জরায়ুতে স্পার্মের আগমনের পরপরই জাইগোট গঠনের এক প্রতিযোগিতা লেগে যায়। কোটি কোটি শুক্রানু আর ডিমানুর মধ্যে এই প্রতিযোগিতা চলে। সফলভাবে জাইগোট তৈরি হলে বাকী শুক্রানু/ডিমানু মারা যায়। এই ক্ষেত্রে যে কয়টা জাইগোট তৈরি হবে সেই কয়টা বাচ্চা হবে। (আমি জীববিজ্ঞানের ছাত্র নই, ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী)। তৈরি হয়ে গেল ভ্রুণ এবং এখান থেকে লিঙ্গ বৈষম্যের শুরু।
১। ভ্রুণ হত্যাঃ এই বৈষম্যটা করে থাকে খোদ বাবা-মা। তারা মনে করে, ছেলে সন্তান সংসারের দায়িত্ব নেবে, আয়-রোজগারে সহযোগিতা করবে। ছেলে সন্তানকে প্রেফারেন্স দেয়া হয়। প্রযুক্তির উন্নয়নে সন্তান জন্ম নেয়ার আগেই জানা সম্ভব যে, অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে। আর জেনে যাওয়ার কারণে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মেয়ে-ভ্রুণটাকে মেরে ফেলা হয়। কিছুদিন আগে একটা খবরে পড়লাম, "ভারতে মেয়ে-ভ্রুণ হত্যা করা হয়েছে এক কোটি।"
গরীব বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা এই জাতীয় কাজ করে থাকতে পারে। আমার ধারণা, ধনিক শ্রেণীর মাঝে এই বৈষম্য দেখা যায় না।
২। জীবন্ত কবরঃ আগে যেহেতু জানা যেত না সন্তান ছেলে না মেয়ে হচ্ছে তাই জন্মের পর মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হত। ইসলামপূর্ব আরব সমাজে এই রীতি প্রচলিত ছিল এবং মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়াকে বেশ উদারতার প্রতীক হিসেবেই দেখা হত। অবশ্য, ইসলামধর্ম আসার পর এই রীতি বন্ধ হয়।
বাবা-মা দায়ী। মা অবশ্য এক্ষেত্রে নিভৃতে কাঁদেন।
৩। শিশু কালে বৈষম্যঃ এটাও বাবা-মাই করে থাকে। ভাল/দামী কাপড়-চোপড়, খাবার-দাবার দেয়ার ক্ষেত্রে ছেলেকেই প্রেফারেন্স দেয়া হয়। বলা হয়, "ভাইয়া খাক"। মেয়েরা একটু বেশি সহনশীল হয় এবং খুব সহজেই ছাড় দেয়।
মোটামুটি দরিদ্র/অশিক্ষিত/ভদ্র/শিক্ষিত ফ্যামিলিতে এই সমস্যা দেখা যায়।
৪। কৈশরে বৈষম্যঃ এখানেও বাবা-মা দায়ী। লেখা-পড়া করানোর সামর্থ না থাকলে মেয়ের পড়া-লেখা বাদ দিয়ে ছেলেটাকেই পড়া-লেখা চালিয়ে যাবার সুযোগ দেয়া হয়, হাজার কষ্ট হলেও। মেয়েটার পড়া-লেখা বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়।
দরিদ্র/অশিক্ষিত শ্রেণীতে এটা দেখা যায়।
৫। স্কুল/সমাজে নিরাপত্তাহীনতাঃ পারিপার্সিক পরিবেশ দায়ী। কোন চিপা-চাপায় পেলে কাজিন বা বন্ধুদের কেউ হাত চালিয়ে দিতে পারে। এমনকি বাড়ীর কাজের লোকও সুযোগ নিতে পারে। ঘুমের মধ্যেও তারা নিরাপদ নয়, যে কেউ যখন তখন আক্রমন চালাতে পারে।
ধনী/দরিদ্র বা কোন শ্রেণী দায়ী নয়, পুরা সমাজই দায়ী।
৬। বিয়ের পরে বৈষম্যঃ এই ক্ষেত্রে স্বামী বা শশুরবাড়ীর লোকজন দায়ী। অবশ্য এটাকে বৈষম্য বলা যায় না, এটা হচ্ছে নির্যাতন। যৌতুকের দাবীতে অনেক মেয়েকেই মার খেতে হয়, শশুরবাড়ী থেকে টাকা এনে না দিলে না রকম নির্যাতন এমনকি খুন পর্যন্ত হতে হয়। এই পোস্টটা যখন লিখছিলাম তখনই ইত্তেফাকে দেখলাম "ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ খুন"।
আর আগাইতে পারছি না, চিন্তা করলেই দম আটকে আসছে। এত্ত বৈষম্য আর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে একজন মানুষ বেড়ে উঠে কিভাবে!!!
ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১১ ভোর ৪:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


