
Generation Gap বা প্রজন্মের পার্থক্য নিয়ে খুব একটা কথা আজকাল হয় না। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা প্রত্যেক ক্ষেত্রে এই ব্যাবধান এর গিনিপিগ। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য দের মধ্যে ৪০ এর নিচে কয়জন আছেন আমি জানি না বা থাকলেও নীতি নির্ধারনী তে তাদের কথার কতটুক গুরুত্ব দেয়া হয় সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। মেইন কাহিনীতে আসি।
আজকে সকাল থেকেই দুইটা মোবাইল গেম নিয়ে অনেক থিওরি চলে আসতেসে, অথচ প্রপার রিসার্চ ছাড়াই আমাদের সাংবাদিক বন্ধু রা বিশাল বিশাল হেডলাইন দিয়ে মোটামুটি ঘোষণা দিয়ে ফেললেন যে গেম দুইটা ব্যানড। অথচ এরাই কিন্তু গত বছর ওয়ার্ল্ড পাবজি চ্যাম্পিয়নশিপ এ বাংলাদেশ দল নিয়ে কাভার করে উল্টাই ফেললেন। দোষ দিয়ে লাভ কি উনাদের আসল খবর কাভার করলেও তহ আজকাল সমস্যা। যাই হোক আজকের খবরের সারমর্ম :
১. শুনলাম আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হচ্ছে গেম দুটো নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে। বাচ্চারা নাকি গেম দুইটা তে আসক্ত।
Pubg এবং Freefire এই দুইটা গেম এর যাত্রা Bangladesh e ২০১৯ থেকে। বাংলাদেশ এর উচ্চ মন্থর গতির ইন্টারনেট এ মাল্টিপ্লেয়ার গেম খুব যে একটা খেলা যেত - তা না। মূলত ২০২০ এ লকডাউন এর পর থেকে গেম দুটোর ব্যাবহারকারী বাড়তে থাকে। আমার প্রশ্ন মাননীয় শিক্ষা সচিব বরাবর - এখন পর্যন্ত কয়টা সরকারি স্কুল এ অনলাইন ক্লাস শুরু করতে পেরেছেন? ২ বছরের সেশন জোট নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি? স্কুল কলেজ সব বন্ধ এই ছেলে মেয়ে গুলো বাসায় বসে গেম না খেলে কি কাজে ব্যাস্ত থাকলে আপনাদের মতে ছেলে পেলে আসক্ত হবে না?
২. শুনলাম বিজ্ঞ বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এই সুপারিশ এ অংশগ্রহণ করেন।
এরা কারা ভাই?
৩. পার্শ্ববর্তী দেশ করেছে, আমরাও করবো। নাইলে কেমনে কি?
পার্শ্ববর্তী দেশের কারণ টা একটু ঘেঁটে দেখেন, কারণ টা কিন্তু খুব স্পষ্ট। দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক। এমন কি Freefire কিন্তু বন্ধ না কারণ free fire Singapore ভিত্তিক কোম্পানি।
আপনাদের কোনো ধারণাই নেই, এই দুইটা গেম দিয়ে কি পরিমান টাকা উপার্জন করছে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা। কম্পিটিটিভ গেমিং, গেমিং কন্টেন্ট তৈরি করে মাসে কমপক্ষে ১০০/২০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে। এবং এই উপর্জন গুলা কিন্তু বিদেশ থেকে আসতেসে। ফেসবুক, ইউটিউব থেকে এই আয় গুলা আসতেসে। আপনি জানলে অবাক হবেন এই উপার্জন দিয়ে পুরা সংসার চলে তাদের। অনেকেই জব ছেড়ে ফুলটাইম গেম খেলেন আর ২০,০০০ টাকার চাকরি থেকে কামাই করেন ৩/৪ গুন। আজাইরা বলতেসি না, গত দেড় বছর ধরে এদের সাথে অনেক কাছে থেকে কাজ করতেসি, জেনেই বললাম। এইগুলা নিয়ে আগে কাজ করেন পজিটিভ নেগেটিভ জিনিস গুলা সামনে আনেন, রোগ হইলেই মাথা কেটে ফেলে দিয়ে এর কত দায়িত্ব এড়াবেন?
