈতিহাসিক যুগের বাঙ্গালী সভ্যতা পাঠ্য পুস্তকে পড়ানো উচিত । 
অবাঞ্ছিতের মতো মাটির নীচে চাপা পড়ে  আছে বাঙ্গালী সভ্যতার বিপুল সম্ভার। 

বাঙ্গালী সভ্যতার শেকড় সন্ধানী বাঙ্গালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার । এটার চর্চা করার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হউক । 
সভ্যতার ইতিহাস জানা সবার জন্য দরকার। শুরু হক আমাদের অতীত কে জানা, গুরুত্ব পাক নানা ভাবে।
 
পড়ানো শুরু হক বাচ্চা দের পাঠ্য বই এ । বয়স অনুযায়ী ভাষা প্রয়োগ দিয়ে । 
বাঙ্গালীর ইতিহাস জানতে হবে যেমন জানে অন্য সব দেশের ছেলে মেয়ে । 

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:০০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞানীরাও একেশ্বরবাদী হতে পারেন - আইজ্যাক নিউটন তা প্রমাণ করে গিয়েছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪০



প্রত্যেক মহান বিজ্ঞানীই নিজের জীবনে ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে গিয়েছেন। এমনটাই আমার বিশ্বাস ছিলো। সামুতে আমি এই নিয়ে আগেও লিখেছি। তারপরও, কয়েক দিন স্টাডি করার পরে বুঝতে পারলাম-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মত প্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



আমাদের দেশের সাধারণ ও অসাধারণ জনগণ সহ সকল প্রকার সংবাদ মাধ্যম “মত প্রকাশের স্বাধীনতা”র জন্য প্রায় যুদ্ধ করছেন। মত প্রকাশের সামান্য নমুনাচিত্র হিসেবে একটি সংবাদের ভিডিও চিত্র তুলে ধরছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×