somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমানুপাতিক আত্নকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত উদ্ভট সমস্যা!

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'একটু চেপে দাড়া।'

'আর কত চাপব? আমি কি খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়েছি নাকি?'

'খুব গরম লাগছে রে!'

'এখন আমি কি করব এসি ফিট করে দিতে হবে নাকি এখানে?'

লোকাল বাস মানেই হল গরম, চাপাচাপি, ঝামেলা, এবং হুলুস্থুল কান্ড! দুই বন্ধু মিলে ঝুলে ঝুলে যাচ্ছি বাই বাস। দাড়ানোর জায়গাও নেই। তারপরও কোনরকমে দাড়াতে হয়েছে। এদিকে ভ্যাপসা গরম তার ওপর আবার গাদাগাদি করে দাড়ানো ফলে গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। এরপর আরেক সমস্যা হল জ্যাম। থেমে থেমে বাস চলছে। এত ঝামেলার মাঝে আবার আরেক সমস্যা এসে দাড়াল একটা পিকনিক বাস। এই সময় আবার কিসের পিকনিক বুঝলাম না। তাদের মাইকের প্যানপ্যানানিতে মাথাটা আরও হট হয়ে গেল। ভাবছি আজকেই কি এসব হওয়া খুব দরকার ছিল? বারবার এদিক- ওদিক খেয়াল রাখছি কোন সিট খালি হয় কিনা। একটু পর একটা ছেলে উঠতে না উঠতে সামনের একটা সিট খালি পেয়ে গেল। এটা দেখে আমার কি ইচ্ছে হচ্ছিল একবার বুঝে দেখুন। এতক্ষন দাড়িয়ে থেকে একটু দাড়ানোর জায়গা পাচ্ছি না। আর ঐ বেটা এসেই বসে গেল। এরমধ্যে আবার আমার বন্ধুর মুখ ফুটল,

'এই শুনছিস?'

'কি?'

'সাবধানে দাড়াস!'

'দাড়াতেই পারছি না আবার সাবধানে কি করে দাড়াব?'

'মোবাইল সাবধানে রাখিস!'

'বলতে হবে না। আমি ছোট খোকা না!'

'কোনদিক দিয়ে যে কাজ করে দেবে তুই টেরও পাবি না! সো সাবধান!'

'ওকে বাবা! এবার একটু অফ যা।'

হঠাৎ একটু দমকা বাতাস এল। আহ কি শান্তি! এ এক অদ্ভুত অনুভুতি। আবার জ্যাম এবং আবার প্যানপ্যান। সাথে পিকনিক বাস তো আছেই। আর সাথে বোনাস হল চাপাচাপি। হোয়াট এ লাইফ! আচমকা বাস থামল। দেখি একসাথে কয়েকজন যাত্রী সিট ছেড়ে উঠে দাড়াল নামবে বলে। আমার যে কি আনন্দ হচ্ছিল সেটা এখানে যতই ব্যাখ্যা করি তবুও বোঝানো সম্ভব না। আমি সিট পছন্দ করছিলাম। ভাবছি কোন সিটে বসব। এমন সময় বাসের হেলপারটি এসে বলল,

'ভাইজান নামবেন না?'

'না ভাইয়া! আমি আরও পরে নামব। আপাতত নামবার কোন খায়েশ নেই!'

'কিন্তু আপনাকে তো নেমে যেতে হবে!'

'নেমে যেতে হবে মানে? ফাজলামী কর নাকি হা?'

'ফাজলামী না ভাই। চাক্কা ফিউজ হয়ে গেছে তো তাই!'

এবং ক্রাশ খেলাম! নেমে গেলাম বাস থেকে। এতক্ষন যাও ছায়ার মধ্যে ছিলাম আর এখন রোদের মধ্যে। হঠাৎ দেখি আমার বন্ধুটি ভীষন উত্তেজিত হয়ে কি যেন খুজছে! বললাম,

'কি খুজছিস?'

'আরে ব্যাটা আমার মোবাইল খুজে পাচ্ছি না!'

'বলিস কি?'

'হ্যা রে! বাস থেকে নামার পর পকেটে হাত দিয়ে দেখি মোবাইল নেই! আমার এত টাকার স্মার্টফোনটা!'

'মোবাইল সাবধানে রাখা উচিত ছিল। দেখলি তো কোনদিক দিয়ে কাজ করে দিল টেরও পাস নি!'

'আমার ডায়ালগ আমাকে দিচ্ছিস? এখন মজা করার সময় না!'

'এই নে তোর স্মার্টফোন! এবার থেকে সাবধানে রাখিস!'

ফোনটা ওকে ফেরত দেয়ার পর ও একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। সকাল থেকে এত ঝামেলা পোহানর পরও আমার এখন খুব হাসতে ইচ্ছে করছে ওর এই নিস্তব্ধ মার্কা চেহারা দেখে। কড়া রোদের মধ্যে দুই বন্ধু হাটছি। ফোন পেয়েও বেচারা মুখ গোমরা করে আছে। দেখি এবার বাসে উঠে কোন ক্রাশ খেতে হয়?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×