আপনাদের যুক্তির পক্ষেও কথা বলি - "হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা বিদেশ চলে যাচ্ছে"
ইন গেম আইটেম কেনার জন্য বাংলাদেশ এর একমাত্র লিগাল ওয়েবসাইট Codashop যেখানে বিকাশের মাধ্যমে গেম আইটেম গুলা কেনা যায়, আপনারা ১০০ টাকার আইটেম এ যোগ করলেন ৪৫ টাকা টেক্স ! হাসবো না কানবো জানি না। কর্পোরেট টেক্স ও তহ ৪৫% এর কম।
একটাই অনুরোধ সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কাছে - এক্সপার্ট পুল থেকে এডভাইস নেন, পয়েন্ট কামানোর জন্য কাজ কইরেন না। এমনিতে যে ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন "ডিজিটাল বাংলাদেশ" এর তার থেকে কিন্তু অনেক দূরে আমরা। নীতিমালা বানান, দুই কোম্পানি কে বাংলাদেশে অফিস খুলতে বলেন, পেমেন্ট গেটওয়ে আধুনিক করেন, দেশের মেধা গুলাকে রাখার চেষ্টা করেন, গেমিং ইন্ডাস্ট্রি কে সুযোগ সুবিধা দেন আর যে সব আমলারা হাজার হাজার কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে কানাডা তে বাড়ি করতেসে ওই টাকা আটকান। ছেলে পেলে গুলার টিফিন বা হাতখরচ থেকে বাঁচানো টাকা আটকায় জীবনটাকে আর দুর্বিষহ কইরেন না।
বি দ্রঃ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত। Generation Gap বা প্রজন্মের পার্থক্য নিয়ে খুব একটা কথা আজকাল হয় না। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা প্রত্যেক ক্ষেত্রে এই ব্যাবধান এর গিনিপিগ। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য দের মধ্যে ৪০ এর নিচে কয়জন আছেন আমি জানি না বা থাকলেও নীতি নির্ধারনী তে তাদের কথার কতটুক গুরুত্ব দেয়া হয় সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। মেইন কাহিনীতে আসি।
আজকে সকাল থেকেই দুইটা মোবাইল গেম নিয়ে অনেক থিওরি চলে আসতেসে, অথচ প্রপার রিসার্চ ছাড়াই আমাদের সাংবাদিক বন্ধু রা বিশাল বিশাল হেডলাইন দিয়ে মোটামুটি ঘোষণা দিয়ে ফেললেন যে গেম দুইটা ব্যানড। অথচ এরাই কিন্তু গত বছর ওয়ার্ল্ড পাবজি চ্যাম্পিয়নশিপ এ বাংলাদেশ দল নিয়ে কাভার করে উল্টাই ফেললেন। দোষ দিয়ে লাভ কি উনাদের আসল খবর কাভার করলেও তহ আজকাল সমস্যা। যাই হোক আজকের খবরের সারমর্ম :
১. শুনলাম আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হচ্ছে গেম দুটো নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে। বাচ্চারা নাকি গেম দুইটা তে আসক্ত।
Pubg এবং Freefire এই দুইটা গেম এর যাত্রা Bangladesh e ২০১৯ থেকে। বাংলাদেশ এর উচ্চ মন্থর গতির ইন্টারনেট এ মাল্টিপ্লেয়ার গেম খুব যে একটা খেলা যেত - তা না। মূলত ২০২০ এ লকডাউন এর পর থেকে গেম দুটোর ব্যাবহারকারী বাড়তে থাকে। আমার প্রশ্ন মাননীয় শিক্ষা সচিব বরাবর - এখন পর্যন্ত কয়টা সরকারি স্কুল এ অনলাইন ক্লাস শুরু করতে পেরেছেন? ২ বছরের সেশন জোট নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি? স্কুল কলেজ সব বন্ধ এই ছেলে মেয়ে গুলো বাসায় বসে গেম না খেলে কি কাজে ব্যাস্ত থাকলে আপনাদের মতে ছেলে পেলে আসক্ত হবে না?
