somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মকথন -৫

০৫ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


4th july,10
2205




সর্দিটা ভালোই ধরেছে । নাক বন্ধ একটা । বড়ই কষ্টে আছি !


শুক্রবারে মসজিদে জুম্মার নামায পড়তে গিয়েছিলাম । এটা নতুন কিছু না । ব্যপারটা হল আমার এক বন্ধু তাবলীগে গিয়েছে । তার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম । সেখানে গিয়ে তাবলীগ সম্পর্কে কিছু ধারণা পেলাম ।

নামাযের পর বেশ কিছুক্ষণ বয়ান হল । শুনলাম । সেই বয়ানে ‘দাওয়া’ এর গুরুত্ব বুঝানো হচ্ছিল । ব্যাখ্যা দেয়া হল ইসলামে দাওয়া এর গুরুত্ব কত । এর কাজে জড়িত যারা তারা কত সওয়াব পাবেন । আরো অনেক কিছুই বলা হল । তবে পরের দিকে নিজেরা গল্পে মগ্ন ছিলাম বলে আর শোনা হয়ে ওঠেনি ।

একটু পরে বয়ান শেষ হল ।খাওয়া দাওয়া হবে । দুপুরে কিছু খাইনি । ক্ষুধা ভালই ছিল । আমি খাওয়ার প্রতি আগ্রহ দেখালাম । কিন্তু একটু পরেই সেই আগ্রহ নষ্ট হয়ে গেল । নষ্ট করে দিল আমার বন্ধু । সে শুধু খাবার নিয়মটা বলল । তাতেই আমার খাবার ইচ্ছেটা উবে গেল । খাওয়ার নিয়মটা এরকম , খেতে হবে অনেক বড় একটা plate এ । সেটা কোন সমস্যা না । না হয় একটু বড় থালায় খেলামই । এতে কিছু যায় আসে না । কিন্তু এক plate খেতে হবে চারজন করে । এই কথা শুনে আমি এক ধাক্কায় পিছিয়ে গেলাম । বুঝলাম , সবাই ভাই ভাই । হয়তো কেউ মামা-চাচা , বা আর কিছু । কারো প্রতি আমার কোন অশ্রদ্ধা নেই । কিন্তু একই plate এ সবার সাথে খেতে আমার চরম অস্বস্তি লাগে । কখনো এভাবে খাইওনি । আরো ব্যাপার আছে । সব খাবারই শুকনা না । খাবারের তালিকাতে ডালও আছে । এই জিনিসটা কিভাবে সবাই এক plate এ খায় এটা আমি এখনো বুঝিনা । যাহোক , সেখানে আর আমার খাওয়া হল না । না খেয়েই বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ।

যখন বাইরে বের হলাম তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছিল । ভালই লাগল । সাথে আরেক বন্ধু ছিল । বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হাঁটতে থাকলাম । একটা চায়ের দোকান চোখে পড়ল । গিয়ে বসলাম চা খেতে । বৃষ্টির মধ্যে চা খেতে একটা অন্যরকম মজা পেলাম ।

আজ সন্ধ্যায় pool খেলে যখন বের হলাম তখন আমার সাথের বন্ধুটি বলল তার নাকি বিশাল আকারের ক্ষিদে পেয়েছে । খাওয়ার প্রস্তাব দিল । খেতে আমার খুব বেশি আপত্তি নেই যদি ভাল খাবার হয় । তো গেলাম এক restaurant এ । গিয়ে খাবারের order দিলাম । খাবার এল । খেতে থাকলাম । সমস্যা হল খাওয়ার দিকে খুব বেশি মনযোগ দিতে পারছিলাম না । কারণ , পাশের table এ একটা couple ছিল । সেটা আসলে কোন সমস্যা না । আর আমি সাধারণত কারো দিকে নজরও দিই না বা কান পেতে কথাও শুনিনা । কিত্নু আমার বন্ধু খাওয়ার ফাঁকে আমাকে খোঁচা দিল । ইঙ্গিত করল কথা শুনতে । আমি আগ্রহ বশত কিছু কথা শুনার চেষ্টা করলাম । একটু পর আমি বুঝতে পারলাম কেন আমি খোঁচা খেয়েছি । পাশের table এ ভদ্রলোকটি তার সাথের সঙ্গীটির কাছে তুমুল চাপা ছেড়ে যাচ্ছিলেন । আর তার সাথের সঙ্গীটিও সম্ভবত সেগুলি হজম করে যাচ্ছিলেন । একবার একটা কথা শুনে আমার বন্ধুটি আমার কানে কানে বলল , ‘উঠে গিয়ে একটা চড় মারি ?’ আমি না করলাম । চড় দিলে কি হবে জানিনা । দরকার কি ? বড়ং শুনি , মজা নিই । ওই ভদ্রলোক দাবী করছিলেন যে তিনি Microsoft এ কাজ করেন । কিন্তু তিনি যে বিদ্যার পরিচয় দিলেন তাতে একটূ সন্দেহই হল যে Microsoft আজকাল কাদেরকে কাজে নিচ্ছে । তবে যাই হোক ভদ্রলোকের চাপাগুলি শুনে অনেক মজা পেয়েছি । এখনো যে কেউ এরকম চাপা মেরে যেতে পারে তা ভুলেই গিয়েছিলাম ।


