১।
এই বাংলা মুল্লুকের শিক্ষিত প্রফেশনালরা সবচেয়ে বেশি রুচিহীন।
রাজধানী ঢাকার বয়স চারশ বছরের বেশি। এই গত চারশ বছর ধরে এখনো তার নির্মাণ কাজ চলছে। এমন কোন রাস্তা বা গলি নাই যা ওয়ার্ল্ড ক্লাসের সাথে ন্যুনতম প্রতিযোগিতা দিতে পারে। পুরোটা একটা আধুনিক বস্তি!
দুর্ভাগ্য! গত চারশ বছরে একজন রুচিশীল স্বপ্নবাজ মানুষ এই অঞ্চলে পয়দা হয়নি।
আজ দেখলাম সোনাপুর মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের নির্মাণ কাজ চলছে। দেখে মনে হল ভালই। পাশ থেকে একজন বলল, রাখেন মিয়া ভাল! নিচ তলায় কোন দোকান রাখার প্ল্যান ছিল না। খালি থাকবে। এখন দেখেন পুরোটা দোকান। কয়টা টাকার কাছে সৌন্দর্য বিক্রি!
ভাবেন একবার। এই রুচিহীন কাজের পেছনে কারা জড়িত। সবগুলাই পেশাজীবি। এই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার প্রতিবাদ করেছে? করলেতো এমন হওয়ার কথা না।
সরকারি হাসপাতালগুলোর কথা কি বলব! ময়লা, আবর্জনা, দুর্গন্ধ, রীতিমত বাজে ব্যাপার।
একজন ডাক্তার। তার রুচিতে কিভাবে দেয় এরকম একটা বাজে পরিবেশে চাকরি করতে?
রোগীর আত্মীয়ের হাতে মার খেয়ে মানববন্ধন করতে পারে কিন্তু হাসপাতালগুলোর পরিবেশ রুচিসম্মত করার দাবি করতে পারে না। কেন পারে না? রুচির অভাব।
আরে, টাকা ইনকামের জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার হওয়া লাগে?
একজন মুচি দৈনিক প্রায় দেড়, দুই হাজার টাকার বেশিও ইনকাম করে।
এই মুচির কাজ দেখে বুঝা যায় সে কত মনযোগ দিয়ে তার কাজ করে। কাজের সুন্দর ফিনিশিং দেয়। এক কথায় রুচিশীল।
নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়ালে মনে হয় একটা মার্কেটের সামনে দাঁড়ালাম। কেউ পড়তে না পারলে, অথবা কেউ না বললে সে বুঝতেই পারবে না এটা একটা বিশ্ববিদ্যায়।
অথচ টাকা, জমি ইত্যাদির অভাব ছিল? না! অভাব ছিল রুচিসম্মত ডিজাইনের।
হায়রে রুচি।
শিক্ষত হলাম, টাকা কামালাম, শুধু রুচিবান হতে পারলাম না!
২।
বাংলার জনমানুষের চেতনা আছে, হুশ নাই।
একেবারে চব্বিশ ক্যারেটের চেতনা। কিন্তু মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়ার জন্য যে ন্যুনতম হুশ দরকার তার লেশমাত্রের উপস্থিতি নেই।
সেদিন দেখলাম কোন এক স্থাপনার সিঁড়িতে লাল সবুজের কম্বিনেশনে রং করা হয়েছে। এখন এখানে অনেকেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা খুঁজে পেয়েছে। চলছে চামড়া ছিলা আন্দোলন। চেতনার ঢোল বাজছে আগডুম বাগডুম।
অথচ পরিবার বিক্রি করে যেসব দেশে ভিক্ষাবৃত্তি করতে যাইতে কোন লজ্জাবোধ কাজ করে না, সে সব দেশ, যেমন আমেরিকা, অস্ট্রেলীয়া ইত্যাদি দেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইন দিয়ে অর্ন্তবাস পর্যন্ত বানায়।
আর বিশ্বব্যাপি সে সব জিনিস দেদারছে বিক্রি হয়। আর এসব দেখে তাদের চেতনা ডিগবাজি খায় কি না, তা নিয়ে কোন আর্টিকেল পাওয়া যায় না।
এসব জিনিস নিয়ে আমাদের দেশপ্রেমের চেতনা আহত হলেও, নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়ে চৌকির তলায় ঠেস দেয়ার সময়, অথবা ঘুষ দিয়ে চাকরি নিতে আমাদের দেশপ্রেম মনে থাকে না।
বিআরটিসির গাড়ীগুলোর ভিতরের ফ্যান বেশিরভাগ চুরি হয়ে যায়, আর যেগুলো থাকে সেগুলোর অবস্থা এমন যেন তাদের উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে গেছে।
প্রতিনিয়ত যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় করছে তাতে দেশপ্রেমের কোন খবর নাই।
আমাদের দেশপ্রেম মাথাছাড়া দেয় শুধু ইন্ডিয়া আর পাকিস্তান ইস্যুতে।
আর যখনি অন্যকে হেয় করার সুযোগ পাই তখনি দেশপ্রেমের অস্ত্রে শান দিই।
এই তথাকথিত সুবিধাবাদী দেশপ্রেম গত অর্ধ শতকে আমাদেরকে কতটা তলানিতে নিয়ে গেছে তা বুঝতে যে হুশ দরকার তা চেতনার তলানিতে ঢাকা পড়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





