
ঢাকায় মেট্রো রেল চালু হবার পর আমি নিয়মিত যাওয়া আসা করছি। গত দুদিনে কাজের প্রয়োজনে আমাকে প্রায় ৭ থেকে ৮ বার মেট্রোতে উঠতে হয়েছে। ইদানীং এমন হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। আমি ঢাকায় মেট্রোতে উঠার আগে কোলকাতার মেট্রো, তার আগে কুয়ালালামপুর ও জাপানের টোকিওতে মেট্রোতে ভ্রমণ করেছি। সেসবের আলোকে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ।
মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত চলাচল শুরুর পর মেট্রোতে এখন প্রায় সারাদিনই খুব ভিড় থাকে, তাই ঘুরাঘুরি আড্ডা আর ছবি তোলার জন্য এখন আর মেট্রো তেমন আনন্দদায়ক নয়, বলা যায় মেট্রো এখন পুরো দমে নগরবাসীর প্রয়োজনে ছুটছে। তাই মেট্রোতে চলাচলে কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা খুব দরকারি।
১- ট্রেনে উঠার জন্য নির্ধারিত এরিয়ার দুপাশে দাঁড়ান। ট্রেন থামলে দুই পাশ থেকে উঠুন। মধ্যের জায়গাটি রাখুন ট্রেন থেকে নেমে যাবেন যারা তাদের জন্য।
২- তেমনি যারা নামবেন তারা মধ্যের পথ দিয়ে দ্রুত নামুন, স্টেশন-ভেদে মেট্রোর স্টপেজ টাইম ৭ থেকে ১৮ সেকেন্ড মাত্র। এর মাঝেই উঠা ও নামা পর্ব শেষ করতে হবে।
৩- আপনার অবস্থান যদি ট্রেনের কামরার ভেতরে হয় তবে নামার সময় মাইকের ঘোষণা শুনে আপনার স্টপেজ আসার আগে ধীরে ধীরে দরজার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করুন। এতে করে ট্রেন থামা মাত্রই আপনি নেমে যেতে পারবেন।
৪- কোন দিকে যাবেন (মতিঝিল নাকি উত্তরা?) তা টিকেট/পাস দিয়ে পাঞ্চ করে প্রবেশের পরেই দেখবেন লেখা থাকে, সেটা খেয়াল করে আপনার গন্তব্য অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মে যান নাহলে ভুলে মতিঝিলের জায়গায় উত্তরা চলে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে কিন্তু।
৫- ফোনে কথা বলা পরিহার করুন। আপনার উচ্চ স্বরের আলাপ অন্য সহযাত্রীর জন্য বিরক্তিকর। খুব প্রয়োজন হলে সেটা ভিন্ন বিষয়।
৬- বসে থাকলে পাশের যাত্রীর দিকে খেয়াল রাখুন, আপনার জন্য যাতে তার কোন সমস্যা না হয় তার দিকে দৃষ্টি রাখুন। ক’জন বসেছেন – সেখানে আর কেউ বসতে পারবে কীনা একটু সরে বসা যায় কীনা ইত্যাদি ছোট ছোট বিষয়গুলো অন্যের স্বস্তির কারণ হতে পারে।
৭- মেট্রোর স্টপেজ অনেক স্টেশনে, ১৬টি। তাই ট্রেনে ভিড় থাকুক আর খালি থাকুক, দয়া করে কেউ উঠেই দরজার সাম নে গাঁট হয়ে দাঁড়াবেন না, এতে করে প্রতিটি স্টেশনে উঠা ও নামার সময় সবার সমস্যা হয়। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন এতে করে আর কারো কোন সমস্যা হচ্ছে কীনা তা খেয়াল করুন।
৮- মেট্রোতে অনেককেই দাঁড়িয়ে যেতে হবে-আসতে হবে। তাই হাত উঁচিয়ে আপনি যে রিং ধরে আছেন তাতে করে আপনার কাপড় চোপড় ঠিকঠাক আছে কীনা তাও দেখুন, নাহলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, সামলে থাকুন।
৯- থুতু, পানের পিক কাশি কফ ইত্যাদি ভুলেও ফেলবেন না। চিপস টাইপের কিছু খাবেন না। ট্রেনে ও স্টেশনে খাবার নেয়া ও খাওয়া নিষেধ।
১০- দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়াবেন না।
১১- তাড়াহুড়ো করে দৌঁড়ে ট্রেনে উঠবেন না এবং নামবেন না, এতে বিপদ হতে পারে।
আপাতত এই পর্যন্ত। ভালো থাকুন। সুন্দর থাকুন সবাই।
পোস্টের ছবিগুলি সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন থেকে নেয়া।
.
নীলসাধু

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


