আশিকুজ্জামান টুলুর এ-গানটি ভাল লাগে । বেশ ভাল লাগে । কোন কোন নিঃসঙ্গ মুহূর্তে ডুবে গিয়ে,আপন মনে শুনতে থাকি এ-গান,নিজের সাথে মিলে যায় বলেই । এ-গানে আমার-আমাদের কথা বলা হয়েছে । আমিও আজ আমাদের কথা বলার খানিকটা তাগিদ অনুভব করছি ।
এখানে ব্যস্ত সবাই । নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত । কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই কারোর । যার আকার নেই,বেকার-তারও ব্যস্ততার কমতি নেই । নিজেকে আকার দানের জন্যই তার দৌঁড়-ঝাপ । জুতার সুখতলি ক্ষয় করা । ওহ্ হ্যাঁ, এখানেও সুখতলি ক্ষয় হয় । এটা অনেকেরই অজানা । পর্দার আড়ালের বিষয় । পর্দার আড়ালের এমন অনেক বিষয় আছে যা আমাদের (প্রবাসীদের) আত্মীয়-স্বজনরা জানেন না । জানানো হয়না । তো ব্যস্ততায় আমাদের দিনগুলো কাটে ঠিকই,শুধু রক্ত বেরুয় না ! একেবারে সাদামাটা কাটা আর কি !
মাস কয় আগের কথা । ব্যস্ততার মাঝেই হঠাত্ত পেয়ে গেলাম অখন্ড অবসর । অফুরন্ত সময় পেলাম হাতে । পথে-পথে হাঁটি । পর্যটকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে চোখের সামনে দিয়ে চলে যাওয়া দৃশ্যগুলো থেকে জীবনের স্মৃতিরভান্ডারে কিছু তুলে রাখতে চাই । দেখা থেকে শিখতে চাই কিছু । কখনও সখনও পেয়েও যায় আলোড়িত দৃশ্যপট ।
জোহরের নামাজ পড়তে বেরিয়েছি একদিন । দেখলাম রাস্তা (গলি পথ)'র পাশে ট্রেলার দাঁড় করিয়ে ট্রেলার চালক বাংলাদেশী এক ভাই স্টোভে রান্না করছেন । দরদর করে ঘাম ঝরছে গা থেকে । তার দিকে তাকানো যাচ্ছেনা । ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করলে যা হবার তাই । একবার শুধু ভাবলাম,এ রোদে যারা কন্সট্রাকশন কাজ করে কিংবা নিতান্ত বাধ্য হয়ে মরুভূমিতে পড়ে আছে যারা, তাদের অবস্থা কি এখন ? আর এই ট্রেলার চালকদের অবস্থাতো কহতব্য নয় । এদের নির্দিষ্ট কোন থাকার জায়গা নেই । ট্রেলারই এদের ঘর-সংসার । চলতে চলতে যেখানে রাত-সেখানেই কাত্ ! হায়..লাখ কতেক টাকার বিনিময়ে কেনা এ জীবন !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






