somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ কেমন জিহাদ

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

To Whom it may concern
কিছু কিছু আধা দাড়ি বিশিষ্ট আধা পাঙখা আধা হুজুর জিহাদি ভাই ফেবুতে, ব্লগে নাস্তিক এবং মুক্তমনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে অশ্লীল ভাষায়।
ইসলামিক চেতনাধারী, খিলাফত/জামায়াত তাদের আকীদা, কিন্তু ভাষার প্রয়োগ এবং আক্রমনাত্মক মনোভাব দেখলে বুঝা যায় তারা কিছুদিন আগেও ব্রাজারস ডট কমের রেগুলার কাস্টমার ছিল এবং ভেতরে ভেতরে মারাত্মক সেক্সুয়াল অবশেসনে ভুগে।
মেয়েদের ইনবক্সে জ্ঞান দিয়ে বেড়ায়। স্ট্যাটাসে, লেখনিতে মেয়েদের পর্দা করার উপদেশ দেয় আবার বেপর্দা পাঙখা মেয়েদের পিকে গিয়ে ঠিকই লাইক মারে, কমেন্টে খাজুরে আলাপ করে।
এক দিকে সমানে ইসলামিক পোস্ট দেয় আরেক দিকে সমানে মেয়েদের উপর ক্রাশ খায়।
ধর্ম, আধুনিকতা, অশ্লীলতা আর জঙ্গী মনোভাব মিলিয়ে রিতিমত জগা খিচুড়ি মনোভাব এদের।
ফেসবুকে এসে ধর্ম প্রচারের চেষ্টা অনেকটা গোবরে সেন্ট মেখে সুগন্ধ ছড়ানোর মত।
ফেসবুক হচ্ছে ইহুদিদের তৈরী। এই নীল সাদার জগত প্রতি মুহুর্তে বদ দ্বিনের দাওয়াত দেয়। এখানে বিচরন করতে করতে সুন্দ্রী মেয়েদের প্রোফাইল আর পিক সামনে চলে আসে। সোসিয়াল কমপ্যারিজন এর শিকার হয়ে সবাই ডিপ্রেশনে ভুগে। এখানে যেই আসুক সে হুজুর হোক বা খেজুর হোক মেয়েদের উপর ক্রাশ খাওয়া থেকে কেউ রেহাই পাবে না। এখানে আপনি ইসলাম প্রচার করতে আসবেন তো কয়দিন পর নিজেই গোমরাহ হয়ে ফেরত যাবেন।
ইন ফ্যাক্ট ফেসবুক এক্টিভিস্টদের হাশর হবে মার্ক জুকারবার্গের সাথে। যার সাথে যার ওঠা বসা তাদের হাশর তার সাথেই হয়।
শয়তান নাকি ১০০ টার মধ্যে একটা মাত্র বদ সুরতে এবং বাকি ৯৯টা নেক সুরতে ধোকা দেয়। অতএব সাবধান।
বনীঈসরাইলের আমলে বারসিসা নামে এক ধার্মিক লোক ছিলেন। তার কাহিনী পড়ে জানা যায় তিনি এক রমনীকে সাহাজ্য করতে গিয়ে শয়তানের ধোকায় পড়ে ধীরে ধীরে তার সাথে সম্পর্ক এবং অবশেষে ব্যাভিচারে জড়িয়ে পড়েন। তার এমন অধঃপতন হয় যে শেষ পর্যন্ত সে শয়তানকে সেজদা করে মৃত্যুবরন করে।
ফেসবুকে যেসব হুজুরেরা হাজার হাজার নারী ফলোয়ার এবং সুন্দ্রীদের লাইক কমেন্টে পরিবেষ্টিত হয়ে ছাঁইয়া ছাঁইয়া করে জিহাদ করছেন তাদের এই বারসিসার পরিনতি থেকে শিক্ষনীয় কিছু আছে।
আপনি ফেসবুকে নাস্তিকদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক তর্ক করতে করতে করতে কোন মেয়ের উপর ক্রাশ খেয়ে যাবেন মনের অজান্তে, তারপর ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে যাবেন। মুক্তমনারা ছ্যাকা খেলে দেবদাস হয়ে যায় আর দাড়ি বিহীন হিপোক্রেট হুজুররা ছ্যাকা খেলে হয়ে যায় জঙ্গী নিব্রাস। তারপর একদিন র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মরে চ্যাগায়া পড়ে থাকবেন যখন তারপর সুন্দরীরা আপনার উপর খাবে ক্রাশ।
লেখকদের সাইকোলজি সম্পর্কে আমার কিছুটা ধারনা আছে। তাদের মাথায় সব সময় চলতে ফিরতে চিন্তার ঝড় বইতে থাকে। বাঁধভাঙ্গা বানের পানির মত তাদের মাথায় আইডিয়া প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়তে থাকে। যারা লেখালিখি করেন তারা সাধারনত নামাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। ইমাম সাহেব কেরাত পড়ার সময়ও তাদের মাথায় হয়তো তখন নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কোনো লেখার বুদ্ধিবৃত্তিক আইডিয়া ঘুরপাক খেতে থাকে।
তর্ক করতে করতে এক সময় নিজের বুদ্ধি এবং লজিক্যাল ক্ষমতার উপর অহংকার চলে আসে।
যার অন্তরে সরিষা পরিমান অহংকার আছে সে বেহেশতে যেতে পারবে না।
যার মনে আল্লাহর ভয় আছে সে বিনয়ী হয়, সে যেখানে সেখানে ইসলামিক বিষয়গুলো নিয়ে তর্ক জুড়ে দেয় না। কোরান হাদিস এর একটা সম্মান আছে আপনি এগুলো নিয়ে তুমুল বিতর্ক করে এগুলোর সম্মান রক্ষা করছেন নাকি আপনার যুক্তির অহংকার জাহির করছেন তা আপনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারছেন না। আল্লাহ মানুষের অন্তরের খবর রাখেন।
নাস্তিক হোক, মুক্তমনা হোক, হুজুর হোক কে শেষ পর্যন্ত কোন অবস্থায় মৃত্যুবরন করে কেউ বলতে পারে না।
চরম নাস্তিক এক সময় হেদায়েত পেয়েও যেতে পারে আবার চরম ইমানদার ব্যাক্তি অহমিকার কারনে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
আপনি সঠিক পথে আছেন তা আপনি যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে যাওয়া বোকামী। আমি সঠিক রাস্তায় আছি, অমুকের আকীদা গলদ এসব নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করা খুবই হাস্যকর কাজ। অদৃশ্য জিনিসের উপর বিশ্বাস এবং আশা করা যায় কিন্তু সেটা গানিতিক সুত্র দিয়ে প্রমান করতে যাওয়া উচিত নয়। মৃত্যুর পরে আসলে কি হবে সেটা আসলে একটা রহস্য। আপনি বা আমি যেভাবে ভাবছি তা ঠিক সেভাবে নাও হতে পারে। হতে পারে সম্পুর্ন ভিন্ন কিছু চমক অপেক্ষা করছে। সেজন্য যুক্তি তর্কের অহংকার পরিত্যাগ সরল মনে বিশ্বাস এবং আশা রাখা উচিত এবং সব সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত আল্লাহ আমাকে সঠিক পথ দেখাও।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু আবার ধেয়ে আসছে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যক্রম রূপকল্প

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪১


লেখাটির উপক্রমনিকা
মাস কয়েক আগে সামুর পাতায় ব্লগার কলা বাগান ১ এর একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে । লেখাটিতে থাকা মুল কথাগুলি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×