
বন্ধুদের সবাই যদি সিঙ্গেল থাকে তবে আড্ডার মূল একটি বিষয় অবধারিতভাবে থাকে প্রেম –ভালোবাসা । একজন বন্ধু আরেকজন বন্ধুকে যথেষ্টভাবে অনুপ্রাণিত করে সিঙ্গেল জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে । আর সেই গ্রুপের কেউ একজন যদি হঠাৎ করে কোন একজন মেয়ের প্রেমে পরে যায় তবে বন্ধুদের আড্ডার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে সেই প্রেমিক বন্ধু । প্রেম কিভাবে করতে হয় , কি উপহার দিতে হবে প্রেমিকাকে তার ব্যর্থ ও অব্যর্থ সব কৌশল ও পরামর্শের দেখা মিলবে বাকি সব বন্ধুদের কাছ থেকে । বন্ধু তার প্রেমিকার সাথে কি কথা বলে তা জানার জন্যে অধীর অপেক্ষায় থাকে। কোন একজন মেয়ে যদি একবার তাকায় তখন ভাবে আমাকে মনে হয় পছন্দ করে মেয়েটি। আবার সেই বন্ধুদের কেউ কেউ হতাশ হয়ে উদাস হয়ে সেই প্রেমিক বন্ধুকে নিয়ে আলাপ করে । মাঝে মাঝে বলবে , ইশ ! আমার যদি একজন গার্লফ্রেন্ড থাকতো । একজন প্রেমিকার অভাববোধে সেই বন্ধুকে মাঝে মাঝে হিংসেও করবে । কিন্তু আবার যখন প্রেমের ক্ষেত্রেই সেই প্রেমিক বন্ধু কোন বিপদে পরবে তখন সেই বন্ধুরা বন্ধুর প্রেমের সার্থক রুপ দেয়ার চেষ্টায় নেমে পরে ।
প্রেম বলে কয়ে আসেনা , হঠাৎ করে প্রেম কারো জীবনে প্রবেশ করে । কেউ একজন হয়ত খুব করে ভালোবেসেছিল তাই হয়তো অন্যজনের মাঝেও তার প্রতি ভালোবাসার আবেশ বেড়ে ওঠে । কেউ একজন হয়ত খুব অপেক্ষায় থাকে তার জীবনটা অন্যরকম করে দিবে একটা মায়াবতী মেয়ে এসে ভালোবেসে । বিশেষ কারো অপেক্ষায় থাকে , ভালোবাসার দ্রাঘিমাংশ-অক্ষাংশ রেখা আঁকে । মানুষ অদ্ভুতভাবে ভালোবাসতে ভালোবাসে ।নিজে থেকেই এক কল্পনার কক্ষপথ তৈরি করে কাছের মানুষটিকে ভালোবাসে । My girl and I চলচ্চিত্রে পরিচালক জিউন ইয়ন সু অদ্ভুতভাবে জোছনা দেখতে ভালোবাসা , অদ্ভুতভাবে বৃষ্টিতে ভেজা , প্রেমে পরা মুহূর্তগুলো ফ্রেমে বন্দী করে দুজন প্রেমিক –প্রেমিকার জীবনকে তুলে ধরে।

২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া কোরিয়ান চলচ্চিত্র My girl and I এর স্ক্রিনপ্লে করে কোরিয়ান চলচ্চিত্র My Sassy Girl ও The Classic এর চলচ্চিত্র নির্মাতা Jae-young Kwak । দাদা ও নাতির রসিকতা কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গল্পে একসময় নাতির সাথে নিজের জীবনের প্রথম ভালোবাসা নিয়ে আলাপচারিতা শুরু করে দাদা । যে ভালোবাসায় আছে দায়িত্ব , কাউকে নিজের করে নেয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা । সেই প্রেমটা নাতি ভাবে দাদার সাথে দাদীর ছিল কিন্তু দাদা একসময় বলে তার প্রথম প্রেম তার স্ত্রী নয় , অন্যকেউ । আর নাতির চিন্তায় ঘুরে আরেক বিষয় , ভাগ্যিস প্রেমটা সফল হয়নি তা না হলে তার আসা হতোনা পৃথিবীতে ।
যখন মানুষ সিরিয়াস থাকে তখন প্রেমটা তার জীবনে ধরা দেয় না হয়ত , কিন্তু সিরিয়াস ছাড়া থাকা মুহূর্তে জীবনে প্রেম এসে গেলে অনেক সময় তা ঠিক বুঝতেও পারেনা । মাঝে মাঝে রসকষহীন চুপচাপ টাইপের মানুষের জীবনে প্রেম এসে পরলে সেই মানুষটা ভালোবাসার মানে বুঝতে শুরু করে । তখন সবকিছুতেই ভালোবাসার মানুষের ইচ্ছেগুলোর কথা মনে করে । রোমান্টিক সব আদিখ্যেতা দেখা দেয় । আর প্রেমিক খুব চঞ্চল টাইপের হলে মাঝে মাঝে বোকার মতন আচরণ করে , প্রেমিকার কাছে সেই চালাক ছেলেও বোকা – অবুঝ । একেই হয়ত প্রেম বলে , ভালোবাসা বলে ।
একজন সত্যিকারের প্রেমিকের কাছে ভালোবাসার গভীরতা কতখানি , তার কাছে প্রেমিকার জন্যে অপেক্ষা –ভালোবাসার কতখানি মূল্য আছে তা কোরিয়ান চলচ্চিত্র My girl and I এর পর্দাজুড়ে বারবার যেন দর্শককে আবিষ্কার করতে বলে যায় । স্নিগ্ধতা – ছুটে চলা গতিপথ , সময়ের সাথে জীবনের বোঝাপড়া , সাইকেলে চড়ে নিজেকে হারিয়ে যাওয়ার মানুষ করে নেয়া সব মুহূর্তগুলোই জীবনের অংশ । জীবন কাছ থেকে মানুষের সাথে ছুটে চলে , অর্থবহতা বহন করে , ভালো লাগার মিশেল দিয়ে যায় । আর তা নিয়েই কিছু মানুষ বেঁচে থাকে আর তাদের জন্যে ভালোলাগার একজন মানুষকে নিয়ে বেঁচে থাকার প্রেমে ঘুরে বেড়ায় ।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


