১৬ মার্চ একটি খবর ছাপালো “আরও একটি মার্কিন ড্রোনকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়েছে ইরান” শিরোনামে। খবরটি পড়ে ভালো লাগলো কিন্তু হাসি পেলো সংযুক্ত ছবি দেখে। ছবির ক্যাপশনে লেখা “মার্কিন ড্রোনকে (নিচে) ধাওয়া করছে ইরানি জঙ্গি বিমান”। কিন্তু ছবিতে মার্কিন ড্রোন বলে যেটাকে দেখানো হয়েছে তা আসলে একটি মিসাইল, কখনই ড্রোন নয়। আসলে ড্রোন হচ্ছে ছোট আকৃতির চালকবিহীন বিমান যা সাধারনতো গোয়েন্দা কাজে বা ছোটখাটো বিমান হামলা করার কাজে ব্যবহৃত হয়। ছবিটি যে এডিটিং করা তা স্পষ্টই বোঝা যায়। তাছাড়া ছবিতে মনে হচ্ছে কতিথ ড্রোন আর ইরানি জঙ্গি বিমান শ খানেক ফুট দুরে। এতো কাছে শত্রু বিমান থাকলে ইরানি বিমান তাকে অবশ্যই গুলি করতো। বাস্তবে দুই শত্রু বিমানের দুরত্ব নুন্যতম কয়েক কিলোমিটার থাকে। ড্রোন বিমান আসলে জঙ্গি বিমান নয়। তাই যখনই বিপদ সীমায় কোন শত্রু জঙ্গি বিমান আসবে তা সাথে সাথেই পালিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। নিশ্চই শত্রু বিমানকে মাত্র কয়েকশো ফুট কাছে আসার পর পালাবেনা। ওই খবরেই বলা হয়েছে “ইরানের জঙ্গি বিমান ড্রোনের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে এলে তাকে সতর্ক করে দেয়া হয় বলে জানায় পেন্টাগন। অবশ্য পরবর্তীতে ওই বক্তব্য অস্বীকার করেন পেন্টাগন মুখপাত্র।”। ইরানি বিমানের ধাওয়া খাওয়াটা অপমান জনক বলে হয়তো বক্তব্য অস্বীকার করেছে পেন্টাগন। তবে ২৫ কিলোমিটার দুরত্বের কথাটি বাস্তবসম্মতো। অথচ ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইরানি জঙ্গি বিমান আর কথিত ড্রোন খুব কাছ দিয়ে একই সাথে সমান্তরালে যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো এই ছবিটি কোথায় পেলো ওরা? এই ভুয়া ছবি দেওয়ার প্রয়োজনটা কি ছিলো ? পত্রিকার জায়গা ভরাট করা নাকি খবরটাকে আকর্ষনীয় করা ? ভূয়া ছবি দিলো তো দিলো ড্রোনের যায়গায় মিশাইলের ছবি কেনো দিলো ? মিশাইলের যায়গায় ফটোশপে এডিট করে একটি ড্রোনের ছবি দিলে কি হতো ? ইন্টারনেটেতো সার্চ দিলে বিভিন্ন মডেলের ড্রোনের ছবি পাওয়া যেতো। ঠিকমতো বাটপারিটাও করতে পারে না।
শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে ওরা মিথ্যা খবর ছবি ইত্যাদি ছাপায় না হয় মানা গেলো। কারন এতে তাদের স্বার্থ আছে। কিন্তু মার্কিন আর ইরানি বিমান নিয়ে এই মিথ্যা ছবি ছাপানোর মানে কি ? নাকি ওদের মিথ্যাচার থেকে অসহায় বিমান গুলোও রক্ষা পাবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


