
গল্পের নায়ক শম্ভুগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের ২৪ বছর বয়সের তরুন ম্যানেজার। সেই সময়ের এক প্রভাবশালী সরকার দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান কে নির্বাচনের সময় ব্যাংক লোন থাকায় NOC সার্টিফিকেট দেইনি সে।
গল্পের পরের অংশটুকু ঘটে শম্ভুগঞ্জ চরে।
জনমানবহীন চর। ম্যানেজার সাহেব তার অতি শখের বাইকে তার সেকেন্ড অফিসারকে পেছনে নিয়ে লোন রিকভারি করে ফেরত আসছিল। শীত শুরু হবে হবে, চরের পাশের সুন্দর বাতাসে গল্পের নায়ক এর একটা আত্মতৃপ্তি দেখা যায় বাইকের সাইড মিরোর এ! বোটানির স্টুডেন্ট ব্যাংকে চাকরি করা নিয়ে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে তাকে। থাক এই গল্পঃ আরেকদিন!
কিছুদূর যেতেই চেয়ারম্যান এর ৩/৪ জন ক্যাডার তাদেরকে থামায়। এর পরের কথোপকথন....
ক্যাডার: স্যার আপনে কিন্তু বেশি বেশি করতাসেন
ম্যানেজার: আমার বংশের সবাই বেশি বেশি করে..কিছু করার নাই...
ক্যাডার: না মানে পোলাপাইনদের তো চিনেন...কখন একটা কাহিনী ঘটায় ফালায়...
ম্যানেজার: এই চরের ঐ পারে কোন এলাকা জানে?
ক্যাডার: জানি স্যার...ময়মনসিং...
ম্যানেজার: বাহঃ! ভালই তে চিনো!! বাইকটা নিয়া টান দিয়া ঐ পারে নিলে কিন্তু কাহিনী থামাইতে পারবা না...
ক্যাডার:ধুর স্যার কি যে বলেন...
পকেট থেকে ম্যানেজার সাহেব ব্যাংকের ভোল্টের বিশাল চাবিটা বের করে।
ম্যানেজার: এইটা কি চিনো?
ক্যাডার: চিনি স্যার ব্যাংকের চাবি।
ম্যানেজার: এইটা চাবি না। এইটা আমার পিস্তল। পুলিসের যেমন পিস্তল থাকে...আমার থাকে এইটা...শুধু বলবো তোরা চাবি নিয়া গেসিস...চৌদ্দ গুস্টির একটাও বাইরে থাকবি না...
ক্যাডার: স্যার রাগ করেন ক্যা? আসেন চা খাই..
ম্যানেজার: দুপুরবেলা আমি চা খাই না...
ম্যানেজার সাহেব তার পংখিরাজ বাইক দিয়ে এক টান দেয়..
পরিশিষ্ট: সেদিন ম্যানেজার সাহেবের কাছে রিকভারির ১৪ লাখ টাকা ছিল! টাকার প্যাকেট রাখা ছিল ম্যানেজার সাহেব আর সেকেন্ড অফিসারের মাঝখানে একটা বাজার করার ব্যাগে কিছু শাক সবজির সাথে!!
*গল্পের ম্যানেজার সাহেব আমার বাবা। এই লোকটার সাহসের ১০% ও আমি পাই নাই। পাবো বলে মনে হয় না! "
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০২১ সকাল ৯:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




