somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন রেখেছি আমাদের কৃষক দের !!!!!!

১৬ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ পশুকে পোষ মানিয়ে তাদের দ্বারা অনেক কার্য সাধন করে,যেমন ধরুন গরু দ্বারা কখনো জোয়াল, কখনো গাড়ী অথাবা কখনো লাঙ্গল টানানো হয় । পরিনামে কি পায় গরু ??
পরিচারক এর হাতে লাঠির পেটন আর মাঝে মাঝে কুড়া ও ভুষি।
শেষ বয়সে এসে সেই গরুটির মাংস শোভা পায় কোন বড় লোকের খাবারের প্লেটে , চামড়া চলে যায় কোন এক চামড়া পক্রিয়াজাত কারখানায় , সেখান থেকে তৈরি হয় নানান চামাড়া জাত পণ্য।
সেই পণ্য বাজার যাত করে লাভবান হয় মধ্যবর্তী নানা মানুষ আর উপহার সরূপ গরুটি পায় নির্মম মৃত্যু!!!

বর্তমান আমাদের দেশের কৃষকদের অবস্থা ধিক এমন।
ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি, আমাদের দেশের ৮০% লোকই কৃষিকাজ করে। বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ , এ দেশের নির্ভরতার প্রতিক কৃষক। তাদের ঘাম ঝরিয়ে ফলানো ফসল এদেশ সহ বাইরের দেশের মানুষের উদর পূর্তি করায়।
বাংলাদেশের সর্বমোট প্রবৃদ্ধির ১৮.৬% (data released on November, 2010) আসে কৃষি খাত থেকে। যা অন্যান্য খাত থেকে অনেক উপরে।
কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পিছনে মুখ্য ভুমিকা কাদের??

শুধু তাই না আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, ঔষুধ তৈরির কাচামাল ইত্যাদি কৃষিজাত পণ্য যা কিছু আছে সব ই কিন্তু আমাদের কৃষকের কষ্টের ফলিত ফসল।
এইতো কয়েক দিন আগে চৈত্র মাস গেলো । এই চৈত্র মাসের প্রখর রৌদ্রে অথবা মুষুলধারে বৃষ্টির মাঝে আপনারা কত বার বাইরে গিয়েছেন বলতে পারেন ??
কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকের কাছে প্রখার রৌদ্র অথবা বৃষ্টি কিছুই না কারণ তাদের কাছে এই কষ্টের চেয়ে অন্যান্য মানুষের পেটের অন্য ফলানো মুখ্য।। তারা নিজেদের কে উৎসর্গ করেছে আমাদের জন্য।।

কিন্তু কেমন রেখেছি আমরা তাদের???
তারা তো নিজের পুরোটায় দিয়ে দিয়েছে আমাদের জন্য পরিনামে আমারা তাদের দিয়েছি দারিদ্র, লাঞ্চনা,মৃত্যু।
আজ পত্রিকার পাতা খুললে কৃষকের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে , অথবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মৌলিক চাহিদা পুরন করতে না পেরে আত্ব্যহত্যার খবর দেখতে পাওয়া যায়।।

কৃষকের ক্ষেত যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর কবলে পরে তবে কৃষকের দূর্দশার সীমা থাকে না কেননা তখন ফসল উৎপাদন কম হয় তাই তার উৎপাদিত খরচের টাকা ফসল বিক্রি করে উঠে আসে না।
আবার বাম্পার ফলন করেও তাদের দূর্দশার অন্ত থাকে না কেনন না তখন নাকি ফসলের মূল্য কমে যায়।

গত বছর দেখেছিলাম, ঠাকুরগায়ে রাস্তায় আলু ফেলে কৃষদের প্রতিবাদ জানাতে কারণ আলুর দাম ছিল খুবই কম, প্রতি ৫ কেজি আলুর পাইকারি দাম ছিল ৪ টাকা।

গতবার টমেটোর বাম্পার ফলন হওয়াতে কৃষকেদের টমেটো বিক্রি করতে হয়েছে প্রতি কেজি ১ টাকা পাইকারি দরে।

এই বছর ধানের পাইকারি দাম ৩৫০ টামা মণ কিন্তু যেখানে ধানের উৎপাদিত খরচ মণ প্রতি ৫০০ এর অনেক উপের।

আবার কাঁচামরিচের পাইকারি দাম এখন ৪ টাকা কিন্তু তা দিয়ে মরিচ তোলা এবং যাতায়াত খরচ ই উঠে আসছে না।।

একজন কৃষকের আয়ের একমাত্র আয়ের উৎস তার উৎপাদিত ফসল।
যেখানে এক মণ ধানের দাম ৩৫০ টাকা যেখানে গরুর মাংসের দাম ৩৬০ টাকা, হিন্দুদের জন্য খাসীর দাম বাদই দিলাম।
অন্যান্য পণ্যের কথা না হয় না ই বললাম।

একবার ঢাকার বাজারের দিকে একবার তাকান !!
ঢাকায় আপনি আলু সর্বনিম্ন কত টাকা দরে কিনেছেন ??
২০ টাকা??
চাল ??
৩৮ টাকা??
১ মন ধান থেকে কম করে হলেও ২৮ কেজি চাল হয় ??
তাহলে ২৮*৩৮=১০৬৪ টাকা।
কোথায় ৩৫০ আর কোথাউ ১০৬৪ ।

আবার ঢাকার বাজারে এখন কাঁচামরিচের দাম কত??
৩০ টাকা কেজি??

একবার ভাবুন?? কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত আসতে মূল্যের কত তারতম্য !!!
মাঝের এই টাকা গুলী যায় কোথায়??
কোথাও না মাঝের লোক গুলো সব রক্ত চোষা গিরগিটি তারা কৃষকের প্রাপ্প টাকা নিজের পকেটে ভরে নিজে অট্টালিকায় বসবাসা করে ।পরিনামে কৃষক কে দিন কাটতে চরম দুর্দশা মেনে।

আমাদের দেশেই যেহেতু ধানের বাম্পার ফলন হয় এবং উৎপাদিত ধান দিয়ে আমাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব তবে কেন কৃষকে মেরে অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষার জন্য বাইরে থেকে চাল আমদানী করতে হবে।

যেহেতূ আমাদের দেশ কৃষি নির্ভর দেশ তাই কৃষিকে বাঁচাতে হলে কৃষকে বাঁচাতে হবে আগে।
তাই কৃষকদের বাঁচান দেশ বাঁচবে।।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×