সে প্রায় অনেকদিন আগের কথা। ঢাকা যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে। জানালার পাশে বসে আছি। দেখি একটা পিচ্চি ছেলে আমার দিকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে আসছে। ছেলেটার একটা পা খোড়া ছিল। হাতে একটা লাঠি ছিল। সেটার ওপর ভর দিয়েই ছেলেটা খুব কষ্ট করে হাটছে। আমার দেখে খুব মায়া হল। এত পিচ্চি একটা ছেলে অথচ ভাল করে হাটতে পারছে না। আমার কাছে এসে বললো,
'ভাইজান দুইডা ট্যাকা দিবেন? দুইদিন ধইরা কিসু খাইনাই!'
'তোমার এই অবস্থা কি করে হল?'
'আর কইয়েন না ভাই। একটা গাড়ি আমারে মাইরা দিসিলো। তারপর থেইকা এই অবস্তা।'
'ডাক্তার দেখাওনি?'
'ঠিক মতন খাইতেই পারি না আবার ডাক্তার! কি আর করুম ভাই সারা জীবন এমনেই কাটাইতে হইবো। আর মনে হয় ভালা হমুনা।'
'ও কথা বলো না। আল্লাহ তোমার পা আবার ভাল করে দেবেন। শুধু বিশ্বাস রাখো। ওহো ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে গেছে। আচ্ছা এই নাও এটা রাখো।'
'ভাংতি নাইতো ভাই!'
'ভাংতি লাগবে না। পুরোটাই তুমি রাখো।
'আফনে খুব ভালা ভাই। আমার লাইগা দোয়া কইরেন।'
'অবশ্যই। আর এভাবে বেশীক্ষন হেট না।'
ট্রেন আস্তে আস্তে চলতে শুরু করলো। আমি ছেলেটার দিকে এখনো তাকিয়ে আছি। ছেলেটাও আমার দিকে খানিকটা তাকিয়ে আছে। আমি ভাবছি আহা এই বয়সে ছেলেটাকে কত কষ্ট করতে হচ্ছে! কত মেহনত করতে হচ্ছে। হয় তো সারাটা জীবন ওকে এভাবেই চলতে হবে। ভাবতেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ট্রেনের স্পীড বাড়তে লাগলো। আমি এখনো ছেলেটাকে দেখছি। ছেলেটাও আমাকে দেখছে। তখনি হারামজাদা করলো কি ওর হাতের লাঠিটা কাধের ওপর নিয়ে ঢ্যাং ঢ্যাং করে হাটতে লাগলো আর আমাকে ভেংচি কেটে বুড়ো আংগুল দেখাতে লাগলো। আর আমি? আমি তো তখন পুরাই..........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