গতকাল argentina আর Germany এর খেলা দেখলাম । আমি অবশ্যই Germany এর supporter ছিলাম এত ব্রাজিল-আার্জেন্টিনার ভীড়ে । সন্ধায় বাইরে ছিলাম । খেলা দেখতে বাসায় ফিরবার একটা তাড়া ছিল । তাড়াহুড়ো করেও দেরি হয়ে গেল । যখন খেলা শুরু হয় আমি তখন বাসা থেকে ১৫ minute এর দূরে । রাস্তায় কোন বড় বা ছোট t.v screen দেখলেই উঁকি মারছিলাম ।রিকশাতে বসেই হঠাৎ শুনি চিৎকার । ব্যাপারটা কি বুঝতে পারলাম না । কারণ তখন আশেপাশে কোন t.v নাই । mobile এ call দিলাম একজন কে । শুনলাম জার্মানী নাকি গোল দিয়েছে । খুশিতে আরেকটু হলে রিকশা থেকে পড়েই যেতাম । যাহোক রিকশা গন্তব্যে পৌঁছল শেষ পর্যন্ত । যেখানে রিকশা থামে সেখান থেকে আমার বাসা পর্যন্ত হেঁটেই যেতে হয় । আমি হাঁটলাম না । বাসার দিকে দৌড় দিলাম । যখন পৌঁছলাম ততক্ষনে ২০ minute শেষ । বাকিটূকুই দেখলাম । আর ত্তারপরতো সবার জানাই আছে । জার্মানী আার্জেন্টিনা ভেঙ্গেচুরে match টা জিতে নিল ।


আজ কোন কারণ ছাড়াই একটু যেন ফুর্তিতেই ছিলাম ।

আজকের লেখা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন electricity গেল । বারান্দায় গিয়ে বসলাম । কফির কাপ হাতে । বাইরে নজর বুলোলাম । মাথায় অনেক চিন্তাই ভর করল । মনে পড়ে গেল দুই দিন আগে বাসায় ফেরার সময়ের কথা । রিকশা না পেয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল । হেঁটেই বাসায় ফিরছিলাম । আমার সাথে আরেকটি ছেলেও ছিল । আসবার সময় দেখলাম এক লোক রাস্তার পাশেই নেশা করছে । তার পাশেই দুইজন পুলিশ একটি truck কে কি কারণে যেন আটকেছে । এই দৃশ্য দেখে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল । আজ মনে পড়ায় আবারো মন খারাপ হয়ে গেল । আমি কখনো নেশা করিনি । তীব্রভাবে ঘৃণা করি । আর আমার ভাগ্যেই আঘাত হানে এই নেশা । আমার খুব প্রিয় মানুষটা নেশার ছোবল থেকে বেঁচে ফিরেছে । আর এখন যার জন্য মন কাঁদে তাকেও টেনে রেখেছে এই নেশার ব্যাধি । কেন আমাকে বারবার এর মধ্যে দিয়েই যেতে হবে ?

আমি একবার সাহস করে বলতে পেরেছি । আবার সাহস করে এগোন নিশ্চয়ই খুব কঠিন নয় । আর কঠিন হলেও আমাকে এগোতে হবে । আর যে কিছু করার নেই । কি হবে সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই । কি হতে হবে সেটাই এই মুহুর্তে আসল ব্যাপার ।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×