১৮.
একজনকে একটা কাজে জিঙ্গাসা করছিলাম, আপনার এস,এস,সি কত সালে? সে বলল, আমি ছিলাম ২০০৩ সালের ব্যাচ; কিন্তু পাশ করেছি ২০০৭ সালে। বাউবি(বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়) থেকে। তারপর বাউবি থেকেই এইচ,এস,সি এবং ডিগ্রি পাশ করি।
প্রশ্ন করলাম, এই গ্যাপ কেন?
বলল, বিদেশে যাব বলে পড়ালেখা চালাইনি। কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য বিদেশ যাওয়া হয়নি। তাই পরে নিজ উদ্যোগে ছোট একটা চাকরি নিয়ে বাউবি থেকে পড়ালেখা শেষ করি।
এই হল সংক্ষিপ্ত কাহিনী।
খেয়াল করুন, সে বিদেশে যাবে বলে পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছে।
এই রকম বাজে পরিস্থিতি পুরো বাংলাদেশে বিরাজমান।
একজন প্রবাসীর সাথে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি মালয়েশিয়ায় সনি কোম্পানিতে জব করতেন। তিনি বলেছেন, ওখানে পুরো পৃথিবীর শ্রমিক ছিল। শুধুমাত্র বাংগালিকে এক কাজ দুইবার দেখাতে হত না। তাকে যে কাজ একবার ভাল করে বুঝিয়ে দিয়েছে তাকে আর দ্বিতীয়বার তা বুঝাতে হয় নি। বরং তার সহকর্মীদেরকে সে সাহায্য করত।
তাঁর ভাষায় পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী জাতি এই বাংগালী।
গত কয়েক দশক ধরে আমাদের সমাজে প্রবাস একটা স্বপ্ন। একটা জেনারেশান বড় হয় সে প্রবাসী হবে বলে। প্রবাসে সে কি করবে সেটা সে জানে না। শুধু জানে কাজ করবে আর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাবে।
হ্যাঁ, আমরা প্রবাসে যাই আর দিনমজুরের কাজ করি। হেন কাজ নেই যা বাংগালি প্রবাসিরা করে না। তারা বিদেশের মাটিতে যা করে এই বাংলার মাটিতে তার চেয়েও কয়েকগুন ভদ্র কাজ করতে লজ্জাবোধ করে।
শুরু হয় দোষারোপ, বেকারত্ব, হাহাকার আর হতাশা!
১৯.
মানুষ আপাদমস্তক একটা যৌক্তিক প্রানী।
কিন্তু আমরা আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এমন কিছু মানুষ দেখি যাদের আচরণকে আমরা অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করি।
কেন?
এর অনেক কারণ থাকতে পারে।
কোন মানুষ যদি কোন পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক আচরণের সম্মুখীন হয় তখন তার আবেগ নষ্ট হয়ে যায়। এই আবেগ ক্রমে তার বিবেককে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
তখন সে তার পক্ষে নেতিবাচক যুক্তি দাঁড়া করায়। এবং এই নেতিবাচক যুক্তিকে সে বৈধতা দান করে।
ফলশ্রুতিতে, একই আচরণ অন্যের বেলায় অগ্রহণযোগ্য হলেও নিজের বেলায় তার গ্রহণযোগ্যতা থাকে।
কথায় আছে, বেয়াদব বেয়াদবি পছন্দ করে না। অর্থাৎ, সে নিজে বেয়াদবি করলেও অন্যের বেয়াদবি নিতে পারে না।
বলছিলাম যুক্তির কথা।
ভাল আচরণ বা ভাল চিন্তা, অথবা, খারাপ আচরণ বা খারাপ চিন্তার জন্য তার নিকট যথেষ্ঠ পরিমানে যুক্তি থাকে।
তার এই যুক্তিগুলোকে আমরা যুক্তি বা অপযুক্তি ইত্যাদি নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি তাতে যুক্তি প্রণেতার কিছু যায় আসে না।
সবার আগে আমাদের সত্যিটা কি তা জানা দরকার। এটা সহজ। কারণ সত্য একটাই।
যে মানুষটা অযৌক্তিক(তার দৃষ্টিতে যৌক্তিক) আচরণ করছে, তার মানে সে যে কোন কারণে হোক সত্যটা পায়নি।
হয়ত তার কাছ থেকে সত্য লুকানো হয়েছে এবং মিথ্যা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে তার সত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এটা কে করেছে?
উত্তরটা এমন হতে পারে ‘এ সমাজের অংশগ্রহণকারীরাই করেছে’
সত্য লুকিয়েছে, যুক্তির অপব্যবহার করেছে, মিথ্যা চাপিয়েছে।
এসকল অসংগতি এবং মানষিক চাপ কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার প্রচেষ্টায় সে বিপরীত যুক্তির জগত তৈরী করে। সে ভাবতে থাকে, জগতে বিচার নেই, সত্য নেই, ভারসাম্য নেই।
সে নিজেই বিচারক, সে নিজেই সত্য আর কোন সত্য নেই, একমাত্র ভারসাম্য তার হাতে।
তখন আমরা একটা মানুষকে পাগল বলি, মানষিক ভারসাম্যহীন বলি। আমরা ভাবতে থাকি মানুষটি অনিরাপদ।
এটা শুধু একটা মানুষ নয়; একটা জনপদের বেলায়ও ঘটতে পারে।
এসকল উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য একমাত্র দায়ী হল ‘সত্যকে অস্বীকার!’
একজন মানুষ কোন যুক্তিতে সত্যকে অস্বীকার করবে ???
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



