somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বগা লেক-কেওক্রাডং থেকে ফেরার পর (১)

০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেওক্রাডং থেকে ফিরেছি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি। এর পরপরই ব্লগটি লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ২৫ তারিখের বিডিআর কান্ডের পর সারাদেশের চিত্রই পাল্টে যায়। ব্লগেও লাগে বিশাল এক ধাক্কা। এ কারণেই লিখতে দেরি হল।

অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম দূরে কোথাও ঘুরতে যাব। কিন্তু মতানৈক্য থাকায় কই যাব তা ঠিক করতে পারছিলাম না। অবশেষে ঠিক করলাম বগা লেক যাব আমরা। আমরা মানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের এমবিএ ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। কাটছাট করে দলের সদস্য সংখ্যা হল ১৫ জন। ট্যুর করার জন্য সংখ্যাটা খারাপ না। অবশেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে আমরা ডলফিন পরিবহনের বাসে চড়ে বান্দরবান যাত্রা করি। বলে রাখা ভাল, বান্দরবান যাবার জন্য যে কটি বাস রয়েছে তার মধ্যে ডলফিনই ভাল (অবশ্য ভ্রমণ শেষে আর এ কথা মনে হবে না!) বিশ তারিখ সকালে নামলাম বান্দরবানে। সেখান থেকে সকালের খাবার খেয়ে বেরুলাম “চান্দের গাড়ী” র খোঁজে। উদ্দেশ্য রুমা ঘাট। অনেক দরদামের পর ১৪০০ টাকায় রফা হল। মূল অভিজানের শুরু এখান থেকেই।



কি চমৎকার সব দৃশ্য! পুরোটা পথ সাঙ্গুকে সাথে নিয়েই আমরা চলেছি আর মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলেছি। পথে দেখেছি অনেক পাহাড়ী বন, পাহাড়ী গাছ, পাহাড়ী পাড়া , পাহাড়ী মানুষ! খালি পাহাড় আর পাহাড়! আর পাহাড়ী পথের এক একটা বাঁক পেরুতে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যায়। কোথাও কোথাও তো ১৮০ ডিগ্রী পর্যন্ত বাঁক দেখেছি! রাস্তার অবস্থা মোটামুটি ভাল, তবে কয়েক জায়গায় বেশ ভাঙ্গাচোরা। এক জায়গায়তো আমাদের গাড়ি আটকেই গেল। অনেক কষ্ট করে ঠেলেঠুলে গাড়ীটাকে আবার রাস্তায় তোলা হল। অবশ্য বছর দুয়েক আগেও রাস্তার অবস্থা এতটা ভাল ছিলনা। মাঝে মাঝে পাহাড় ধস হয় এ রাস্তায়, এছারা বর্ষায় কিছুটা ভেঙ্গে চুরে যায়। আর বেপরোয়া গাড়ি চালালে কি অবস্থা হয় তা সহজেই অনুমেয়! স্থানীয়রা একটি চান্দের গাড়িতে আনায়াসেই ৩৫-৪০ জন চড়ে। কিন্তু ট্যুর করতে গেলে একটি গাড়িতে ১৫-২০ জন চড়াই ভাল। যেতে যেতে এত সুন্দর সুন্দর সব দৃশ্য দেখছিলাম যে মনে হচ্ছিল একটির চেয়ে আর একটি জায়গা সুন্দর! কয়েকবার গাড়ি থামিয়ে ঝটপট কয়েকটা ছবিও তুলে নিলাম আমরা। ২০-২৫ কিলোমিটার পর একটি আর্মি ক্যাম্পে এসে আমাদের গাড়ি থামল। এ জায়গাটাকে বলা হয় গ্যারিসন- ওয়াই জংশন। এ রাস্তায় সোজা চলে গেছে চিম্বুক-নীলগিরী আর বাম দিকের রাস্তা দিইয়ে রুমা। ক্যাম্পে নাম লিখিয়ে আমরা আবার চললাম রুমার পথে।



এ রাস্তার পাশের দৃশ্যগুল আরও সুন্দর!। তবে এদিকটায় এসে রাস্তা আর ততোটা ভাল নয়। কোথাও দুপাশে পাহাড় আবার কোথাও একপাশে পাহাড় আর অন্যপাশে গভীর খাদ! রাস্তাও বেশ সংকীর্ণ। তবে চান্দের গাড়ির চালকেরা এতটাই অভিজ্ঞ যে, কখনো কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে- ভাবাই যায়না। প্রায় ৩০ কিলোমিটার চলার পর আমরা রুমা আর্মি ক্যাম্পে এসে পৌছালাম। এখানে আবার নাম লিখিয়ে চলে গেলাম নদীর ঘাটে। গাড়ির ভাড়া মিটিয়ে রওনা দিলাম নৌকার খোজে। রুমা ঘাট থেকে দুভাবে রুমা বাজার যাওয়া যা। হয় জন প্রতি ২ টাকা করে দিয়ে নদী পার হয়ে হেটে যেতে হবে অথবা নৌকায় সরাসরি রুমা বাজার পর্যন্ত যাওয়া যাবে। শরীর ক্লান্ত থাকায় আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম নৌকাতেই যাব। ২৫০ টাকা করে দুটো নৌকা ভাড়া করলাম (প্রতি নৌকায় ৬-৭ জন চড়া যায়)। ওহ! কি সুন্দর নদী! কি সুন্দর টলটলে সাঙ্গু নদীর পানি!। শীতকাল বলে নদীর পানি এখন খুবই কম, হেটেই পার হওয়া যায়। নদীর দুধারে দেখলাম জুম চাষ। বিভিন্ন সবজি আর বাদাম চাষ হয় এখানে। এছাড়া কিছু জায়গায় ধান ও বিশেষ প্রজাতির তামাকও চাষ হয়। ভর দুপুরে এসে নামলাম রুমা বাজার ঘাটে। আমাদের টার্গেট ছিল ঐদিনই বগা লেক যাওয়া। তাই আবার ছুটলাম চান্দের গাড়ির খোজে। কিন্তু বিধি বাম! গরু খোজার পরেও কোন গাড়ি পেলাম না। জানতে পারলম সেদিনের মত সব গাড়ি চলে গেছে। এদিকে আবার ঘড়ির কাটাও প্রায় ৩টা ছুঁইছুঁই। ৩টা পর বগা লেক যাবার অনুমতিও মেলে না। তাহলে এখন উপায়!

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪২
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×