somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল মনি
ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

জীবন

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অলস দুপুর কাটিয়ে পড়ন্ত বিকালে এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় বসে আছে অর্চি।ঝকঝকে সাদা মেঘে আর নীলের হাতছানি।বাসার সামনে বিদ্যুতের খুঁটি;সেখানে ঝুলে থাকা তারে বসে আছে কয়েকটা শালিক।ওদের কাকলীতে মুখর বিকেল।জীবনের অনাবিল সৌন্দর্য যেন লুকিয়ে আছে প্রতিটি পরতে পরতে;শুধু অনুভব আর বিশ্বাসে মেলায় তা।

এমন বিকালে হঠাৎ কলিংবেলটা বেজে ওঠে।
দরজা খুলে অর্চি দেখে তিন তলার ভাবী এসেছেন।
অর্চি কিছু বলার আগেই ভাবী বলছেন,"আমাকে চিনতে পারছেন তো?আমি স্বপ্নীলের আম্মা।ওই যে গতদিন সিঁড়িতে পরিচয় হল।"

অর্চি বলছে হ্যাঁ ভাবী আপনাকে চিনতে পেরেছি।
-"ওহ চিনতে পেরেছেন? ভাবী কিছু মনে করবেন না আপনি কি আমাকে কিছু টাকা ধার দিতে পারবেন?আমার ভীষণ দরকার।কাল সন্ধ্যায় দিয়ে দেব।"

-‎অর্চি মুখ গম্ভীর করে বলছে কত টাকা ভাবী?পরিচয় হতে না হতে টাকা চেয়ে বসেছে বিষয়টা অর্চির মোটেও ভালো লাগেনি।
-‎"একশত টাকা। একশত টাকা দিলেই হবে।"
অর্চি ভীষণ অবাক হয়।একশত টাকা কোন টাকা!প্রতিদিন কোন না ভাবে কতটাকা কতদিকে খরচ হয়ে যায়।আর কেউ একশো টাকা কারো কাছে ধার চায়ছে।

অর্চি টাকাটা এনে দেয়।স্বপ্নীলের বাবা একজন কলেজের অধ্যক্ষ।তার স্ত্রীকে একশো টাকা ধার চাইতে হয় ব্যাপারটা কেমন যেন!
এরপর দিন ঠিক সন্ধ্যাবেলায় স্বপ্নীলের মা টাকাটা দিয়ে যায়।

কয়েকদিন পর অর্চি কলেজ থেকে ক্লাস নিয়ে ফেরার পথে দেখে স্বপ্নীলের মা আর স্বপ্নীল হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছে।স্বপ্নীলের মায়ের হাতে বড় বাজারের একটা ব্যাগ।

একদিন দেখে পাশের বাসায় জারিফের আম্মুর সাথে কথা বলছে।পরে জারিফের আম্মু বলল অর্চিকে যে স্বপ্নীলের মা টাকা চাইতে এসেছিলেন।
এরপর প্রায় স্বপ্নীলের মা অর্চির কাছে আসেন।এসেই বলেন "ভাবী একশো টাকা লাগত যে।দিতে পারবেন? আপনার অসুবিধা হবে না তো?" এরপর একদিন সন্ধ্যা বেলায় স্বপ্নীলের মা বললেন আজকে একটু বেশি টাকা লাগবে।এক হাজার টাকা দিবেন?অর্চির এই টাকা দেয়া নেয়াটা ভালো লাগে না।কারণ টাকা সম্পর্কে ফাটল ধরায়।আর ধার দিলে বেশিরভাগ মানুষ ফেরত দিতে চাই না।
অর্চির কাছে এক হাজার টাকা ছিল তবুও ভরসা পেল না তাই তাকে পাচঁশ টাকা দিল।দুদিন পরেই টাকাটা দিয়ে গেল।যদিও কথা ছিল একদিন পরে দিবে।
টাকাটা ফেরত দেওয়ার দিন স্বপ্নীলের মা ঘরে বসল।
অন্যদিন টাকা দরজার মুখ থেকেই দিয়ে চলে যায়।বসে না।
-"বলে অনেক কাজ।আমার কোন কাজের সাহায্যকারী নেই।বুয়ারা কাজে ফাঁকি দেয়।তাই ঘরের কাজ আমিই করি।"

উনাকে ঘরে বসতে দিয়ে রান্নাঘরে এলাম।আজ বাচ্চাদের জন্য চিকেন ফ্রাই আর নুডুলস করেছি।উনাকে খাবার গুলো দিলাম।এরপর উনি খাওয়া শুরু করলাম।
"এইটার নাম কী ভাবি? খেতে স্বাদ হয়েছে খুব।ঘরেই বানালেন?বুঝলেন ভাবী আমি হলাম ভীষণ ভালো মা।অন্য মা'দের মত না।আমি কিছু খেলে বাচ্চাকে না দিয়ে খাই না।কেউ কিছু খেতে দিলে আমি নিয়ে যাই।"

অর্চি কিছুটা অবাক হল তার কথা শুনে।এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী যে বলতে হয়!অর্চি বলল 'আপনি তাহলে ভালো মা।'

"উনি বলছেন শুধু ভালো মা না অনেক ভালো মা।উনি চিকেন ফ্রাই হাতের মুঠোয় নিয়ে বলছে ভাবী এই গুলো স্বপ্নীলের জন্য নিয়ে যায়, ও খাবে।"
অর্চি বলল পিরিচে করে দেই,উনি অসম্মতি জানালেন।আমি টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়ে দিলাম।
উনি টাকাটা দিয়ে চলে গেলেন।

এই ঘটনার বেশ অনেক দিন পর সিঁড়িতে উনার সাথে দেখা।বলছে বাসার ভাড়া বেড়েছে তাই অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া করবে।হঠাৎ পাচঁশো টাকা আবার চেয়ে বসল।
আমিও দিয়ে দিলাম।কারণ উনি তো ফেরত দিয়ে যান। হয়ত কখনো কখনো একটু একটু দেরি হয়।
মেয়ের স্কুল ছুটি।হঠাৎ করে আমি বাড়িতে চলে যায়।কয়েকদিন পর যখন ফিরি তখন এসে শুনি তিনতলার ভাবী চলে গেছেন।

অর্চির এই প্রথম একটু খারাপ লাগে উনি চলে গেছেন শুনে।টাকাটা তো একতলায় রেখে যেতে পারত!অর্চি ভাবে যা গেছে তা গেছে,ও নিয়ে মন খারাপ করতে নেই।সামান্য কিছু টাকা।ফী সাবিলিল্লাহ।
অনেকদিন চলে যায়।এক বিকালে অর্চির ঘুম পাই।এমন বিকালে কেউ একজন কলিং বেল চেপে নক করে।অর্চি উঠে গিয়ে দেখে আর কেউ নয়;সেই তিনতলার ভাবী।
'ভাবী কিছু মনে নিয়েন না , টাকাটা দিতে দেরি হল!আপনার টাকা দিতে বাসা থেকে আসলাম এখন।'
অর্চি অবাক হয়ে তাকিয়ে ভাবল মনের মাঝে কারো সম্পর্কে কু-ধারণা এলেও সেই ধারণার প্রশয় দিতে নেই।

রুবাইদা গুলশান
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৫০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×