যুদ্ধ করে বাসে উঠলাম।
কিছুক্ষন পরে বিনা যুদ্ধে একটা বসার সিট পেয়ে গেলাম।
বসেই একটা প্রশান্তির শ্বাস ফেললাম। শ্বাস ফেলে পুনঃ শ্বাস নিতে না নিতেই মাথার চুলে কষে একটা টান অনুভব করলাম। উঃ করে পিছনে ফিরে দেখলাম গুন্ডা মার্কা বছর পঁচিশের একটা ছেলে। বলল, কন্ডাক্টরকে একটু ডেকে দেন তো।
কন্ডাক্টরকে ডাকার জন্য এই ভাবে ব্যথা দিয়ে চুল টানে?
মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেল। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম কষে একটা বিরাশি ছিক্কার চড় লাগাব তার কানের দেড় ইঞ্চি নিচে।
কিন্তু বেশভূষা দেখে সাহস হল না। একটু গোবোচারা টাইপের হলে না হয় কথা ছিল। তাই আর রিস্ক নিলাম না। অতি কষ্টে নিজের খায়েস নিবারন করলাম।
তাছাড়া আমরা তো হলাম রবি বাবুর‘শান্ত মোরা ভদ্র অতি, পোষ মানা এ প্রাণ।’
একটু পরে ঐ গুন্ডাকে ফোনে কথা বলতে শুনলাম। প্রতিটি শব্দের সাথে একটা গালি অনুপ্রাস হিসেবে ব্যবহার করছে। পুরো বাসের মনোযোগ ছেলেটি নিয়ে নিল। ভাবলাম, বেশ ভালই ব্রান্ডিং করছে গুন্ডাটা।
গুন্ডাটার পাশে একটা মেয়ে বসা। দুজনের মাঝে কি সম্পর্ক সেটা বুঝা যাচ্ছে না। বোন, ভাবি বা বৌ যে কোন একটা হতে পারে। আমি তাদের মধ্যকার সম্পর্ক মেলাতে মশগুল।
একটু পরে শুনলাম আমার পাশের বুড়ো ভদ্রলোক কাতরাচ্ছে।
ঘটনা কি?
দেখলাম বুড়ো চাচা মিয়ার সবেধন নীলমনি কয়েকগাছা চুল মুঠো করে ধরে আছে ঐ বিচিত্রবর্ণের গুন্ডাটি।
আমি ভয়ে এগুলাম না। কয়েকজনের হস্তক্ষেপে চাচা এ যাত্রায় রক্ষা পেলেন।
ঘটনা ছিল এইঃ
চাচা তার জানালার পাল্লা পেছনে ঠেলেছিলেন একটু বাতাসের জন্য। কিন্তু গুন্ডাটার এটা পছন্দ হয়নি। কারন তার জানালার দখল কমে গিয়েছিল।
ফলস্বরুপ, চাচার এই করুন দশা-
ঘটনা আরও বাকী ছিল-
পালোয়ান টাইপের একটা ছেলে এসে গুন্ডাকে খুবই ঠান্ডা স্বরে বলল, এই তোর পাশের এই মহিলা তোর কি হয়?
আচমকা এই প্রশ্নে গুন্ডাটা হতচকিত হয়ে গেল।
টাল সামলে নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল, কেন? তোর কি দরকার!
-দরকার আছে। এই মহিলা যদি তোর বৌ হয় তাহলে তোর একরকম ট্রিটমেন্ট। আর যদি বৌ ছাড়া অন্যকিছু হয় তবে অন্য ট্রিটমেন্ট। আমি নিতান্ত বাধ্য না হলে বৌদের সামনে তাদের গুনধর বর মশাইকে নিদেনপক্ষে ঠেঙাই না।
পালোয়ানের এই রকম কথায় গুন্ডাটা একটু চুপসে গেল।
শত হোক পালোয়ান তো!
পালোয়ানের কাছে আবার গুন্ডাগিরি। হাহ!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



