somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নয়ন বিন বাহার
তোমাদের এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দূরে! বহু দূরে! ঈগল চোখের আড়াল খুঁজে নিচ্ছি- যেখানে সমস্ত পাপী স্বীকারোক্তি দেয় তাদের আকন্ঠ পাপের। অন্তত তারা সত্যের আড়ালে পাপ করে না; পাপ নিয়ে করে না কোন মিথ্যাচার!

আমরা কেমন মানুষ? পর্ব- ১০

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৮.

একজনকে একটা কাজে জিঙ্গাসা করছিলাম, আপনার এস,এস,সি কত সালে? সে বলল, আমি ছিলাম ২০০৩ সালের ব্যাচ; কিন্তু পাশ করেছি ২০০৭ সালে। বাউবি(বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়) থেকে। তারপর বাউবি থেকেই এইচ,এস,সি এবং ডিগ্রি পাশ করি।

প্রশ্ন করলাম, এই গ্যাপ কেন?
বলল, বিদেশে যাব বলে পড়ালেখা চালাইনি। কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য বিদেশ যাওয়া হয়নি। তাই পরে নিজ উদ্যোগে ছোট একটা চাকরি নিয়ে বাউবি থেকে পড়ালেখা শেষ করি।

এই হল সংক্ষিপ্ত কাহিনী।

খেয়াল করুন, সে বিদেশে যাবে বলে পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছে।

এই রকম বাজে পরিস্থিতি পুরো বাংলাদেশে বিরাজমান।

একজন প্রবাসীর সাথে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি মালয়েশিয়ায় সনি কোম্পানিতে জব করতেন। তিনি বলেছেন, ওখানে পুরো পৃথিবীর শ্রমিক ছিল। শুধুমাত্র বাংগালিকে এক কাজ দুইবার দেখাতে হত না। তাকে যে কাজ একবার ভাল করে বুঝিয়ে দিয়েছে তাকে আর দ্বিতীয়বার তা বুঝাতে হয় নি। বরং তার সহকর্মীদেরকে সে সাহায্য করত।

তাঁর ভাষায় পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী জাতি এই বাংগালী।

গত কয়েক দশক ধরে আমাদের সমাজে প্রবাস একটা স্বপ্ন। একটা জেনারেশান বড় হয় সে প্রবাসী হবে বলে। প্রবাসে সে কি করবে সেটা সে জানে না। শুধু জানে কাজ করবে আর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাবে।

হ্যাঁ, আমরা প্রবাসে যাই আর দিনমজুরের কাজ করি। হেন কাজ নেই যা বাংগালি প্রবাসিরা করে না। তারা বিদেশের মাটিতে যা করে এই বাংলার মাটিতে তার চেয়েও কয়েকগুন ভদ্র কাজ করতে লজ্জাবোধ করে।

শুরু হয় দোষারোপ, বেকারত্ব, হাহাকার আর হতাশা!


১৯.

মানুষ আপাদমস্তক একটা যৌক্তিক প্রানী।

কিন্তু আমরা আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এমন কিছু মানুষ দেখি যাদের আচরণকে আমরা অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করি।

কেন?
এর অনেক কারণ থাকতে পারে।
কোন মানুষ যদি কোন পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক আচরণের সম্মুখীন হয় তখন তার আবেগ নষ্ট হয়ে যায়। এই আবেগ ক্রমে তার বিবেককে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
তখন সে তার পক্ষে নেতিবাচক যুক্তি দাঁড়া করায়। এবং এই নেতিবাচক যুক্তিকে সে বৈধতা দান করে।

ফলশ্রুতিতে, একই আচরণ অন্যের বেলায় অগ্রহণযোগ্য হলেও নিজের বেলায় তার গ্রহণযোগ্যতা থাকে।

কথায় আছে, বেয়াদব বেয়াদবি পছন্দ করে না। অর্থাৎ, সে নিজে বেয়াদবি করলেও অন্যের বেয়াদবি নিতে পারে না।

বলছিলাম যুক্তির কথা।
ভাল আচরণ বা ভাল চিন্তা, অথবা, খারাপ আচরণ বা খারাপ চিন্তার জন্য তার নিকট যথেষ্ঠ পরিমানে যুক্তি থাকে।

তার এই যুক্তিগুলোকে আমরা যুক্তি বা অপযুক্তি ইত্যাদি নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি তাতে যুক্তি প্রণেতার কিছু যায় আসে না।

সবার আগে আমাদের সত্যিটা কি তা জানা দরকার। এটা সহজ। কারণ সত্য একটাই।

যে মানুষটা অযৌক্তিক(তার দৃষ্টিতে যৌক্তিক) আচরণ করছে, তার মানে সে যে কোন কারণে হোক সত্যটা পায়নি।

হয়ত তার কাছ থেকে সত্য লুকানো হয়েছে এবং মিথ্যা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে তার সত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এটা কে করেছে?
উত্তরটা এমন হতে পারে ‘এ সমাজের অংশগ্রহণকারীরাই করেছে’

সত্য লুকিয়েছে, যুক্তির অপব্যবহার করেছে, মিথ্যা চাপিয়েছে।

এসকল অসংগতি এবং মানষিক চাপ কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার প্রচেষ্টায় সে বিপরীত যুক্তির জগত তৈরী করে। সে ভাবতে থাকে, জগতে বিচার নেই, সত্য নেই, ভারসাম্য নেই।
সে নিজেই বিচারক, সে নিজেই সত্য আর কোন সত্য নেই, একমাত্র ভারসাম্য তার হাতে।

তখন আমরা একটা মানুষকে পাগল বলি, মানষিক ভারসাম্যহীন বলি। আমরা ভাবতে থাকি মানুষটি অনিরাপদ।

এটা শুধু একটা মানুষ নয়; একটা জনপদের বেলায়ও ঘটতে পারে।

এসকল উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য একমাত্র দায়ী হল ‘সত্যকে অস্বীকার!’

একজন মানুষ কোন যুক্তিতে সত্যকে অস্বীকার করবে ???
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×