২. শুনলাম বিজ্ঞ বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এই সুপারিশ এ অংশগ্রহণ করেন।
এরা কারা ভাই?
৩. পার্শ্ববর্তী দেশ করেছে, আমরাও করবো। নাইলে কেমনে কি?
পার্শ্ববর্তী দেশের কারণ টা একটু ঘেঁটে দেখেন, কারণ টা কিন্তু খুব স্পষ্ট। দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক। এমন কি Freefire কিন্তু বন্ধ না কারণ free fire Singapore ভিত্তিক কোম্পানি।
আপনাদের কোনো ধারণাই নেই, এই দুইটা গেম দিয়ে কি পরিমান টাকা উপার্জন করছে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা। কম্পিটিটিভ গেমিং, গেমিং কন্টেন্ট তৈরি করে মাসে কমপক্ষে ১০০/২০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে। এবং এই উপর্জন গুলা কিন্তু বিদেশ থেকে আসতেসে। ফেসবুক, ইউটিউব থেকে এই আয় গুলা আসতেসে। আপনি জানলে অবাক হবেন এই উপার্জন দিয়ে পুরা সংসার চলে তাদের। অনেকেই জব ছেড়ে ফুলটাইম গেম খেলেন আর ২০,০০০ টাকার চাকরি থেকে কামাই করেন ৩/৪ গুন। আজাইরা বলতেসি না, গত দেড় বছর ধরে এদের সাথে অনেক কাছে থেকে কাজ করতেসি, জেনেই বললাম। এইগুলা নিয়ে আগে কাজ করেন পজিটিভ নেগেটিভ জিনিস গুলা সামনে আনেন, রোগ হইলেই মাথা কেটে ফেলে দিয়ে এর কত দায়িত্ব এড়াবেন?
আপনাদের যুক্তির পক্ষেও কথা বলি - "হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা বিদেশ চলে যাচ্ছে"
ইন গেম আইটেম কেনার জন্য বাংলাদেশ এর একমাত্র লিগাল ওয়েবসাইট Codashop যেখানে বিকাশের মাধ্যমে গেম আইটেম গুলা কেনা যায়, আপনারা ১০০ টাকার আইটেম এ যোগ করলেন ৪৫ টাকা টেক্স ! হাসবো না কানবো জানি না। কর্পোরেট টেক্স ও তহ ৪৫% এর কম।
একটাই অনুরোধ সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কাছে - এক্সপার্ট পুল থেকে এডভাইস নেন, পয়েন্ট কামানোর জন্য কাজ কইরেন না। এমনিতে যে ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন "ডিজিটাল বাংলাদেশ" এর তার থেকে কিন্তু অনেক দূরে আমরা। নীতিমালা বানান, দুই কোম্পানি কে বাংলাদেশে অফিস খুলতে বলেন, পেমেন্ট গেটওয়ে আধুনিক করেন, দেশের মেধা গুলাকে রাখার চেষ্টা করেন, গেমিং ইন্ডাস্ট্রি কে সুযোগ সুবিধা দেন আর যে সব আমলারা হাজার হাজার কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে কানাডা তে বাড়ি করতেসে ওই টাকা আটকান। ছেলে পেলে গুলার টিফিন বা হাতখরচ থেকে বাঁচানো টাকা আটকায় জীবনটাকে আর দুর্বিষহ কইরেন না।
বি দ্রঃ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৯:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




