
হোমো সাপিয়েন্স, আশরাফুল মাখলুকাত যাই বলেন না কেন, বড়ই অদ্ভুত একটা চক্রের মধ্যে আমাদের বেচে থাকা। প্রাণীকুলের মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ভাবে জন্ম নেয়া প্রজাতি আমরাই! অন্যদের সবকিছু শিখতে লাগে ৭ দিন আর আমাদের কয়েক বছর! এরপর শুরু হয় অদ্ভুত এক প্রতিযোগিতা! একই কাজ কে কত ভালো করে করতে পারে সেটার প্রতিযোগিতা! কখনো শুনি নাই বা দেখি নাই কোনো বাঘের বাচ্চা কে আলাদা করে মেডেল দেয়া হচ্ছে, বাবা তুমি সবচেয়ে ফাস্ট শিকার করতে পারো এই জন্য তুমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট আর তুমি সেকেন্ড আর বাকিরা এভারেজ।
আমাদের জীবনচক্রের যেই সময়টা আমরা সবচেয়ে এক্টিভ থাকি - শারীরিক মানসিক ভাবে, ধরে নেই সেটা ২০ থেকে ২৫ বছর ! এই সময়টা আমাদের যায় পরবর্তী ৫-১০ বছর আমরা কত আরাম আয়েশে থাকবো সেটার বন্দোবস্ত করতে! আর যখন মোটা মুটি একটা বন্দোবস্ত হয় তখন আমরা হটাত করে আবিষ্কার করি আরে! আমরা তো সিস্টেম এ আটকানো! আধুনিক দাশ প্রথা! এর থেকে বের হওয়ার তহ উপায় নাই! যাই হোক আজকের লেখাটার সারমর্ম অন্য রকমের...মূল প্রসঙ্গে আসি
২ বছর আগেও আমি ভাবতাম এই দাসত্ব বেশি হলে আর ৬/৭ বছর করবো! এর পর আকাশে জ্যোৎস্না থাকলেই গৃহ তাগী সিদ্ধার্থ এর মত হারিয়ে যাবো! কিছুদিন আগে পর্যন্ত আশাবাদী ছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে, আবার উদাসী হবো, হিমুর মত পকেট ছাড়া হলুদ পাঞ্জাবি পরে দুনিয়া দেখবো..
আজকাল এত কিছু ভাবি না। ভাবতেই ভয় লাগে, কালকে দিনটা বাঁচবো কিনা সেটাই জানি না আবার কিসের গৃহত্যাগী জোছনা!
ভাবতেই কষ্ট লাগে যে কখনোই হয়তো কখনো দেখতে পাবো না নর্দার্ন লাইটস অথবা -‘একগুচ্ছ পান্নার মাঝে যেন একটি মুক্তো’ – আলহামব্রা, স্পেন । মুরিশ কবিরা এভাবেই বর্ণনা করেছিলেন গ্রানাডা শহরের শীর্ষ আকর্ষণ আলহামব্রার সৌন্দর্যকে! অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গা দেখার ইচ্ছা ছিল, একবার তহ সব কিছু রেডি করেই ফেলেছিলাম যেভাবেই হোক পোটালা প্যালেস তিব্বত যাবো! যত ঝামেলায় হক! প্যাংগং লেক-লাদাখ, জাপানের উইস্টেরিয়া টানেল অথবা বলিভিয়া এর সালার দে ইয়ুনি তে একটা শাহরুখ খান স্টাইল এ ছবি!!
কি অদ্ভুত প্রাণী আমরা ! পৃথিবী টাকে কয়েকটা দাগ টেনে নিজের সম্পতি বানানো সবচেয়ে বোকা জাতি মনে হয় আমরাই। আমার ধারণা উপরওয়ালা কয়েকদিন আগ পর্যন্ত বেশ মজা পেতেন আমাদের কার্য কলাপ দেখে! কিন্তূ আমরা এতটাই আহাম্মক যে ধরেই নিয়েছিলাম আরেহ ধুর! যা মন চাই করি উনি সব মাফ করে দিবেন!
যুদ্ধ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এইসব না করলে হ্যাপেনিং থাকে নাকি জীবনটা! আসল ব্যাপার হইলো পশ্চাৎ দেশ এ ক্রস ক্রস করে বেতের বাড়ি না পড়া পর্যন্ত আমাদের টনক নড়বে না! সমস্যা একটাই শাস্তি নেয়ার মত ক্ষমতাও আমাদের নাই, ওইযে আসলে আমরা খুব ই অসহায় একটা প্রজাতি!
না না উপরওয়ালা কে দোষ দিয়েন না..আমি উপরওয়ালা কে একদম ই দোষারোপ করি না। আপনি নিজেই যত্ন নিয়ে কোনো জিনিস বানালেন আর সেটা দিনের পর দিন নষ্ট করলে আপনি কি করতেন? একটাই চাওয়া উপরওয়ালার কাছে, শাস্তি দেন, মাথা পেতে নিচ্ছি কিন্তূ আপনার বানানো এই ভয়ংকর সুন্দর সৃষ্টি গুলা দেখার সুযোগ দেন, আর একটাবার!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




