একটি শান্ত গ্রামে, যেখানে মানুষজন সাধারণত সূর্যাস্তের পর ঘুমিয়ে পড়ে, সেই রাতটা ছিল একটু ভিন্ন। গ্রামের নাম ছিল শ্যামপুর। ছোট্ট এই গ্রামটি সবুজ পাহাড়ে ঘেরা, কিন্তু রাত হলেই যেন গ্রামটা ভুতুড়ে হয়ে যেত।
শ্যামপুরের এক প্রান্তে ছিল একটা পুরনো বন। সেই বনে গ্রামের কেউই সূর্যাস্তের পর ঢুকতো না। কারণ, বলা হয়, সেখানে ভয়ংকর কিছু আছে। একসময় বনের ভেতর একটি পুরনো মন্দির ছিল, কিন্তু এখন সেটা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। গ্রামে প্রচলিত ছিল, রাত হলে মন্দির থেকে অদ্ভুত সব আওয়াজ আসে।
একদিন গ্রামের একজন যুবক, রাহুল, ঠিক করলো, সে এই রহস্যের সমাধান করবে। রাহুল ছিল সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সে জানতো, গ্রামের বয়স্করা এই বনকে কেন এড়িয়ে চলেন। কিন্তু রাহুল ভেবেছিল, সবই হয়তো গুজব।
সেদিন রাতে, চাঁদের আলোতে বনের পথ ধরে রাহুল এগিয়ে চললো। হাওয়ার সাথে পাতার সড়সড় আওয়াজে সে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। কিছু দূর যাওয়ার পর, সে মন্দিরের ধ্বংসস্তুপ দেখতে পেল। তার হৃদপিণ্ড দ্রুত লাফাতে লাগলো। সে কাছে গেল, আর তখনই সে অনুভব করলো কেউ বা কিছু তার দিকে তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ করেই, চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। রাহুল দেখতে পেল, মন্দিরের ভেতর থেকে একটি ছায়ামূর্তি বেরিয়ে আসছে। সেই মূর্তিটি ছিল একজন বৃদ্ধ, কিন্তু তার চোখে ছিল অদ্ভুত আলো। রাহুল পেছনে ফিরতে চাইলো, কিন্তু তার পা যেন স্থির হয়ে গেল।
বৃদ্ধটি ধীরে ধীরে রাহুলের দিকে এগিয়ে এলো। সে বলল, “তুমি কি জানো, কেন এখানে কেউ আসে না?”
রাহুল কাঁপতে কাঁপতে বলল, “আমি সত্যি জানতে চাই।”
বৃদ্ধটি বলল, “এই মন্দির ছিল একসময় গ্রামের রক্ষাকর্তা। কিন্তু একদিন, গ্রামের মানুষের লোভের কারণে এখানে একটি অভিশাপ নেমে আসে। আমি সেই অভিশপ্ত পুরোহিত, যাকে বেঁচে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে এই অভিশপ্ত স্থানে। যতক্ষণ না কেউ আমার মুক্তি এনে দেয়, আমি এখানে আটকে থাকব।”
রাহুল কাঁপতে কাঁপতে বলল, “আমি কীভাবে তোমার মুক্তি আনতে পারি?”
বৃদ্ধটি বলল, “তোমাকে তোমার সাহস ও বিশ্বাসের মাধ্যমে এই অভিশাপ ভাঙতে হবে। কিন্তু মনে রেখো, এটা সহজ হবে না।”
রাহুল তার সব সাহস সঞ্চয় করে বৃদ্ধের কথা শুনলো। সে জানতো, তাকে এ কাজটি করতে হবে। ধীরে ধীরে রাহুল মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করলো এবং পুরোহিতের নির্দেশনা অনুসারে প্রার্থনা শুরু করলো। রাত গভীর হলো, কিন্তু রাহুলের প্রার্থনা থামলো না।
অবশেষে, আকাশে প্রথম সূর্যের আলো ফুটে উঠলো। মন্দিরের ভেতর থেকে এক আলোকরশ্মি বেরিয়ে এলো এবং পুরোহিতের অভিশাপ ভেঙে গেল। বৃদ্ধ পুরোহিত ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো এবং ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তুপে মিলিয়ে গেল।
রাহুল যখন গ্রামে ফিরলো, সে জানতো, সে একটি অসম্ভব কাজ সম্পন্ন করেছে। সে শুধু গ্রামের নয়, নিজেরও এক ভয়ংকর রাতের সমাপ্তি করেছে। আর সেই রাত থেকে, শ্যামপুর গ্রাম আবার শান্তিতে ফিরে এলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



