১৯ (গৌড়) বঙ্গ আর বাঙ্গালি ,শেকড়ের খোঁজে পুরানো জনপদ গৌড়
পুণ্ড্র ছাড়াও সবচেয়ে পুরাতন জনপদের আর একটি হল গৌড় ।
খ্রিস্ট পূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে গৌড় নগর স্থাপিত হয়। গৌড় প্রথমে পুণ্ড্র নগরের এক অংশ ছিল। গঙ্গার এক পাশে পুণ্ড্রবর্ধন আর এক পাশে গৌড় । শশাঙ্ক সর্ব প্রথম গৌড় কে স্বাধীন করে আলাদা রাজ্য করে স্বাধীন ভাবে শাসন করতে থাকে। আর তিনিই প্রথম স্বাধীন রাজ্যের স্বাধীন বাঙ্গালি রাজা ।
প্রাচীন গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখঃ
খ্রিঃ পূঃ ৩৫০ -২৮৩ সালে কৌটিল্যের অর্থ শাস্ত্রে বঙ্গ,পুণ্ড্র ,কামরূপ ,এবং গৌড়ের নাম পাওয়া যায় ।
খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে বরাহমিহিরের বৃহৎসংহিতা তে গৌড়ক, পৌণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট , বর্ধমান, ও তাম্রলিপ্তর উল্লেখ আছে।
প্রাচীন ভারতের পাণিনী "গৌড় পুর" নামে এক জায়গার উল্লেখ আছে।
১১২৯ সালে মানসল্লাস এ সমগ্র বঙ্গ কে "গৌড় বঙ্গাল "
বলে উল্লেখ আছে।
এলাকাঃ
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান, এবং
চাঁপায় নবাবগঞ্জের ,ভোলাহাট , গমস্তাপুর,
নাচল, আমনুরা,শিবগঞ্জ,কানসাট এবং রহনপুর নিয়ে গৌড় রাজ্য গঠিত ছিল। ১৯৪৭ পর্যন্ত চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা মালদহের অন্তর্গত ছিল ।
শশাঙ্ক গৌড়ের প্রথম বাঙ্গালি স্বাধীন রাজা।
ষষ্ঠ শতকে পুর্ব বাংলার আশ পাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য এক সঙ্গে করে, শশাঙ্ক বাঙ্গালার সর্ব প্রথম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এবং এটি বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য । তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের "কর্ন সুবর্ন" ।
পরবর্তী পাল রাজাদের সময়ে গৌড় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এবং পাল রাজারা নিজেদের কে গৌড়েশ্বর বলে পরিচিতি হতেন।
পরবর্তীতে পাল সাম্রজ্যের ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে সাথে গৌড়ের ভাগ্যও পরিবর্তন হয় ।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ৩:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



